১২:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

জেড ক্যাটাগরির ৩ কোম্পানির লেনদেনে রহস্য: অনুসন্ধানে নামছে ডিএসই

প্রধান শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এবং বর্তমানে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে থাকা আর্থিকভাবে দুর্বল ৩টি কোম্পানির ওপর অনুসন্ধানমূলক বিশেষ পরিদর্শন শুরু করতে যাচ্ছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা, রহস্যজনক শেয়ার লেনদেন এবং সার্বিক কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে ডিএসআই-কে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নিচে পরিদর্শনের আওতায় থাকা কোম্পানিগুলোর অনিয়ম ও তদন্তের মূল ক্ষেত্রগুলোর বিস্তারিত বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  এক্সলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অ্যাকটিভ ফাইন কেমিক্যালস টানা তিন বছর ধরে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ (ডিভিডেন্ড) দেয়নি। এছাড়া বিএসইসির স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও এই কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে সম্মিলিতভাবে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার নেই।

চরম আর্থিক দুর্বলতা এবং ব্যবসায়িক মন্দা থাকা সত্ত্বেও চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে কোম্পানিটির শেয়ারদর অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে দেখা গেছে, যা বড় ধরণের কারসাজির ইঙ্গিত দেয়।

অন্যদিকে, এএফসি অ্যাগ্রো বায়োটেকও টানা তিন বছর ধরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ না দিয়ে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে পড়ে রয়েছে। অ্যাকটিভ ফাইনের মতোই এই কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছেও আইন অনুযায়ী ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার নেই।

ব্যবসায়িক কোনো সুসংবাদ বা উন্নতি ছাড়াই বছরের প্রথম তিন মাসে কোম্পানিটির শেয়ারদরে বড় ধরণের উত্থান বা অস্বাভাবিক গতিবিধি লক্ষ্য করা গেছে, যা খতিয়ে দেখবে ডিএসই।

এছাড়াও, লিব্রা ইনফিউশন গত চার বছর ধরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি। তবে অন্য দুটি কোম্পানির তুলনায় এদের পার্থক্য হলো— কোম্পানিটির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে সম্মিলিতভাবে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

গত চার বছর ধরে লভ্যাংশহীন দশা এবং আর্থিক অবনতি হওয়া সত্ত্বেও, রহস্যজনকভাবে গত মাত্র এক মাসে কোম্পানিটির শেয়ারদর ধারাবাহিকভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে।

কোম্পানিগুলোর প্রকৃত আর্থিক অবস্থার অবনতির কারণ এবং তাদের বর্তমান উৎপাদন ও পরিচালন কার্যক্রম আদৌ সচল আছে কিনা তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখা হবে।

ব্যবসায়িক কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরের এই আকস্মিক বৃদ্ধির পেছনে কোনো ইনসাইডার ট্রেডিং বা কৃত্রিম কারসাজি রয়েছে কিনা তা গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হবে।

উল্লেখ্য, ডিএসইর ধারাবাহিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই কমিশন এই অনুসন্ধানমূলক পরিদর্শনের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। পুঁজিবাজারে সুশাসন নিশ্চিত করতে এবং দুর্বল কোম্পানির শেয়ার নিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যাতে কোনো ফাঁদে না পড়েন, তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিমান ও পর্যটন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী আমিরাত

জেড ক্যাটাগরির ৩ কোম্পানির লেনদেনে রহস্য: অনুসন্ধানে নামছে ডিএসই

প্রকাশিত : ১১:০৮:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

প্রধান শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এবং বর্তমানে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে থাকা আর্থিকভাবে দুর্বল ৩টি কোম্পানির ওপর অনুসন্ধানমূলক বিশেষ পরিদর্শন শুরু করতে যাচ্ছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা, রহস্যজনক শেয়ার লেনদেন এবং সার্বিক কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে ডিএসআই-কে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নিচে পরিদর্শনের আওতায় থাকা কোম্পানিগুলোর অনিয়ম ও তদন্তের মূল ক্ষেত্রগুলোর বিস্তারিত বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  এক্সলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অ্যাকটিভ ফাইন কেমিক্যালস টানা তিন বছর ধরে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ (ডিভিডেন্ড) দেয়নি। এছাড়া বিএসইসির স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও এই কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে সম্মিলিতভাবে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার নেই।

চরম আর্থিক দুর্বলতা এবং ব্যবসায়িক মন্দা থাকা সত্ত্বেও চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে কোম্পানিটির শেয়ারদর অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে দেখা গেছে, যা বড় ধরণের কারসাজির ইঙ্গিত দেয়।

অন্যদিকে, এএফসি অ্যাগ্রো বায়োটেকও টানা তিন বছর ধরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ না দিয়ে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে পড়ে রয়েছে। অ্যাকটিভ ফাইনের মতোই এই কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছেও আইন অনুযায়ী ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার নেই।

ব্যবসায়িক কোনো সুসংবাদ বা উন্নতি ছাড়াই বছরের প্রথম তিন মাসে কোম্পানিটির শেয়ারদরে বড় ধরণের উত্থান বা অস্বাভাবিক গতিবিধি লক্ষ্য করা গেছে, যা খতিয়ে দেখবে ডিএসই।

এছাড়াও, লিব্রা ইনফিউশন গত চার বছর ধরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি। তবে অন্য দুটি কোম্পানির তুলনায় এদের পার্থক্য হলো— কোম্পানিটির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে সম্মিলিতভাবে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

গত চার বছর ধরে লভ্যাংশহীন দশা এবং আর্থিক অবনতি হওয়া সত্ত্বেও, রহস্যজনকভাবে গত মাত্র এক মাসে কোম্পানিটির শেয়ারদর ধারাবাহিকভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে।

কোম্পানিগুলোর প্রকৃত আর্থিক অবস্থার অবনতির কারণ এবং তাদের বর্তমান উৎপাদন ও পরিচালন কার্যক্রম আদৌ সচল আছে কিনা তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখা হবে।

ব্যবসায়িক কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরের এই আকস্মিক বৃদ্ধির পেছনে কোনো ইনসাইডার ট্রেডিং বা কৃত্রিম কারসাজি রয়েছে কিনা তা গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হবে।

উল্লেখ্য, ডিএসইর ধারাবাহিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই কমিশন এই অনুসন্ধানমূলক পরিদর্শনের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। পুঁজিবাজারে সুশাসন নিশ্চিত করতে এবং দুর্বল কোম্পানির শেয়ার নিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যাতে কোনো ফাঁদে না পড়েন, তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।