০৪:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্রোকারেজের অনিয়মে ক্ষতি : ১৭ হাজার ৯৬৭ জন বিনিয়োগকারীর পাশে ডিএসই

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত : ০৭:২০:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 26

শেয়ারবাজারে ব্রোকারেজ হাউসের অনিয়মে ক্ষতিগ্রস্ত ১৭ হাজার ৯৬৭ জন বিনিয়োগকারীকে টাকা ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৩৩২ জন বিনিয়োগকারীকে ইনভেস্টরস প্রোটেকশন ফান্ড (আইপিএফ) থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হচ্ছে।

ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেছেন, কোনো মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার কারণে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে শেয়ারবাজারের ওপর তাদের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়। এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য নয়।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই টাওয়ারের মাল্টিপারপাস হলে ‘Inauguration Ceremony for Distribution of IPF Funds’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। এ ছাড়া ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ারসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মমিনুল ইসলাম বলেন, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা প্রত্যেক বিনিয়োগকারীর প্রত্যাশা থাকে একটি সুন্দর বিনিয়োগ পরিবেশের মাধ্যমে ভালো রিটার্ন পাওয়া। বিনিয়োগে লাভ-ক্ষতি দুটোই হতে পারে এবং শেয়ারের দাম কমা-বাড়া বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। কিন্তু কোনো মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের কারণে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বাজারের ওপর তাদের আস্থা ভীষণভাবে নষ্ট হয়।

তিনি বলেন, বিগত সময়ে পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউস তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারেনি। তারা বিভিন্নভাবে বিনিয়োগকারীদের অর্থ বা শেয়ার নিজেদের হিসাবে স্থানান্তর করেছে এবং পরবর্তী সময়ে তা ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, এসব ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মোট ১৭ হাজার ৯৬৭ জন বিনিয়োগকারীর তালিকা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৩৩২ জনকে আইপিএফ থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হচ্ছে।

যেসব বিনিয়োগকারীর সম্পূর্ণ অর্থ এই পর্যায়ে পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না, তাদের অবশিষ্ট অর্থও আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফেরত দিতে ডিএসই ও বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তৎপর থাকবে বলে জানান তিনি।

ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে মমিনুল ইসলাম বলেন, তাঁদের কষ্টার্জিত অর্থ অনেক আশা নিয়ে বিনিয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু এসব ঘটনার কারণে তাদের ভীষণ ধরনের মানসিক ও আর্থিক ক্ষতি এবং যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এ জন্য তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিএসইসি, দুই স্টক এক্সচেঞ্জ, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)সহ সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসবে।

ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের দ্রুত অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগে সার্বিক দিকনির্দেশনার জন্য বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খানকে ধন্যবাদ জানান ডিএসই চেয়ারম্যান। একই সঙ্গে তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জটিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করায় ডিএসইর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং ফান্ডে অর্থ সরবরাহে অবদান রাখায় ব্রোকারেজ হাউস ও আইপিএফ ট্রাস্টি বোর্ডের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

দেশের অর্থনীতির স্বার্থে একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক শেয়ারবাজার গড়ে তুলতে বাজারসংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান মমিনুল ইসলাম।

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রোকারেজের অনিয়মে ক্ষতি : ১৭ হাজার ৯৬৭ জন বিনিয়োগকারীর পাশে ডিএসই

ব্রোকারেজের অনিয়মে ক্ষতি : ১৭ হাজার ৯৬৭ জন বিনিয়োগকারীর পাশে ডিএসই

প্রকাশিত : ০৭:২০:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শেয়ারবাজারে ব্রোকারেজ হাউসের অনিয়মে ক্ষতিগ্রস্ত ১৭ হাজার ৯৬৭ জন বিনিয়োগকারীকে টাকা ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৩৩২ জন বিনিয়োগকারীকে ইনভেস্টরস প্রোটেকশন ফান্ড (আইপিএফ) থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হচ্ছে।

ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেছেন, কোনো মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার কারণে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে শেয়ারবাজারের ওপর তাদের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়। এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য নয়।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই টাওয়ারের মাল্টিপারপাস হলে ‘Inauguration Ceremony for Distribution of IPF Funds’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। এ ছাড়া ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ারসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মমিনুল ইসলাম বলেন, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা প্রত্যেক বিনিয়োগকারীর প্রত্যাশা থাকে একটি সুন্দর বিনিয়োগ পরিবেশের মাধ্যমে ভালো রিটার্ন পাওয়া। বিনিয়োগে লাভ-ক্ষতি দুটোই হতে পারে এবং শেয়ারের দাম কমা-বাড়া বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। কিন্তু কোনো মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের কারণে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বাজারের ওপর তাদের আস্থা ভীষণভাবে নষ্ট হয়।

তিনি বলেন, বিগত সময়ে পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউস তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারেনি। তারা বিভিন্নভাবে বিনিয়োগকারীদের অর্থ বা শেয়ার নিজেদের হিসাবে স্থানান্তর করেছে এবং পরবর্তী সময়ে তা ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, এসব ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মোট ১৭ হাজার ৯৬৭ জন বিনিয়োগকারীর তালিকা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৩৩২ জনকে আইপিএফ থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হচ্ছে।

যেসব বিনিয়োগকারীর সম্পূর্ণ অর্থ এই পর্যায়ে পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না, তাদের অবশিষ্ট অর্থও আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফেরত দিতে ডিএসই ও বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তৎপর থাকবে বলে জানান তিনি।

ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে মমিনুল ইসলাম বলেন, তাঁদের কষ্টার্জিত অর্থ অনেক আশা নিয়ে বিনিয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু এসব ঘটনার কারণে তাদের ভীষণ ধরনের মানসিক ও আর্থিক ক্ষতি এবং যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এ জন্য তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিএসইসি, দুই স্টক এক্সচেঞ্জ, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)সহ সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসবে।

ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের দ্রুত অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগে সার্বিক দিকনির্দেশনার জন্য বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খানকে ধন্যবাদ জানান ডিএসই চেয়ারম্যান। একই সঙ্গে তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জটিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করায় ডিএসইর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং ফান্ডে অর্থ সরবরাহে অবদান রাখায় ব্রোকারেজ হাউস ও আইপিএফ ট্রাস্টি বোর্ডের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

দেশের অর্থনীতির স্বার্থে একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক শেয়ারবাজার গড়ে তুলতে বাজারসংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান মমিনুল ইসলাম।