০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

অনুসন্ধানে বিকন ফার্মা: অর্থ পাচার ও জালিয়াতির নেপথ্যে কারা?

পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত ওষুধ খাতের জায়ান্ট বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ পাচার, ঋণ জালিয়াতি এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগগুলো এখন কেবল গুঞ্জন নয়, বরং বিএফআইইউ-এর গোয়েন্দা প্রতিবেদনে প্রমাণিত এক ভয়াবহ সত্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এই কর্পোরেট লুটপাটের শিকড় উপড়ে ফেলতে তিন সদস্যের একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে এই কমিটিকে বিকন গ্রুপের যাবতীয় তথ্য জনসমক্ষে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনায় থাকা রাঘববোয়ালদের জন্য এক চরম সতর্কবার্তা।

বাংলাদেশ ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) বিস্ফোরক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস তার সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জনৈক প্রভাবশালী মহলের স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। অভিযোগের তীর মূলত কোম্পানিটির অর্থ ভিন্ন খাতে সরিয়ে নেওয়ার দিকে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন কীভাবে মূল কোম্পানির সম্পদ ও উৎপাদিত পণ্য বিকন মেডিকেয়ারের ব্যানারে বিক্রি করেছে এবং শেয়ারহোল্ডারদের প্রাপ্য মুনাফা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এটি কেবল ব্যবসায়িক অনিয়ম নয়, বরং হাজার হাজার সাধারণ বিনিয়োগকারীর বিশ্বাসের ওপর এক চরম কুঠারাঘাত।

তদন্তের সবচেয়ে ভয়ংকর দিকটি হলো ঋণের অর্থের অপব্যবহার। অভিযোগ উঠেছে যে, বিকন ফার্মাসিউটিক্যালসের নামে ব্যাংক থেকে নেওয়া শত শত কোটি টাকার ঋণের অর্থ দিয়ে বিকন গ্রুপের অন্য রুগ্ন প্রতিষ্ঠানের ঋণ সমন্বয় করা হয়েছে। এমনকি ওভারড্রাফট সুবিধার টাকা কৌশলে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলেও শক্তিশালী প্রমাণ মিলেছে। এই ধরণের আর্থিক নয়ছয় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সরাসরি লঙ্ঘন, যা কোম্পানিটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের আইনি কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জন্য যথেষ্ট।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৫ সালে কোম্পানিটি ৪.১০ টাকা শেয়ারপ্রতি মুনাফা দেখিয়ে এবং ২১ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে বিনিয়োগকারীদের চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টা করেছে। অথচ ভেতরে ভেতরে প্রায় ১,০০০ কোটি টাকার ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে কোম্পানির ওপর। এর মধ্যে ৬৮৮ কোটি টাকার স্বল্পমেয়াদী ঋণ কোম্পানিটির ভবিষ্যৎকে খাদের কিনারায় নিয়ে দাঁড় করিয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৬০ শতাংশ শেয়ারের বিপরীতে মুষ্টিমেয় উদ্যোক্তা পরিচালকদের এই একচেটিয়া লুটপাটের মহোৎসব পুঁজিবাজারের শৃঙ্খলাকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিএসইসির এই কঠোর অবস্থান এবং শেখ মাহবুব উর রহমানের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানই এখন বলে দেবে, সাধারণ মানুষের কষ্টের টাকায় গড়া এই প্রতিষ্ঠানটি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পকেট ভরার মেশিন হয়ে থাকবে নাকি স্বচ্ছতা ফিরে পাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

অনুসন্ধানে বিকন ফার্মা: অর্থ পাচার ও জালিয়াতির নেপথ্যে কারা?

প্রকাশিত : ১১:৪৭:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত ওষুধ খাতের জায়ান্ট বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ পাচার, ঋণ জালিয়াতি এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগগুলো এখন কেবল গুঞ্জন নয়, বরং বিএফআইইউ-এর গোয়েন্দা প্রতিবেদনে প্রমাণিত এক ভয়াবহ সত্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এই কর্পোরেট লুটপাটের শিকড় উপড়ে ফেলতে তিন সদস্যের একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে এই কমিটিকে বিকন গ্রুপের যাবতীয় তথ্য জনসমক্ষে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনায় থাকা রাঘববোয়ালদের জন্য এক চরম সতর্কবার্তা।

বাংলাদেশ ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) বিস্ফোরক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস তার সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জনৈক প্রভাবশালী মহলের স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। অভিযোগের তীর মূলত কোম্পানিটির অর্থ ভিন্ন খাতে সরিয়ে নেওয়ার দিকে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন কীভাবে মূল কোম্পানির সম্পদ ও উৎপাদিত পণ্য বিকন মেডিকেয়ারের ব্যানারে বিক্রি করেছে এবং শেয়ারহোল্ডারদের প্রাপ্য মুনাফা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এটি কেবল ব্যবসায়িক অনিয়ম নয়, বরং হাজার হাজার সাধারণ বিনিয়োগকারীর বিশ্বাসের ওপর এক চরম কুঠারাঘাত।

তদন্তের সবচেয়ে ভয়ংকর দিকটি হলো ঋণের অর্থের অপব্যবহার। অভিযোগ উঠেছে যে, বিকন ফার্মাসিউটিক্যালসের নামে ব্যাংক থেকে নেওয়া শত শত কোটি টাকার ঋণের অর্থ দিয়ে বিকন গ্রুপের অন্য রুগ্ন প্রতিষ্ঠানের ঋণ সমন্বয় করা হয়েছে। এমনকি ওভারড্রাফট সুবিধার টাকা কৌশলে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলেও শক্তিশালী প্রমাণ মিলেছে। এই ধরণের আর্থিক নয়ছয় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সরাসরি লঙ্ঘন, যা কোম্পানিটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের আইনি কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জন্য যথেষ্ট।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৫ সালে কোম্পানিটি ৪.১০ টাকা শেয়ারপ্রতি মুনাফা দেখিয়ে এবং ২১ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে বিনিয়োগকারীদের চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টা করেছে। অথচ ভেতরে ভেতরে প্রায় ১,০০০ কোটি টাকার ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে কোম্পানির ওপর। এর মধ্যে ৬৮৮ কোটি টাকার স্বল্পমেয়াদী ঋণ কোম্পানিটির ভবিষ্যৎকে খাদের কিনারায় নিয়ে দাঁড় করিয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৬০ শতাংশ শেয়ারের বিপরীতে মুষ্টিমেয় উদ্যোক্তা পরিচালকদের এই একচেটিয়া লুটপাটের মহোৎসব পুঁজিবাজারের শৃঙ্খলাকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিএসইসির এই কঠোর অবস্থান এবং শেখ মাহবুব উর রহমানের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানই এখন বলে দেবে, সাধারণ মানুষের কষ্টের টাকায় গড়া এই প্রতিষ্ঠানটি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পকেট ভরার মেশিন হয়ে থাকবে নাকি স্বচ্ছতা ফিরে পাবে।