০৬:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

সোনারগাঁও টেক্সটাইলে ভূয়া মজুদ পণ্য

  • ইয়াসিন
  • প্রকাশিত : ১২:৫৯:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 227

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সোনারগাঁও টেক্সটাইল লিমিটেডের আর্থিক অবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের গুঞ্জন থাকলেও এবার নিরীক্ষকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক সব তথ্য। গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিক লোকসানে থাকা এই কোম্পানিটির ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদনে এমন কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলেছে। নিরীক্ষক জানিয়েছেন, কোম্পানিটি তাদের হিসাব বইয়ে ১২৩ কোটি টাকারও বেশি সম্পদ থাকার দাবি করলেও বাস্তবে তার প্রমাণ মেলেনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানি কর্তৃপক্ষ কাগজে-কলমে ৫৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকার মজুদ পণ্য এবং ৬৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকার স্থায়ী সম্পদ থাকার তথ্য উল্লেখ করেছে। তবে নিরীক্ষক সরেজমিনে কারখানা ও সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেও এই বিশাল অংকের সম্পদের কোনো হদিস পাননি। এমনকি বিকল্প কোনো প্রামাণ্য দলিলাদি বা যাচাইযোগ্য পন্থায় এসব সম্পদের বৈধতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এই বিপুল পরিমাণ সম্পদের সঠিক তথ্য না থাকা সরাসরি আর্থিক জালিয়াতির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আর্থিক প্রতিবেদনে স্বচ্ছতা বজায় রাখার নিয়ম থাকলেও সোনারগাঁও টেক্সটাইল কর্তৃপক্ষ কাঁচামাল কেনাকাটার ক্ষেত্রেও চরম অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা গেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৪ কোটি ৭ লাখ টাকার কাঁচামাল কেনা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও এর একটি বড় অংশই ব্যাংকিং চ্যানেলের পরিবর্তে নগদ টাকায় লেনদেন করা হয়েছে। ব্যাংকিং রেকর্ডের অভাব এবং নগদ লেনদেনের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ না থাকায় নিরীক্ষক জানিয়েছেন যে, এই কাঁচামাল প্রকৃতপক্ষে কারখানার জন্য কেনা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এছাড়াও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে ২০১৯ এবং ২০২২ সালের ১৫ লাখ টাকার অবণ্টিত লভ্যাংশ ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে (CMSF) হস্তান্তর করেনি কোম্পানিটি। তিন বছরের বেশি সময় ধরে পড়ে থাকা এই লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বর্তমানে কোম্পানির ব্যাংক হিসাবে প্রয়োজনীয় অর্থের কোনো সংস্থানও নেই। একইসঙ্গে শ্রম আইন অনুযায়ী ১০ লাখ টাকার প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড থাকলেও তা কর্মীদের মাঝে বিতরণ না করে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

ডেফার্ড ট্যাক্স বা বিলম্বিত করের হিসাবেও লুকোচুরি করা হয়েছে বলে নিরীক্ষক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন। ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত ৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকার ডেফার্ড ট্যাক্স দায় দেখানো হলেও সেখানে সম্পদের পুনঃমূল্যায়নজনিত সারপ্লাসকে হিসাবে নেওয়া হয়নি, যার ফলে আর্থিক প্রতিবেদনে কর সংক্রান্ত ভুল তথ্য উপস্থাপিত হয়েছে। ১৯৯৫ সালে তালিকাভুক্ত এই কোম্পানিটি গত ৬ বছরের মধ্যে ৪ বছরই বড় অংকের লোকসান দিয়েছে। বর্তমানে কোম্পানিটির ৫৫.৫৫ শতাংশ মালিকানাই রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সোনারগাঁও টেক্সটাইলে ভূয়া মজুদ পণ্য

প্রকাশিত : ১২:৫৯:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সোনারগাঁও টেক্সটাইল লিমিটেডের আর্থিক অবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের গুঞ্জন থাকলেও এবার নিরীক্ষকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক সব তথ্য। গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিক লোকসানে থাকা এই কোম্পানিটির ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদনে এমন কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলেছে। নিরীক্ষক জানিয়েছেন, কোম্পানিটি তাদের হিসাব বইয়ে ১২৩ কোটি টাকারও বেশি সম্পদ থাকার দাবি করলেও বাস্তবে তার প্রমাণ মেলেনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানি কর্তৃপক্ষ কাগজে-কলমে ৫৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকার মজুদ পণ্য এবং ৬৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকার স্থায়ী সম্পদ থাকার তথ্য উল্লেখ করেছে। তবে নিরীক্ষক সরেজমিনে কারখানা ও সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেও এই বিশাল অংকের সম্পদের কোনো হদিস পাননি। এমনকি বিকল্প কোনো প্রামাণ্য দলিলাদি বা যাচাইযোগ্য পন্থায় এসব সম্পদের বৈধতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এই বিপুল পরিমাণ সম্পদের সঠিক তথ্য না থাকা সরাসরি আর্থিক জালিয়াতির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আর্থিক প্রতিবেদনে স্বচ্ছতা বজায় রাখার নিয়ম থাকলেও সোনারগাঁও টেক্সটাইল কর্তৃপক্ষ কাঁচামাল কেনাকাটার ক্ষেত্রেও চরম অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা গেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৪ কোটি ৭ লাখ টাকার কাঁচামাল কেনা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও এর একটি বড় অংশই ব্যাংকিং চ্যানেলের পরিবর্তে নগদ টাকায় লেনদেন করা হয়েছে। ব্যাংকিং রেকর্ডের অভাব এবং নগদ লেনদেনের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ না থাকায় নিরীক্ষক জানিয়েছেন যে, এই কাঁচামাল প্রকৃতপক্ষে কারখানার জন্য কেনা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এছাড়াও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে ২০১৯ এবং ২০২২ সালের ১৫ লাখ টাকার অবণ্টিত লভ্যাংশ ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে (CMSF) হস্তান্তর করেনি কোম্পানিটি। তিন বছরের বেশি সময় ধরে পড়ে থাকা এই লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বর্তমানে কোম্পানির ব্যাংক হিসাবে প্রয়োজনীয় অর্থের কোনো সংস্থানও নেই। একইসঙ্গে শ্রম আইন অনুযায়ী ১০ লাখ টাকার প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড থাকলেও তা কর্মীদের মাঝে বিতরণ না করে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

ডেফার্ড ট্যাক্স বা বিলম্বিত করের হিসাবেও লুকোচুরি করা হয়েছে বলে নিরীক্ষক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন। ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত ৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকার ডেফার্ড ট্যাক্স দায় দেখানো হলেও সেখানে সম্পদের পুনঃমূল্যায়নজনিত সারপ্লাসকে হিসাবে নেওয়া হয়নি, যার ফলে আর্থিক প্রতিবেদনে কর সংক্রান্ত ভুল তথ্য উপস্থাপিত হয়েছে। ১৯৯৫ সালে তালিকাভুক্ত এই কোম্পানিটি গত ৬ বছরের মধ্যে ৪ বছরই বড় অংকের লোকসান দিয়েছে। বর্তমানে কোম্পানিটির ৫৫.৫৫ শতাংশ মালিকানাই রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।