০৩:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

খেলাপি ঋণ মুছতে এবার পুরস্কার: নতুন নীতিমালা জারি

দীর্ঘদিন অনাদায় থাকা মন্দ ও ক্ষতিজনক ঋণ অবলোপনের (write-off) সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এ ক্ষেত্রে শতভাগ নিরাপত্তা সঞ্চিতি (provisioning) রাখতে হবে এবং ঋণগ্রহিতাকে কমপক্ষে ৩০ দিন আগে লিখিতভাবে অবহিত করতে হবে। একই সঙ্গে অবলোপনকৃত ঋণ আদায় করতে পারলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নগদ প্রণোদনা দেওয়ারও সুযোগ থাকছে।

রোববার (১৯ অক্টোবর) এই বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)-এর অনুরোধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী ও ঋণদাতা সংস্থাগুলোরও এ বিষয়ে পরামর্শ ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে অনাদায়ি থাকা ঋণ স্থিতিপত্রে প্রদর্শনের ফলে ব্যাংকগুলোর আর্থিক বিবরণীতে অবলোপনযোগ্য ঋণের পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। তাই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতিমালা অনুসারে এসব মন্দ ও ক্ষতিজনক ঋণ অবলোপনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

নীতিমালা অনুযায়ী, যেসব ঋণ টানা দুই বছর ধরে “মন্দ ও ক্ষতিজনক” শ্রেণিতে রয়েছে, সেগুলো অবলোপন করা যাবে। তবে গ্রাহক তাঁর দায় পরিশোধ না করা পর্যন্ত খেলাপি হিসেবেই চিহ্নিত থাকবেন। সেই কারণে অবলোপনের আগে ঋণগ্রহিতাকে লিখিতভাবে জানাতে হবে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে আদায়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ এমন সব মন্দ ও ক্ষতিজনক ঋণ অবলোপন করা যাবে। তবে অধিক পুরোনো শ্রেণিকৃত ঋণগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাদ দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে অন্তত ৩০ কর্মদিবস আগে নোটিশ পাঠানো বাধ্যতামূলক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বের নীতিমালায় বলা ছিল—কোনো ঋণ টানা দুই বছর মন্দ ও ক্ষতিজনক না হলে সেটি অবলোপন করা যাবে না।

নতুন প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, অবলোপনকৃত ঋণ আদায়ে সফল কর্মকর্তারা ব্যাংকের নিজস্ব নীতিমালার আলোকে নগদ প্রণোদনা পাবেন। কোনো ব্যাংকের এ–সংক্রান্ত নীতিমালা না থাকলে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনক্রমে তা তৈরি করতে হবে।

আগের নিয়মে অবলোপনকৃত ঋণ আদায়ের ৫ শতাংশ অর্থ প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া হতো, যার মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পেতেন ১০ শতাংশ, আর অন্যান্য কর্মকর্তারা পেতেন ৯০ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নতুন নীতিমালা ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

খেলাপি ঋণ মুছতে এবার পুরস্কার: নতুন নীতিমালা জারি

প্রকাশিত : ০৬:০৮:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

দীর্ঘদিন অনাদায় থাকা মন্দ ও ক্ষতিজনক ঋণ অবলোপনের (write-off) সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এ ক্ষেত্রে শতভাগ নিরাপত্তা সঞ্চিতি (provisioning) রাখতে হবে এবং ঋণগ্রহিতাকে কমপক্ষে ৩০ দিন আগে লিখিতভাবে অবহিত করতে হবে। একই সঙ্গে অবলোপনকৃত ঋণ আদায় করতে পারলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নগদ প্রণোদনা দেওয়ারও সুযোগ থাকছে।

রোববার (১৯ অক্টোবর) এই বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)-এর অনুরোধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী ও ঋণদাতা সংস্থাগুলোরও এ বিষয়ে পরামর্শ ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে অনাদায়ি থাকা ঋণ স্থিতিপত্রে প্রদর্শনের ফলে ব্যাংকগুলোর আর্থিক বিবরণীতে অবলোপনযোগ্য ঋণের পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। তাই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতিমালা অনুসারে এসব মন্দ ও ক্ষতিজনক ঋণ অবলোপনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

নীতিমালা অনুযায়ী, যেসব ঋণ টানা দুই বছর ধরে “মন্দ ও ক্ষতিজনক” শ্রেণিতে রয়েছে, সেগুলো অবলোপন করা যাবে। তবে গ্রাহক তাঁর দায় পরিশোধ না করা পর্যন্ত খেলাপি হিসেবেই চিহ্নিত থাকবেন। সেই কারণে অবলোপনের আগে ঋণগ্রহিতাকে লিখিতভাবে জানাতে হবে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে আদায়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ এমন সব মন্দ ও ক্ষতিজনক ঋণ অবলোপন করা যাবে। তবে অধিক পুরোনো শ্রেণিকৃত ঋণগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাদ দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে অন্তত ৩০ কর্মদিবস আগে নোটিশ পাঠানো বাধ্যতামূলক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বের নীতিমালায় বলা ছিল—কোনো ঋণ টানা দুই বছর মন্দ ও ক্ষতিজনক না হলে সেটি অবলোপন করা যাবে না।

নতুন প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, অবলোপনকৃত ঋণ আদায়ে সফল কর্মকর্তারা ব্যাংকের নিজস্ব নীতিমালার আলোকে নগদ প্রণোদনা পাবেন। কোনো ব্যাংকের এ–সংক্রান্ত নীতিমালা না থাকলে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনক্রমে তা তৈরি করতে হবে।

আগের নিয়মে অবলোপনকৃত ঋণ আদায়ের ৫ শতাংশ অর্থ প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া হতো, যার মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পেতেন ১০ শতাংশ, আর অন্যান্য কর্মকর্তারা পেতেন ৯০ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নতুন নীতিমালা ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।