সৌদি আরবে হুথি গোষ্ঠীর ধারাবাহিক হামলার প্রভাবে ব্যাহত হচ্ছে ঢাকা থেকে সৌদিগামী ফ্লাইট চলাচল। নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে গত পাঁচ দিনে ঢাকা থেকে সৌদিগামী অন্তত ১০০টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। এতে প্রায় ১৫ হাজার ৩৯৩ জন যাত্রী অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তিতে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি সংকটে রয়েছেন যেসব প্রবাসী কর্মীর ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত শনিবার থেকে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বাতিল বা স্থগিত হওয়া ফ্লাইটের মধ্যে ৪১টি সরাসরি এবং ৫৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট। বেবিচকের মুখপাত্র কাওছার মাহমুদ জানান, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ফ্লাইট বাতিলের এ প্রবণতা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, বাতিল হওয়া ৪১টি সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজ ও সৌদিয়ার সাতটি করে ফ্লাইট রয়েছে।
এ ছাড়া ৫৯টি ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজ ও সালামএয়ারের সাতটি করে, ফ্লাইদুবাইয়ের ছয়টি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এসব ফ্লাইটের যাত্রীদের দুবাই, দোহাসহ বিভিন্ন গন্তব্য হয়ে সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মামে যাওয়ার কথা ছিল।
বর্তমানে সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দর বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে, দাম্মামের কিং ফাহাদ বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ ও দাম্মামগামী সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে। তবে জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল তুলনামূলক স্বাভাবিক রয়েছে।
যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে সরকারি নির্দেশনায় এয়ারলাইনসগুলো রিয়াদ ও দাম্মামগামী যাত্রীদের টিকিট পরিবর্তন করে বিকল্প হিসেবে জেদ্দা ও মদিনায় পৌঁছানোর ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছে। তবে ফ্লাইটের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং আগে থেকে বুকিং হয়ে থাকায় আসনসংকট তীব্র হয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, যেসব প্রবাসীর ভিসার মেয়াদ শেষের দিকে, টিকিট পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আসনসংকটের কারণে টিকিট পরিবর্তনের পরও অনেক যাত্রী দ্রুত ফ্লাইটে উঠতে পারছেন না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আসন না থাকায় ওভারবুকিংয়ের কারণে ইমিগ্রেশন শেষ করার পরও যাত্রীদের ফিরে আসতে হচ্ছে।
এ অবস্থায় কর্মস্থলে ফেরার সময়সীমা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বহু প্রবাসী। তাঁদের যাত্রা নিশ্চিত করতে বিকল্প রুট চালু এবং দ্রুত কার্যকর সমাধানের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
অনলাইন ডেস্ক 























