০৪:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিল্পায়নে ভূমিকা রাখতে পারছে না দেশের পুঁজিবাজার

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত : ১১:০৭:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 44

পুঁজিবাজারকে দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্যতম প্রধান আর্থিক খাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু দেশের অর্থনীতির আকার যতটা বেড়েছে, পুঁজিবাজারের গভীরতা, প্রাতিষ্ঠানিক অংশগ্রহণ ও বিদেশি বিনিয়োগপ্রবাহ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বাড়েনি। ফলে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের কাঠামো এখনো ব্যাংকনির্ভর, যার কারণে আর্থিক ব্যবস্থায় এক ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। গত আড়াই বছরে দেশের পুঁজিবাজারে নতুন কোনো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা জানান, ব্যাংক ঋণ সহজলভ্য হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি অর্থের জন্য ব্যাংকে ছুটছেন শিল্পোদ্যোক্তারা। ফলে শিল্পায়নে খুব একটা ভূমিকা রাখতে পারছে না দেশের পুঁজিবাজার। দিন যত যাচ্ছে, শিল্পায়নে পুঁজিবাজারের অবদান তত কমছে। দেশের শিল্পায়নে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যাংক খাতের অতিনির্ভরতা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে, যেখানে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহের চিত্রটি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। শিল্প খাতে মোট অর্থায়নের সামান্য অংশ মাত্র পুঁজিবাজার থেকে আসায় দেশের পুরো অর্থনৈতিক ঝুঁকি গিয়ে পড়ছে ব্যাংক খাতের ওপর। ভালো শেয়ারের দীর্ঘস্থায়ী ঘাটতি এবং নীতিনির্ধারণী দুর্বলতার কারণেই মূলত এমন অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বিশেষজ্ঞরা নীতিমালায় কাঠামোগত পরিবর্তন এনে বড় প্রকল্পে ব্যাংক ও পুঁজিবাজারের অর্থায়নে একটি যৌক্তিক অনুপাত নির্ধারণ এবং পুঁজিবাজার থেকে পুঁজি উত্তোলন বাধ্যতামূলক করার জোর তাগিদ দিয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির তথ্য সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের শিল্পায়নে ব্যাংক খাত থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অর্থায়ন হয়েছে ৯৭ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা। বিপরীতে পুঁজিবাজার থেকে অর্থায়নের পরিমাণ ছিল ৩০২ কোট টাকা। আলোচ্য অর্থবছরে শিল্পায়নে অর্থায়নে পুঁজিবাজার থেকে এসেছে মাত্র ০.৩১ শতাংশ। আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ব্যাংকিং মাধ্যমে অর্থায়নের পরিমাণ ছিল ৮৮ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা। আর পুঁজিবাজার থেকে এসেছে ৬৭৯ কোটি টাকা, যা শতাংশের হিসাবে ০.৭৬ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ব্যাংকিং মাধ্যমে অর্থায়ন হয়েছে ৯৫ হাজার ১৭২ কোটি টাকা। আর পুঁজিবাজারের মাধ্যমে এসেছে ৬৪১ কোটি টাকা, যা শতাংশের হিসাবে মাত্র ০.৬৭ শতাংশ। ২০২১-২২ অর্থবছরে ব্যাংকিং চ্যানেলে এসেছে ৭২ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা। আর পুঁজিবাজারের মাধ্যমে পুঁজির সংস্থান হয়েছে ৬৮৫ কোটি টাকা, যা মোট অর্থায়নের ০.৯৪ শতাংশ।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রোকারেজের অনিয়মে ক্ষতি : ১৭ হাজার ৯৬৭ জন বিনিয়োগকারীর পাশে ডিএসই

শিল্পায়নে ভূমিকা রাখতে পারছে না দেশের পুঁজিবাজার

প্রকাশিত : ১১:০৭:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পুঁজিবাজারকে দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্যতম প্রধান আর্থিক খাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু দেশের অর্থনীতির আকার যতটা বেড়েছে, পুঁজিবাজারের গভীরতা, প্রাতিষ্ঠানিক অংশগ্রহণ ও বিদেশি বিনিয়োগপ্রবাহ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বাড়েনি। ফলে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের কাঠামো এখনো ব্যাংকনির্ভর, যার কারণে আর্থিক ব্যবস্থায় এক ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। গত আড়াই বছরে দেশের পুঁজিবাজারে নতুন কোনো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা জানান, ব্যাংক ঋণ সহজলভ্য হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি অর্থের জন্য ব্যাংকে ছুটছেন শিল্পোদ্যোক্তারা। ফলে শিল্পায়নে খুব একটা ভূমিকা রাখতে পারছে না দেশের পুঁজিবাজার। দিন যত যাচ্ছে, শিল্পায়নে পুঁজিবাজারের অবদান তত কমছে। দেশের শিল্পায়নে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যাংক খাতের অতিনির্ভরতা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে, যেখানে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহের চিত্রটি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। শিল্প খাতে মোট অর্থায়নের সামান্য অংশ মাত্র পুঁজিবাজার থেকে আসায় দেশের পুরো অর্থনৈতিক ঝুঁকি গিয়ে পড়ছে ব্যাংক খাতের ওপর। ভালো শেয়ারের দীর্ঘস্থায়ী ঘাটতি এবং নীতিনির্ধারণী দুর্বলতার কারণেই মূলত এমন অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বিশেষজ্ঞরা নীতিমালায় কাঠামোগত পরিবর্তন এনে বড় প্রকল্পে ব্যাংক ও পুঁজিবাজারের অর্থায়নে একটি যৌক্তিক অনুপাত নির্ধারণ এবং পুঁজিবাজার থেকে পুঁজি উত্তোলন বাধ্যতামূলক করার জোর তাগিদ দিয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির তথ্য সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের শিল্পায়নে ব্যাংক খাত থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অর্থায়ন হয়েছে ৯৭ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা। বিপরীতে পুঁজিবাজার থেকে অর্থায়নের পরিমাণ ছিল ৩০২ কোট টাকা। আলোচ্য অর্থবছরে শিল্পায়নে অর্থায়নে পুঁজিবাজার থেকে এসেছে মাত্র ০.৩১ শতাংশ। আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ব্যাংকিং মাধ্যমে অর্থায়নের পরিমাণ ছিল ৮৮ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা। আর পুঁজিবাজার থেকে এসেছে ৬৭৯ কোটি টাকা, যা শতাংশের হিসাবে ০.৭৬ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ব্যাংকিং মাধ্যমে অর্থায়ন হয়েছে ৯৫ হাজার ১৭২ কোটি টাকা। আর পুঁজিবাজারের মাধ্যমে এসেছে ৬৪১ কোটি টাকা, যা শতাংশের হিসাবে মাত্র ০.৬৭ শতাংশ। ২০২১-২২ অর্থবছরে ব্যাংকিং চ্যানেলে এসেছে ৭২ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা। আর পুঁজিবাজারের মাধ্যমে পুঁজির সংস্থান হয়েছে ৬৮৫ কোটি টাকা, যা মোট অর্থায়নের ০.৯৪ শতাংশ।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব