০৯:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

আধুনিক ‘বাল’ দেবতার উপাসক ইসরাইল: শিশুদের রক্ত নিয়ে পৈশাচিক উৎসবের পর্দা ফাঁস

  • ইয়াসিন
  • প্রকাশিত : ১২:২০:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
  • 442

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আগুন এখন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ আগ্রাসন ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র জবাবে ইরান আজ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা অন্তত ৬ মাস টানা তীব্র যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে। তেহরানের এই অনড় অবস্থান প্রমাণ করে যে, সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো ইরানকে যতটা দুর্বল ভেবেছিল, বাস্তবতা তার ঠিক উল্টো।

ইসরায়েল ও আমেরিকা শুরুতেই কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়ে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। কিন্তু তেহরান দমে যাওয়ার পাত্র নয়। পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান শত শত ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং হাজার হাজার ড্রোন ছুড়েছে যা ইহুদিবাদী ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লণ্ডভণ্ড করে দিচ্ছে। আজ সকালেও কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সৌদি আরবের রিয়াদে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট এলাকায় নিখুঁত ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এটি কেবল শুরু মাত্র।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র আলি মোহাম্মদ নাইনি হুংকার দিয়ে বলেছেন, বর্তমান গতিতে যুদ্ধ চললে অন্তত আগামী ৬ মাস তাদের সামরিক শক্তিতে কোনো টান পড়বে না। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একের পর এক উসকানিমূলক কথা বলে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু পরাজয়ের ভয়ে এখন লিবিয়া এবং সিরিয়ায় হামলা বাড়িয়ে দিয়ে যুদ্ধের পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু ইরানের কৌশলগত ধৈর্য এবং দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের প্রস্তুতি তাদের সেই নীল নকশাকে ব্যর্থ করে দিচ্ছে।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, আমেরিকা ও ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যে তাদের আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে শেষ চেষ্টা করছে। কিন্তু ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক প্রতিরোধ বাহিনীগুলো (Axis of Resistance) যেভাবে সম্মিলিত পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে, তাতে পশ্চিমা শক্তিগুলোর পিছু হটা এখন সময়ের ব্যাপার। ইরানের তেল স্থাপনা বা বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে তেহরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা অসম্ভব। বরং এই যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এখন ইরানের কবজায়, যারা বিদেশি হস্তক্ষেপ রুখে দিয়ে এই অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর।

হুদিদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ তাওরাতের প্রাচীন তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা এবং বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা এখন একই বিন্দুতে এসে মিলেছে। বিশ্লেষকরা দাবি করছেন, বর্তমান ইসরায়েল রাষ্ট্রটি তার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ সংকটে পড়েছে এবং তাওরাতের আধ্যাত্মিক সতর্কবাণী অনুযায়ী তাদের ‘পতন’ এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

তাওরাতের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বনী ইসরায়েলের জন্য পবিত্র ভূমিতে বসবাস করার শর্ত ছিল সর্বোচ্চ পর্যায়ের পবিত্রতা এবং স্রষ্টার বিধানের প্রতি আনুগত্য। কিন্তু বর্তমান জায়নবাদী রাষ্ট্রটি সেই আধ্যাত্মিক শর্ত ভঙ্গ করে চরম ঔদ্ধত্য এবং রক্তপাতে লিপ্ত হয়েছে। তাওরাতের সতর্কবাণী অনুসারে, যখনই তারা এই ভূমিতে সীমালঙ্ঘন করবে, তখনই তাদের সেখান থেকে বহিষ্কৃত হতে হবে। কট্টর ইহুদি গোষ্ঠী ‘নেতুরে কার্তা’ (Neturei Karta) দীর্ঘকাল ধরে প্রচার করে আসছে যে, স্রষ্টার হুকুম ছাড়া জোরপূর্বক রাষ্ট্র গঠন তাওরাতের দৃষ্টিতে একটি মহাপাপ, যার শাস্তি হিসেবে এই রাষ্ট্রের ধ্বংস অনিবার্য।

বর্তমানের ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধকে অনেকে তাওরাতে বর্ণিত ‘গগ এবং মাগগ’ (Gog and Magog) যুদ্ধের সাথে তুলনা করছেন। ধর্মতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, পারস্য বা বর্তমান ইরানকে এই মহাযুদ্ধের প্রধান শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা ইসরায়েলের ওপর চূড়ান্ত আঘাত হানবে। তেহরানের বর্তমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং ড্রোন প্রযুক্তি সেই প্রাচীন ভবিষ্যদ্বাণীরই আধুনিক প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। আমেরিকা ও তার মিত্ররা যতই প্রযুক্তিগত সহায়তা দিক না কেন, তাওরাতের নৈতিক মানদণ্ডে ইসরায়েল আজ পরাজিত।

মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরতা এখন সীমা ছাড়িয়ে গেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে ‘শাজারেহ তাইয়েবা’ বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৫০ থেকে ১৮০ জন নিষ্পাপ শিশু ও শিক্ষক নিহত হয়েছে। এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে যে, জায়নবাদী শক্তি এবং তাদের পশ্চিমা মদদদাতারা এখন পরাজয়ের গ্লানি ঢাকতে কোমলমতি শিশুদের ওপর প্রতিশোধ নিচ্ছে।

এই যুদ্ধের একটি গভীর আধ্যাত্মিক ও প্রতীকী দিক সামনে এসেছে ‘বাল’ (Baal) দেবতার প্রাসঙ্গিকতায়। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিপ্লবী বার্ষিকীতে তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে ‘বাল’ দেবতার মূর্তিতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল। প্রাচীন সেমেটিক ইতিহাসে বাল ছিল এমন এক দেবতা, যাকে সন্তুষ্ট করতে শিশুদের উৎসর্গ বা বলি দেওয়া হতো। বর্তমান ইরান সরকার এবং সচেতন মহল মনে করছে, আমেরিকা ও ইসরায়েল ঠিক সেই প্রাচীন শয়তানি আদর্শেরই আধুনিক রূপ। তারা শিশুদের হত্যা করে মূলত এক ধরণের ‘রক্তের উৎসব’ পালন করছে, যা তাদের চরম নৈতিক অবক্ষয় এবং পাশবিক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।

মিনাবের সেই স্কুলে যখন ক্লাস চলছিল, ঠিক তখনই মার্কিন বাহিনী পরপর তিনটি মিসাইল ছুড়ে পুরো ভবনটি গুঁড়িয়ে দেয়। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী মেয়েদের নিথর দেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। ইউনিসেফ এবং ইউনেস্কো এই ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে আখ্যা দিলেও ওয়াশিংটন একে ‘ভুলবশত হামলা’ বা ‘পার্শ্ববর্তী সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা’ বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু সত্য গোপন করার উপায় নেই; এটি ছিল পরিকল্পিত একটি হত্যাকাণ্ড।

ইরানের পাল্টা জবাব এখন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। বাল দেবতার মূর্তিতে অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে ইরান যে বার্তা দিয়েছিল—অর্থাৎ পশ্চিমাদের এই অশুভ ও ভ্রষ্ট সংস্কৃতির বিনাশ—তা এখন রণাঙ্গনে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ইরানের মিসাইলগুলো এখন ইসরায়েলের গভীরে আঘাত হানছে এবং মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করছে। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, শিশুদের প্রতিটি ফোঁটা রক্তের হিসাব তারা কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নেবে। এই যুদ্ধ এখন আর কেবল ভূ-খণ্ডের লড়াই নয়, এটি সত্যের সাথে বর্বতার চূড়ান্ত সংগ্রাম। পশ্চিমারা যত বেশি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে, তাদের পতনের ঘণ্টা তত দ্রুত বেজে উঠছে।

ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ ফাটল এবং সামরিক বাহিনীর মনোবল ধসে পড়া ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তাদের সেই তথাকথিত অজেয় থাকার মিথ ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। বিপরীতে, ইরান যে ধৈর্য এবং শক্তির পরিচয় দিচ্ছে, তা প্রমাণ করে যে মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্যের কেন্দ্রবিন্দু বদলে গেছে। আমেরিকা এখন কেবল তার ডুবন্ত মিত্রকে বাঁচানোর ব্যর্থ চেষ্টা করছে। তাওরাতের সেই কঠিন সতর্কবাণী—’যে ভূমি তার অধিবাসীদের গিলে খায়’—আজ ইসরায়েলের জন্য রূঢ় বাস্তবতায় পরিণত হতে যাচ্ছে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির পতন এবং সত্যের জয় এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।

জনপ্রিয় সংবাদ

আধুনিক ‘বাল’ দেবতার উপাসক ইসরাইল: শিশুদের রক্ত নিয়ে পৈশাচিক উৎসবের পর্দা ফাঁস

প্রকাশিত : ১২:২০:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আগুন এখন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ আগ্রাসন ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র জবাবে ইরান আজ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা অন্তত ৬ মাস টানা তীব্র যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে। তেহরানের এই অনড় অবস্থান প্রমাণ করে যে, সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো ইরানকে যতটা দুর্বল ভেবেছিল, বাস্তবতা তার ঠিক উল্টো।

ইসরায়েল ও আমেরিকা শুরুতেই কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়ে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। কিন্তু তেহরান দমে যাওয়ার পাত্র নয়। পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান শত শত ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং হাজার হাজার ড্রোন ছুড়েছে যা ইহুদিবাদী ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লণ্ডভণ্ড করে দিচ্ছে। আজ সকালেও কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সৌদি আরবের রিয়াদে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট এলাকায় নিখুঁত ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এটি কেবল শুরু মাত্র।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র আলি মোহাম্মদ নাইনি হুংকার দিয়ে বলেছেন, বর্তমান গতিতে যুদ্ধ চললে অন্তত আগামী ৬ মাস তাদের সামরিক শক্তিতে কোনো টান পড়বে না। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একের পর এক উসকানিমূলক কথা বলে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু পরাজয়ের ভয়ে এখন লিবিয়া এবং সিরিয়ায় হামলা বাড়িয়ে দিয়ে যুদ্ধের পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু ইরানের কৌশলগত ধৈর্য এবং দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের প্রস্তুতি তাদের সেই নীল নকশাকে ব্যর্থ করে দিচ্ছে।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, আমেরিকা ও ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যে তাদের আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে শেষ চেষ্টা করছে। কিন্তু ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক প্রতিরোধ বাহিনীগুলো (Axis of Resistance) যেভাবে সম্মিলিত পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে, তাতে পশ্চিমা শক্তিগুলোর পিছু হটা এখন সময়ের ব্যাপার। ইরানের তেল স্থাপনা বা বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে তেহরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা অসম্ভব। বরং এই যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এখন ইরানের কবজায়, যারা বিদেশি হস্তক্ষেপ রুখে দিয়ে এই অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর।

হুদিদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ তাওরাতের প্রাচীন তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা এবং বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা এখন একই বিন্দুতে এসে মিলেছে। বিশ্লেষকরা দাবি করছেন, বর্তমান ইসরায়েল রাষ্ট্রটি তার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ সংকটে পড়েছে এবং তাওরাতের আধ্যাত্মিক সতর্কবাণী অনুযায়ী তাদের ‘পতন’ এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

তাওরাতের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বনী ইসরায়েলের জন্য পবিত্র ভূমিতে বসবাস করার শর্ত ছিল সর্বোচ্চ পর্যায়ের পবিত্রতা এবং স্রষ্টার বিধানের প্রতি আনুগত্য। কিন্তু বর্তমান জায়নবাদী রাষ্ট্রটি সেই আধ্যাত্মিক শর্ত ভঙ্গ করে চরম ঔদ্ধত্য এবং রক্তপাতে লিপ্ত হয়েছে। তাওরাতের সতর্কবাণী অনুসারে, যখনই তারা এই ভূমিতে সীমালঙ্ঘন করবে, তখনই তাদের সেখান থেকে বহিষ্কৃত হতে হবে। কট্টর ইহুদি গোষ্ঠী ‘নেতুরে কার্তা’ (Neturei Karta) দীর্ঘকাল ধরে প্রচার করে আসছে যে, স্রষ্টার হুকুম ছাড়া জোরপূর্বক রাষ্ট্র গঠন তাওরাতের দৃষ্টিতে একটি মহাপাপ, যার শাস্তি হিসেবে এই রাষ্ট্রের ধ্বংস অনিবার্য।

বর্তমানের ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধকে অনেকে তাওরাতে বর্ণিত ‘গগ এবং মাগগ’ (Gog and Magog) যুদ্ধের সাথে তুলনা করছেন। ধর্মতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, পারস্য বা বর্তমান ইরানকে এই মহাযুদ্ধের প্রধান শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা ইসরায়েলের ওপর চূড়ান্ত আঘাত হানবে। তেহরানের বর্তমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং ড্রোন প্রযুক্তি সেই প্রাচীন ভবিষ্যদ্বাণীরই আধুনিক প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। আমেরিকা ও তার মিত্ররা যতই প্রযুক্তিগত সহায়তা দিক না কেন, তাওরাতের নৈতিক মানদণ্ডে ইসরায়েল আজ পরাজিত।

মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরতা এখন সীমা ছাড়িয়ে গেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে ‘শাজারেহ তাইয়েবা’ বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৫০ থেকে ১৮০ জন নিষ্পাপ শিশু ও শিক্ষক নিহত হয়েছে। এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে যে, জায়নবাদী শক্তি এবং তাদের পশ্চিমা মদদদাতারা এখন পরাজয়ের গ্লানি ঢাকতে কোমলমতি শিশুদের ওপর প্রতিশোধ নিচ্ছে।

এই যুদ্ধের একটি গভীর আধ্যাত্মিক ও প্রতীকী দিক সামনে এসেছে ‘বাল’ (Baal) দেবতার প্রাসঙ্গিকতায়। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিপ্লবী বার্ষিকীতে তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে ‘বাল’ দেবতার মূর্তিতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল। প্রাচীন সেমেটিক ইতিহাসে বাল ছিল এমন এক দেবতা, যাকে সন্তুষ্ট করতে শিশুদের উৎসর্গ বা বলি দেওয়া হতো। বর্তমান ইরান সরকার এবং সচেতন মহল মনে করছে, আমেরিকা ও ইসরায়েল ঠিক সেই প্রাচীন শয়তানি আদর্শেরই আধুনিক রূপ। তারা শিশুদের হত্যা করে মূলত এক ধরণের ‘রক্তের উৎসব’ পালন করছে, যা তাদের চরম নৈতিক অবক্ষয় এবং পাশবিক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।

মিনাবের সেই স্কুলে যখন ক্লাস চলছিল, ঠিক তখনই মার্কিন বাহিনী পরপর তিনটি মিসাইল ছুড়ে পুরো ভবনটি গুঁড়িয়ে দেয়। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী মেয়েদের নিথর দেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। ইউনিসেফ এবং ইউনেস্কো এই ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে আখ্যা দিলেও ওয়াশিংটন একে ‘ভুলবশত হামলা’ বা ‘পার্শ্ববর্তী সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা’ বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু সত্য গোপন করার উপায় নেই; এটি ছিল পরিকল্পিত একটি হত্যাকাণ্ড।

ইরানের পাল্টা জবাব এখন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। বাল দেবতার মূর্তিতে অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে ইরান যে বার্তা দিয়েছিল—অর্থাৎ পশ্চিমাদের এই অশুভ ও ভ্রষ্ট সংস্কৃতির বিনাশ—তা এখন রণাঙ্গনে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ইরানের মিসাইলগুলো এখন ইসরায়েলের গভীরে আঘাত হানছে এবং মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করছে। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, শিশুদের প্রতিটি ফোঁটা রক্তের হিসাব তারা কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নেবে। এই যুদ্ধ এখন আর কেবল ভূ-খণ্ডের লড়াই নয়, এটি সত্যের সাথে বর্বতার চূড়ান্ত সংগ্রাম। পশ্চিমারা যত বেশি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে, তাদের পতনের ঘণ্টা তত দ্রুত বেজে উঠছে।

ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ ফাটল এবং সামরিক বাহিনীর মনোবল ধসে পড়া ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তাদের সেই তথাকথিত অজেয় থাকার মিথ ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। বিপরীতে, ইরান যে ধৈর্য এবং শক্তির পরিচয় দিচ্ছে, তা প্রমাণ করে যে মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্যের কেন্দ্রবিন্দু বদলে গেছে। আমেরিকা এখন কেবল তার ডুবন্ত মিত্রকে বাঁচানোর ব্যর্থ চেষ্টা করছে। তাওরাতের সেই কঠিন সতর্কবাণী—’যে ভূমি তার অধিবাসীদের গিলে খায়’—আজ ইসরায়েলের জন্য রূঢ় বাস্তবতায় পরিণত হতে যাচ্ছে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির পতন এবং সত্যের জয় এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।