বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক আইনগত সংস্কারের ফলে দেশের পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তি এবং আইপিও (ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং) প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক সহজ ও স্বচ্ছ হয়েছে। গত রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি ভবনে অংশীজনদের সাথে আয়োজিত পঞ্চম মাসিক সমন্বয় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাজারের কাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনাই বর্তমানে কমিশনের প্রধান অগ্রাধিকার।
চেয়ারম্যান সভায় জানান, ২০২৫ সাল নাগাদ কমিশন তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রেগুলেটরি সংস্কার সম্পন্ন করেছে। সংস্কারকৃত বিধিমালাগুলোর মধ্যে রয়েছে মার্জিন রুলস, মিউচুয়াল ফান্ড রুলস এবং পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ রুলস। এই পরিবর্তনগুলোকে পুঁজিবাজারের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত সংস্কারের একটি বড় অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইপিও হচ্ছে শেয়ারবাজারের ‘হৃৎপিণ্ড’। নতুন নিয়মের ফলে দীর্ঘদিনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর হয়েছে, যা তালিকাভুক্তির পথকে আরও কার্যকর করে তুলবে।
সমন্বয় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী এবং শেয়ারবাজার শক্তিশালীকরণ কমিটির চেয়ারম্যান আনিসুজ্জামান চৌধুরী। তিনি বাজারের কাঠামোগত বাধাগুলো দূর করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। বিএসইসি-র এই আলোচনার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের নিয়মিত সংলাপের মাধ্যমেই প্রকৃত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে বাস্তবমুখী সমাধান বের করা সম্ভব। তিনি বর্তমান সংকট কাটিয়ে দ্রুত একটি দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন রূপরেখা বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি বিশদ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে নতুন আর্থিক পণ্যের প্রবর্তন, ই-কেওয়াইসি এবং অনলাইনের মাধ্যমে বিও অ্যাকাউন্ট খোলার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং একটি শক্তিশালী কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠা। এছাড়া বাজারে সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত করা এবং সিসিবিএল-এর কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রযুক্তির উন্নয়নের মাধ্যমে বাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ডিজিটাল সংযোগ বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।
গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, সিসিবিএল চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ওয়াহিদ-উজ-জামান, ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম এবং আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথসহ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন ও সিডিবিএল-এর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় তারা দেশব্যাপী বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম জোরদার এবং মার্চেন্ট ব্যাংকিংয়ের পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে একমত পোষণ করেন।
অনলাইন ডেস্ক 























