পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত টেক্সটাইল খাতের কোম্পানি আনলিমা ইয়ার্ন ডাইং লিমিটেডের ব্যবসায়িক দশা এখন যেন এক অন্তহীন অন্ধকারের গল্প। একের পর এক লোকসানের ধাক্কায় কোম্পানিটি এখন খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসের (জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫) যে আর্থিক চিত্র সামনে এসেছে, তা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করে দিয়েছে। অর্ধবার্ষিক এই সময়ে কোম্পানিটির নিট লোকসান আগের বছরের তুলনায় আরও ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত বছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ১.২৩ টাকা, যা চলতি অর্থবছরের একই সময়ে লাফিয়ে দাঁড়িয়েছে ১.৫৮ টাকায়। অর্থাৎ প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে লোকসানের বোঝা বেড়েছে আরও ০.৩৫ টাকা। বছরের পর বছর এই ধারা চলতে থাকায় বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশের আশা তো দূরে থাক, মূলধন হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর ২৫)। এই তিন মাসে কোম্পানিটি যে আর্থিক ফলাফল দেখিয়েছে তা রীতিমতো আতঙ্কজনক। গত বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে যেখানে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল মাত্র ০.৩৩ টাকা, এবার তা ১৫৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ০.৮৫ টাকায়। মাত্র তিন মাসে লোকসানের এই বিশাল উল্লম্ফন কোম্পানির অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদন সক্ষমতার ভঙ্গুর দশাকেই নগ্নভাবে ফুটিয়ে তুলছে।
টানা লোকসানের এই বিষাক্ত ছোবল সরাসরি গিয়ে পড়েছে কোম্পানির নিট সম্পদ মূল্যের ওপর। গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (NAVPS) এখন মাত্র ৪.০৫ টাকায় এসে ঠেকেছে। যেখানে একটি শেয়ারের ফেসভ্যালু ১০ টাকা, সেখানে সম্পদ মূল্য ৪ টাকার ঘরে নেমে আসা মানে কোম্পানিটির আর্থিক ভিত্তি এখন চরমভাবে নড়বড়ে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আনলিমা ইয়ার্নের এই ভয়াবহ পতনের পেছনে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং বিপণন কৌশলের অভাব স্পষ্ট। লোকসানের এই লাগামহীন দৌড় এখনই থামানো না গেলে কোম্পানিটি অচিরেই তার সবটুকু মূলধন হারিয়ে দেউলিয়া হওয়ার পথে এগিয়ে যাবে।
হৃদয় 























