০৭:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

কিউবাকে দখলে নেওয়ার হুমকি ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতি শেষ হওয়ার মধ্যেই কিউবাকে যেকোনো সময় দখলে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১ মে) ফ্লোরিডায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান থেকে ফেরার পথে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল একটি বিমানবাহী রণতরি কিউবা উপকূলে মোতায়েন করা হবে যাতে দ্বীপরাষ্ট্রটি নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়।

আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প কিউবার বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘সমস্যাসংকুল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমেই দেশটিকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হবে। ট্রাম্পের এই বিতর্কিত মন্তব্য উত্তর আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার বক্তব্যে বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘ইরান থেকে ফেরার পথে আমরা আমাদের বড় একটি জাহাজ কিউবার মাত্র ১০০ গজ দূরে মোতায়েন করব। এটি দেখা মাত্রই তারা বলবে—অনেক ধন্যবাদ, আমরা আত্মসমর্পণ করছি।’

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ট্রাম্পের মতে, সামরিক বাহিনীর এই সামান্য উপস্থিতিতেই কিউবা আত্মসমর্পণ করবে কারণ তিনি ‘যেকোনো কাজ শেষ করতে পছন্দ করেন’। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান সফল হওয়ার পর তার প্রশাসনের পরবর্তী লক্ষ্য হবে কিউবা।

একই দিনে ট্রাম্প কিউবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা এবং পররাষ্ট্রনীতির ওপর কিউবা হুমকি সৃষ্টি করছে—এমন কারণ দেখিয়ে এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

ট্রাম্প বারবার পুনর্ব্যক্ত করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক অভিযান শেষে কিউবা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের তালিকার ‘পরবর্তী’ দেশ এবং এই ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্রটির পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। ওয়াশিংটনের এই আগ্রাসী অবস্থান দীর্ঘদিনের মার্কিন-কিউবা শীতল সম্পর্ককে সরাসরি সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য একদিকে যেমন তার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমর্থন বৃদ্ধির কৌশল হতে পারে, অন্যদিকে এটি আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি বড় ধরনের অবজ্ঞারও শামিল। কিউবা ইস্যুতে ট্রাম্পের এই আকস্মিক ও কঠোর অবস্থান লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

ইরানের যুদ্ধ যখন বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তাকে টালমাটাল করে তুলেছে, তখন কিউবা নিয়ে নতুন এই হুমকি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলবে। এখন দেখার বিষয় হলো, ট্রাম্পের এই ঘোষণা কেবল রাজনৈতিক হুঙ্কার নাকি সত্যিই যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো ফ্রন্টে সামরিক অভিযানে নামতে যাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কিউবাকে দখলে নেওয়ার হুমকি ডোনাল্ড ট্রাম্প

প্রকাশিত : ১১:৩৭:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতি শেষ হওয়ার মধ্যেই কিউবাকে যেকোনো সময় দখলে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১ মে) ফ্লোরিডায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান থেকে ফেরার পথে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল একটি বিমানবাহী রণতরি কিউবা উপকূলে মোতায়েন করা হবে যাতে দ্বীপরাষ্ট্রটি নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়।

আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প কিউবার বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘সমস্যাসংকুল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমেই দেশটিকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হবে। ট্রাম্পের এই বিতর্কিত মন্তব্য উত্তর আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার বক্তব্যে বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘ইরান থেকে ফেরার পথে আমরা আমাদের বড় একটি জাহাজ কিউবার মাত্র ১০০ গজ দূরে মোতায়েন করব। এটি দেখা মাত্রই তারা বলবে—অনেক ধন্যবাদ, আমরা আত্মসমর্পণ করছি।’

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ট্রাম্পের মতে, সামরিক বাহিনীর এই সামান্য উপস্থিতিতেই কিউবা আত্মসমর্পণ করবে কারণ তিনি ‘যেকোনো কাজ শেষ করতে পছন্দ করেন’। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান সফল হওয়ার পর তার প্রশাসনের পরবর্তী লক্ষ্য হবে কিউবা।

একই দিনে ট্রাম্প কিউবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা এবং পররাষ্ট্রনীতির ওপর কিউবা হুমকি সৃষ্টি করছে—এমন কারণ দেখিয়ে এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

ট্রাম্প বারবার পুনর্ব্যক্ত করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক অভিযান শেষে কিউবা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের তালিকার ‘পরবর্তী’ দেশ এবং এই ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্রটির পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। ওয়াশিংটনের এই আগ্রাসী অবস্থান দীর্ঘদিনের মার্কিন-কিউবা শীতল সম্পর্ককে সরাসরি সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য একদিকে যেমন তার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমর্থন বৃদ্ধির কৌশল হতে পারে, অন্যদিকে এটি আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি বড় ধরনের অবজ্ঞারও শামিল। কিউবা ইস্যুতে ট্রাম্পের এই আকস্মিক ও কঠোর অবস্থান লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

ইরানের যুদ্ধ যখন বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তাকে টালমাটাল করে তুলেছে, তখন কিউবা নিয়ে নতুন এই হুমকি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলবে। এখন দেখার বিষয় হলো, ট্রাম্পের এই ঘোষণা কেবল রাজনৈতিক হুঙ্কার নাকি সত্যিই যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো ফ্রন্টে সামরিক অভিযানে নামতে যাচ্ছে।