০৪:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

সপ্তাহের শুরুতেই ধাক্কা: প্রত্যাশা ভেঙে লাল সাগরে ডুবল শেয়ারবাজার

গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন দেখে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে আশার সঞ্চার হয়েছিল—চলতি সপ্তাহের সূচনা হবে ইতিবাচক ধারায়—তা প্রথম দিনেই ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে শেয়ারবাজারে ফিরে এসেছে হতাশা ও অনিশ্চয়তার চেনা চিত্র। দিনের শুরুতে সামান্য ইতিবাচক ইঙ্গিত মিললেও লেনদেন গড়াতেই বাজার দ্রুত ঢলে পড়ে নেতিবাচক ধারায়।

সূচকের টানা পতনে বিনিয়োগকারীদের বড় একটি অংশ চাপে পড়লেও, কেউ কেউ এটিকে স্বল্পমেয়াদি সংশোধন হিসেবেই দেখছেন। তাদের মতে, বাজারের এই আচরণ সাময়িক এবং সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ এখনো শেষ হয়ে যায়নি। তবে বাস্তবতায় দিনের লেনদেন বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশার সঙ্গে একেবারেই সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আজকের পতনকে অতিরিক্ত আতঙ্কের চোখে দেখার প্রয়োজন নেই। পুঁজিবাজার স্বভাবতই ওঠানামার মধ্য দিয়েই চলে, আর প্রত্যাশার বিপরীতে গিয়ে এমন আচরণ নতুন কিছু নয়। তবুও তারা সতর্ক করে বলেন, এই পরিস্থিতিতে ধৈর্য হারালে ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। বাজারের গতি বুঝে সংযত সিদ্ধান্ত নেওয়াই এখন বিনিয়োগকারীদের জন্য সবচেয়ে জরুরি।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা যায়, সপ্তাহের প্রথম দিনেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩০.৮৬ পয়েন্ট কমে নেমে এসেছে ৪ হাজার ৯৩২.৯৬ পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস কমেছে ৬.৪৫ পয়েন্ট, দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৮.০১ পয়েন্টে। ব্লু-চিপ সূচক ডিএসই-৩০ হারিয়েছে ১১.৮০ পয়েন্ট, অবস্থান করছে ১ হাজার ৮৯১.৪৮ পয়েন্টে।

এদিন ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয় ৩৯১টি কোম্পানি। এর মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র ৭৯টির, বিপরীতে দর কমেছে ২৪৯টির—যা বাজারে বিক্রির চাপের নগ্ন চিত্র তুলে ধরে। অপরিবর্তিত ছিল ৬৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট।

লেনদেনের অঙ্কেও স্পষ্ট হয়েছে মন্দাভাব। ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৪৫৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ৪৬৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকার তুলনায় কম। একদিনেই লেনদেন কমেছে ৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা—বিনিয়োগকারীদের অনীহার আরেকটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই চিত্র। সিএসইতে আজ লেনদেন হয়েছে মাত্র ১২ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যেখানে আগের দিন ছিল ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এখানে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৭৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর বেড়েছে ৭০টির, কমেছে ৮২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২১টির। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২৭.২১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৮৪৪.৪৮ পয়েন্টে—আগের দিনের উত্থানের সবটাই যেন একদিনেই উধাও।

সব মিলিয়ে সপ্তাহের শুরুতেই বাজার যে বার্তা দিল, তা স্পষ্ট—প্রত্যাশা আর বাস্তবতার ফারাক এখনো প্রকট। সামনে পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা থাকলেও, বর্তমান বাজার বিনিয়োগকারীদের জন্য ধৈর্য ও সতর্কতার কঠিন পরীক্ষাই নিচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সপ্তাহের শুরুতেই ধাক্কা: প্রত্যাশা ভেঙে লাল সাগরে ডুবল শেয়ারবাজার

প্রকাশিত : ০৪:১৪:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন দেখে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে আশার সঞ্চার হয়েছিল—চলতি সপ্তাহের সূচনা হবে ইতিবাচক ধারায়—তা প্রথম দিনেই ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে শেয়ারবাজারে ফিরে এসেছে হতাশা ও অনিশ্চয়তার চেনা চিত্র। দিনের শুরুতে সামান্য ইতিবাচক ইঙ্গিত মিললেও লেনদেন গড়াতেই বাজার দ্রুত ঢলে পড়ে নেতিবাচক ধারায়।

সূচকের টানা পতনে বিনিয়োগকারীদের বড় একটি অংশ চাপে পড়লেও, কেউ কেউ এটিকে স্বল্পমেয়াদি সংশোধন হিসেবেই দেখছেন। তাদের মতে, বাজারের এই আচরণ সাময়িক এবং সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ এখনো শেষ হয়ে যায়নি। তবে বাস্তবতায় দিনের লেনদেন বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশার সঙ্গে একেবারেই সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আজকের পতনকে অতিরিক্ত আতঙ্কের চোখে দেখার প্রয়োজন নেই। পুঁজিবাজার স্বভাবতই ওঠানামার মধ্য দিয়েই চলে, আর প্রত্যাশার বিপরীতে গিয়ে এমন আচরণ নতুন কিছু নয়। তবুও তারা সতর্ক করে বলেন, এই পরিস্থিতিতে ধৈর্য হারালে ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। বাজারের গতি বুঝে সংযত সিদ্ধান্ত নেওয়াই এখন বিনিয়োগকারীদের জন্য সবচেয়ে জরুরি।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা যায়, সপ্তাহের প্রথম দিনেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩০.৮৬ পয়েন্ট কমে নেমে এসেছে ৪ হাজার ৯৩২.৯৬ পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস কমেছে ৬.৪৫ পয়েন্ট, দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৮.০১ পয়েন্টে। ব্লু-চিপ সূচক ডিএসই-৩০ হারিয়েছে ১১.৮০ পয়েন্ট, অবস্থান করছে ১ হাজার ৮৯১.৪৮ পয়েন্টে।

এদিন ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয় ৩৯১টি কোম্পানি। এর মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র ৭৯টির, বিপরীতে দর কমেছে ২৪৯টির—যা বাজারে বিক্রির চাপের নগ্ন চিত্র তুলে ধরে। অপরিবর্তিত ছিল ৬৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট।

লেনদেনের অঙ্কেও স্পষ্ট হয়েছে মন্দাভাব। ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৪৫৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ৪৬৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকার তুলনায় কম। একদিনেই লেনদেন কমেছে ৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা—বিনিয়োগকারীদের অনীহার আরেকটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই চিত্র। সিএসইতে আজ লেনদেন হয়েছে মাত্র ১২ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যেখানে আগের দিন ছিল ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এখানে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৭৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর বেড়েছে ৭০টির, কমেছে ৮২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২১টির। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২৭.২১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৮৪৪.৪৮ পয়েন্টে—আগের দিনের উত্থানের সবটাই যেন একদিনেই উধাও।

সব মিলিয়ে সপ্তাহের শুরুতেই বাজার যে বার্তা দিল, তা স্পষ্ট—প্রত্যাশা আর বাস্তবতার ফারাক এখনো প্রকট। সামনে পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা থাকলেও, বর্তমান বাজার বিনিয়োগকারীদের জন্য ধৈর্য ও সতর্কতার কঠিন পরীক্ষাই নিচ্ছে।