একমি পেস্টিসাইডসের শেয়ার দর নিয়ে বাজারে যে লঙ্কাকাণ্ড চলছে, তাকে স্রেফ অস্বাভাবিক বললে ভুল হবে—এটি বিনিয়োগকারীদের পকেট কাটার এক সুনিপুণ নীলনকশা। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তদন্তে যখন বেরিয়ে আসে যে কোনো কারণ ছাড়াই দর বাড়ছে, তখন বুঝতে বাকি থাকে না যে পর্দার আড়ালে কোনো এক চক্র সক্রিয় রয়েছে। খোদ কোম্পানি যখন হাত ধুয়ে বলছে তাদের কাছে দাম বাড়ার কোনো সদুত্তর নেই, তখন এই শেয়ারে টাকা ঢালা মানে জেনে বুঝেই বিষপান করা। বিশ্লেষকদের মতে, ৬৬ শতাংশ দরবৃদ্ধি কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়, বরং এটি তথাকথিত ‘পাম্প অ্যান্ড ডাম্প’ প্রক্রিয়ার অংশ।
বাজার বিশ্লেষকরা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলছেন, যে শেয়ারের দাম দেড় মাসে ১০ টাকা ৬০ পয়সা বাড়ে কোনো ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি ছাড়াই, তার পতন হবে আরও বীভৎস। কোম্পানিটির মৌলভিত্তি যেখানে প্রশ্নবিদ্ধ, সেখানে এই কৃত্রিম উল্লম্ফন কেবল আনাড়ি বিনিয়োগকারীদের প্রলুব্ধ করার টোপ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একমি পেস্টিসাইডসের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঘাড়ে উচ্চমূল্যে শেয়ার চাপিয়ে দিয়ে বড় খেলোয়াড়দের সটকে পড়ার একটি পাঁয়তারা মাত্র। ডিএসইর ব্যাখ্যা তলব এবং কোম্পানির নিরুত্তাপ জবাব প্রমাণ করে যে, এই দাম বাড়ার পেছনে যৌক্তিক কোনো ভিত্তি নেই।
যারা এখন এই আকাশচুম্বী দামে শেয়ার কেনার উন্মাদনায় মেতেছেন, তারা মূলত একটি টাইম বোমার ওপর বসে আছেন। যেকোনো মুহূর্তে এই বুদবুদ ফেটে গিয়ে বিনিয়োগকারীদের মূলধন নিঃশেষ করে দিতে পারে। এই তথাকথিত শেয়ার দর বৃদ্ধি কোনো সুযোগ নয়, বরং এটি একটি ভয়াবহ আর্থিক ফাঁদ। যারা এখনো সচেতন হচ্ছেন না, তাদের চূড়ান্ত আর্থিক দেউলিয়াত্ব বরণ করার জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত। ডিএসইর তদন্তের ফলাফল আসার পরও যারা এই শেয়ারে বিনিয়োগের ঝুঁকি নিচ্ছেন, তারা আসলে নিজেদের ধ্বংস নিজেই ডেকে আনছেন।
পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে একমি পেস্টিসাইডসের মতো কোম্পানির এই লাগামহীন দৌড় পুরো বাজারের শৃঙ্খলাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে। বিশ্লেষকরা স্পষ্ট ভাষায় বলছেন, যেখানে মৌলভিত্তি দুর্বল সেখানে দরবৃদ্ধি মানেই বিনিয়োগকারীদের জন্য অশনিসংকেত। যে শেয়ারের দাম ছিল মাত্র ১৬ টাকা, তা কোনো জাদুবলে ২৬ টাকা ৬০ পয়সায় পৌঁছালো—তার কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা নেই। কোনো অপ্রকাশিত তথ্য ছাড়াই এই অস্বাভাবিক উত্থান প্রমাণ করে যে এটি সম্পূর্ণ কারসাজি।
হৃদয় 

























