০৫:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

ম্যাকসন্স স্পিনিং: লোকসান ঠেকাতে উৎপাদন বৃদ্ধিই একমাত্র পথ

শেয়ারবাজারে বস্ত্র খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ম্যাকসন্স স্পিনিং মিলস লিমিটেড উৎপাদন সক্ষমতার বড় অংশ ব্যবহার করতে পারছে না। এর ফলে কোম্পানিটি বড় লোকসানের মধ্যে পড়েছে। ২০২৫ সালের ৩০ জুন সম্পন্ন অর্থবছরের আর্থিক নিরীক্ষায় এই তথ্য উঠে এসেছে।

নিরীক্ষকরা জানিয়েছেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোম্পানি সক্ষমতার মাত্র ১৯.১০ শতাংশ উৎপাদন করতে পেরেছে। এতে নিট লোকসান হয়েছে ২২৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। ম্যাকসন্স স্পিনিংয়ের পুঞ্জীভূত লোকসান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা, আর ঋণের পরিমাণ ৭৫১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, যা কোম্পানির ইক্যুইটির ৮৪.৭১ শতাংশ।

কোম্পানিটি মূলত ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে লোকসানে রয়েছে। ওই অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছিল ৩.৯৩ টাকা, মোট ৯৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা। পরবর্তী বছর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি ৩.৬৯ টাকা, মোট ৮৭ কোটি ৯১ লাখ টাকা লোকসান হয়। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি ৯.৪২ টাকা, মোট ২২৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

নিরীক্ষকরা আরও জানাচ্ছেন, বিভিন্ন গ্রাহকের কাছে ৩২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা পাওনা আছে। এর মধ্যে এক বছরের বেশি সময় ধরে আদায় হচ্ছে না এমন অর্থও রয়েছে। তবু কোম্পানিটি কোনো সঞ্চিতি গঠন করেনি, যা লোকসান কম দেখানোর চেষ্টা হিসেবে ধরা হচ্ছে।

বিএসইসি নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে অবন্টিত লভ্যাংশ হস্তান্তরও করেনি ম্যাকসন্স স্পিনিং। ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত অবন্টিত লভ্যাংশের পরিমাণ ২ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

কোম্পানি কর্তৃপক্ষ তাদের আর্থিক হিসাবে ৩৬৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকার মজুদ পণ্য দেখিয়েছে। তবে সহযোগিতার অভাবে নিরীক্ষকরা স্বশরীরে এর সত্যতা যাচাই করতে পারেননি।

ম্যাকসন্স স্পিনিং মিলস লিমিটেড ২০০৯ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ‘জেড’ ক্যাটাগরির এই কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ২৩৮ কোটি ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা, মোট শেয়ার সংখ্যা ২৩ কোটি ৮২ লাখ ৩২ হাজার ৫৩৮টি। এর মধ্যে বিনিয়োগকারীদের মালিকানা রয়েছে ৭০ শতাংশ, উদ্যোক্তা বা পরিচালক ব্যতীত।

নিরীক্ষকরা সুপারিশ করেছেন, কোম্পানির উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, আর্থিক অবস্থা শক্তিশালী করা এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতি গ্রহণের মাধ্যমে লোকসানের সমাধান করা প্রয়োজন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ম্যাকসন্স স্পিনিং: লোকসান ঠেকাতে উৎপাদন বৃদ্ধিই একমাত্র পথ

প্রকাশিত : ০৪:৩১:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

শেয়ারবাজারে বস্ত্র খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ম্যাকসন্স স্পিনিং মিলস লিমিটেড উৎপাদন সক্ষমতার বড় অংশ ব্যবহার করতে পারছে না। এর ফলে কোম্পানিটি বড় লোকসানের মধ্যে পড়েছে। ২০২৫ সালের ৩০ জুন সম্পন্ন অর্থবছরের আর্থিক নিরীক্ষায় এই তথ্য উঠে এসেছে।

নিরীক্ষকরা জানিয়েছেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোম্পানি সক্ষমতার মাত্র ১৯.১০ শতাংশ উৎপাদন করতে পেরেছে। এতে নিট লোকসান হয়েছে ২২৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। ম্যাকসন্স স্পিনিংয়ের পুঞ্জীভূত লোকসান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা, আর ঋণের পরিমাণ ৭৫১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, যা কোম্পানির ইক্যুইটির ৮৪.৭১ শতাংশ।

কোম্পানিটি মূলত ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে লোকসানে রয়েছে। ওই অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছিল ৩.৯৩ টাকা, মোট ৯৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা। পরবর্তী বছর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি ৩.৬৯ টাকা, মোট ৮৭ কোটি ৯১ লাখ টাকা লোকসান হয়। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি ৯.৪২ টাকা, মোট ২২৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

নিরীক্ষকরা আরও জানাচ্ছেন, বিভিন্ন গ্রাহকের কাছে ৩২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা পাওনা আছে। এর মধ্যে এক বছরের বেশি সময় ধরে আদায় হচ্ছে না এমন অর্থও রয়েছে। তবু কোম্পানিটি কোনো সঞ্চিতি গঠন করেনি, যা লোকসান কম দেখানোর চেষ্টা হিসেবে ধরা হচ্ছে।

বিএসইসি নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে অবন্টিত লভ্যাংশ হস্তান্তরও করেনি ম্যাকসন্স স্পিনিং। ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত অবন্টিত লভ্যাংশের পরিমাণ ২ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

কোম্পানি কর্তৃপক্ষ তাদের আর্থিক হিসাবে ৩৬৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকার মজুদ পণ্য দেখিয়েছে। তবে সহযোগিতার অভাবে নিরীক্ষকরা স্বশরীরে এর সত্যতা যাচাই করতে পারেননি।

ম্যাকসন্স স্পিনিং মিলস লিমিটেড ২০০৯ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ‘জেড’ ক্যাটাগরির এই কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ২৩৮ কোটি ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা, মোট শেয়ার সংখ্যা ২৩ কোটি ৮২ লাখ ৩২ হাজার ৫৩৮টি। এর মধ্যে বিনিয়োগকারীদের মালিকানা রয়েছে ৭০ শতাংশ, উদ্যোক্তা বা পরিচালক ব্যতীত।

নিরীক্ষকরা সুপারিশ করেছেন, কোম্পানির উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, আর্থিক অবস্থা শক্তিশালী করা এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতি গ্রহণের মাধ্যমে লোকসানের সমাধান করা প্রয়োজন।