০৫:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

রিং শাইন টেক্সটাইলসের আইপিও তহবিল ছাড়ের আবেদন ফের নাকচ

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত : ০৯:৩৯:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 424

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত টেক্সটাইল খাতের কোম্পানি রিং সাইন টেক্সটাইলস লিমিটেডের আইপিও তহবিলের অর্থ ব্যবহারের পথ আবারও আটকে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রয়োজনীয় সংখ্যক শেয়ারহোল্ডারের সমর্থন সংগ্রহ করতে না পারায় কোম্পানিটির অর্থ অবমুক্তির আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেছে কমিশন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিএসইসির এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রিং সাইন কর্তৃপক্ষ তাদের আইপিও প্রসপেক্টাসে উল্লিখিত অর্থ ব্যবহারের খাত ও সময়সীমা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, আইপিও তহবিলের এমন কোনো পরিবর্তন আনতে হলে অন্তত ৫১ শতাংশ সাধারণ শেয়ারহোল্ডারের সম্মতি প্রয়োজন। কিন্তু কোম্পানিটি এই প্রয়োজনীয় অনুমোদন সংগ্রহে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের আবেদনটি নাকচ করে দেয় বিএসইসি। একই সঙ্গে তহবিলের ১০ লাখ ডলার তাৎক্ষণিক অবমুক্তির প্রস্তাবও বাতিল করা হয়েছে।

বিএসইসির এই কঠোর অবস্থানের নেপথ্যে রয়েছে কোম্পানিটির বিশাল আর্থিক জালিয়াতির ইতিহাস। তদন্তে দেখা গেছে, আইপিও-পূর্ববর্তী সময়ে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ২৭৫ কোটি টাকার মূলধন বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও বাস্তবে বড় অংকের অর্থ কোম্পানিতে জমা হয়নি। এই জালিয়াতি ও আইপিও প্রসপেক্টাসে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ৯ জন পরিচালক ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বিএসইসি। এছাড়া বিষয়টি তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

অনিয়মের জালে জড়িয়েছে রিং সাইনের আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষা করা চারটি সিএ ফার্মও। ২০১৫ থেকে ২০২০ অর্থবছর পর্যন্ত ভুয়া আর্থিক বিবরণী প্রত্যয়ন করায় আহমেদ ও আখতার, সিরাজ খান বসাক অ্যান্ড কোং, মাহফেল হক অ্যান্ড কোং এবং এটিএ খান অ্যান্ড কোং-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলে (এফআরসি) অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই জালিয়াতির নেপথ্যে মূল হোতা হিসেবে আব্দুল কাদের ফারুক ও অশোক কুমার চিরিমারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

২০১৯ সালে শেয়ারবাজারে আসা এই কোম্পানিটি বর্তমানে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে। ৫০০ কোটি টাকার বেশি পরিশোধিত মূলধনের এই কোম্পানির প্রায় ৫৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই বিএসইসি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য, গত বছরের জুলাই মাসেও কোম্পানিটির একই ধরনের একটি আবেদন বিএসইসি প্রত্যাখ্যান করেছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

রিং শাইন টেক্সটাইলসের আইপিও তহবিল ছাড়ের আবেদন ফের নাকচ

প্রকাশিত : ০৯:৩৯:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত টেক্সটাইল খাতের কোম্পানি রিং সাইন টেক্সটাইলস লিমিটেডের আইপিও তহবিলের অর্থ ব্যবহারের পথ আবারও আটকে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রয়োজনীয় সংখ্যক শেয়ারহোল্ডারের সমর্থন সংগ্রহ করতে না পারায় কোম্পানিটির অর্থ অবমুক্তির আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেছে কমিশন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিএসইসির এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রিং সাইন কর্তৃপক্ষ তাদের আইপিও প্রসপেক্টাসে উল্লিখিত অর্থ ব্যবহারের খাত ও সময়সীমা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, আইপিও তহবিলের এমন কোনো পরিবর্তন আনতে হলে অন্তত ৫১ শতাংশ সাধারণ শেয়ারহোল্ডারের সম্মতি প্রয়োজন। কিন্তু কোম্পানিটি এই প্রয়োজনীয় অনুমোদন সংগ্রহে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের আবেদনটি নাকচ করে দেয় বিএসইসি। একই সঙ্গে তহবিলের ১০ লাখ ডলার তাৎক্ষণিক অবমুক্তির প্রস্তাবও বাতিল করা হয়েছে।

বিএসইসির এই কঠোর অবস্থানের নেপথ্যে রয়েছে কোম্পানিটির বিশাল আর্থিক জালিয়াতির ইতিহাস। তদন্তে দেখা গেছে, আইপিও-পূর্ববর্তী সময়ে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ২৭৫ কোটি টাকার মূলধন বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও বাস্তবে বড় অংকের অর্থ কোম্পানিতে জমা হয়নি। এই জালিয়াতি ও আইপিও প্রসপেক্টাসে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ৯ জন পরিচালক ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বিএসইসি। এছাড়া বিষয়টি তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

অনিয়মের জালে জড়িয়েছে রিং সাইনের আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষা করা চারটি সিএ ফার্মও। ২০১৫ থেকে ২০২০ অর্থবছর পর্যন্ত ভুয়া আর্থিক বিবরণী প্রত্যয়ন করায় আহমেদ ও আখতার, সিরাজ খান বসাক অ্যান্ড কোং, মাহফেল হক অ্যান্ড কোং এবং এটিএ খান অ্যান্ড কোং-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলে (এফআরসি) অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই জালিয়াতির নেপথ্যে মূল হোতা হিসেবে আব্দুল কাদের ফারুক ও অশোক কুমার চিরিমারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

২০১৯ সালে শেয়ারবাজারে আসা এই কোম্পানিটি বর্তমানে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে। ৫০০ কোটি টাকার বেশি পরিশোধিত মূলধনের এই কোম্পানির প্রায় ৫৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই বিএসইসি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য, গত বছরের জুলাই মাসেও কোম্পানিটির একই ধরনের একটি আবেদন বিএসইসি প্রত্যাখ্যান করেছিল।