০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

শেয়ারবাজার নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হচ্ছে না চলতি বছরে

বিএসইসির সাথে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতভিন্নতা দূর করতে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকটি আর এ বছরে আর হচ্ছে না। নতুন বছরের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের।

গেলো ৭ ডিসেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের আলোচিত সেই বৈঠক শেষে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় পরবর্তী বৈঠক নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন বিনিয়োগকারীরা। বৈঠকে জানানো হয়, চলতি মাসের শেষে বা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে আরও একটি বৈঠকের পর সুনির্দিষ্ট ঘোষণা আসবে।

আলোচিত সেই বৈঠকের পর ক্রমাগতভাবে দরপতন ঘটেছে শেয়ারবাজারে। গেলো ১২ কর্মদিবসের মধ্যে ১০ দিনেই সূচক পড়ে ৪১৯ পয়েন্ট। এ পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় সেই বৈঠকের অপেক্ষার প্রহর গুনছেন বিনিয়োগকারীরা, এখনও জানতে পারছেন না কবে নাগাদ হতে পারে সেই আশাজাগানিয়া বৈঠক।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, চার দিন বাদেই শেষ হবে চলতি বছর। কিন্তু এখন পর্যন্ত ত্রিপক্ষীয় বৈঠক নিয়ে পুনরায় বসার সময়সূচি ঠিক করতে পারেনি মন্ত্রণালয়। গেলো বৈঠকের সারসংক্ষেপই এখনও তৈরি হয়নি। ফলে পরের বৈঠকের জন্য নথিপত্র প্রস্তুত করা যায়নি।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব নাহিদ হোসেন বলেন, ‘করোনার কারণে দীর্ঘ বিরতির পর ৭ ডিসেম্বর এ সম্পর্কিত প্রথম বৈঠক হয়েছে। এখনও ওই বৈঠকের আলোচনার সার্বিক বিষয় নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কার্যপত্র তৈরি শেষ হয়নি। তা শেষ হলেই মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচি দেখে পুনরায় বৈঠক বসার সময়সূচি ঠিক করা হবে।’

জানতে চাইলে সেই বৈঠকের প্রধান অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এবং শেয়ারবাজার কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকি কমিটির আহ্বায়ক মফিজ উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘এখনও পরবর্তী বৈঠকের সময়সূচি ঠিক করা সম্ভব হয়নি। চলতি বছরে পুঁজিবাজার উন্নয়নসংক্রান্ত বৈঠকে বসা আর হবে না। নতুন বছরের প্রথম মাসেই এ বিষয়ে আমরা বৈঠকে বসব।’

এমটিবি ক্যাপিটালের প্রধান নির্বাহী খায়রুল বাশার মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, যেহেতু এ বৈঠকটিকে ঘিরে শেয়ারবাজারে টালমাটাল অবস্থা, তাই যত দ্রুত সম্ভব সেটি হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, ‘শেয়ারবাজারে বর্তমান অবস্থায় এ ধরনের মিটিং আবার হওয়া উচিত ছিল। কারণ বলা হয়েছিল, পরবর্তী মিটিংয়ে সৃষ্ট জটিলতার সমাধানের বিষয়ে কথা হবে। যেহেতু এই সময়ে হচ্ছে না, সেহেতু অপেক্ষা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয়ে যে কমিটির কথা বলা হচ্ছে সেটি আগে থেকেই গঠন করা। তারা বিভিন্ন সময় শেয়ারবাজার বিষয়ে সমন্বয় মিটিং করে থাকেন। শেয়ারবাজার ভালো থাকুক আর মন্দ থাকুক, এ ধরনের মিটিং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আগ্রহ তৈরি করে।’

তবে এ বৈঠকেই শেয়ারবাজারে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, সেটি ভাবেন না খায়রুল বাশার। তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত, কোম্পানির শেয়ার বাছাই ইত্যাদির ওপরও শেয়ারবাজার ফান্ডামেন্টাল নির্ভর করে।’

জনপ্রিয় সংবাদ

শেয়ারবাজার নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হচ্ছে না চলতি বছরে

প্রকাশিত : ০৫:১১:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২১

বিএসইসির সাথে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতভিন্নতা দূর করতে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকটি আর এ বছরে আর হচ্ছে না। নতুন বছরের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের।

গেলো ৭ ডিসেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের আলোচিত সেই বৈঠক শেষে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় পরবর্তী বৈঠক নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন বিনিয়োগকারীরা। বৈঠকে জানানো হয়, চলতি মাসের শেষে বা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে আরও একটি বৈঠকের পর সুনির্দিষ্ট ঘোষণা আসবে।

আলোচিত সেই বৈঠকের পর ক্রমাগতভাবে দরপতন ঘটেছে শেয়ারবাজারে। গেলো ১২ কর্মদিবসের মধ্যে ১০ দিনেই সূচক পড়ে ৪১৯ পয়েন্ট। এ পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় সেই বৈঠকের অপেক্ষার প্রহর গুনছেন বিনিয়োগকারীরা, এখনও জানতে পারছেন না কবে নাগাদ হতে পারে সেই আশাজাগানিয়া বৈঠক।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, চার দিন বাদেই শেষ হবে চলতি বছর। কিন্তু এখন পর্যন্ত ত্রিপক্ষীয় বৈঠক নিয়ে পুনরায় বসার সময়সূচি ঠিক করতে পারেনি মন্ত্রণালয়। গেলো বৈঠকের সারসংক্ষেপই এখনও তৈরি হয়নি। ফলে পরের বৈঠকের জন্য নথিপত্র প্রস্তুত করা যায়নি।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব নাহিদ হোসেন বলেন, ‘করোনার কারণে দীর্ঘ বিরতির পর ৭ ডিসেম্বর এ সম্পর্কিত প্রথম বৈঠক হয়েছে। এখনও ওই বৈঠকের আলোচনার সার্বিক বিষয় নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কার্যপত্র তৈরি শেষ হয়নি। তা শেষ হলেই মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচি দেখে পুনরায় বৈঠক বসার সময়সূচি ঠিক করা হবে।’

জানতে চাইলে সেই বৈঠকের প্রধান অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এবং শেয়ারবাজার কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকি কমিটির আহ্বায়ক মফিজ উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘এখনও পরবর্তী বৈঠকের সময়সূচি ঠিক করা সম্ভব হয়নি। চলতি বছরে পুঁজিবাজার উন্নয়নসংক্রান্ত বৈঠকে বসা আর হবে না। নতুন বছরের প্রথম মাসেই এ বিষয়ে আমরা বৈঠকে বসব।’

এমটিবি ক্যাপিটালের প্রধান নির্বাহী খায়রুল বাশার মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, যেহেতু এ বৈঠকটিকে ঘিরে শেয়ারবাজারে টালমাটাল অবস্থা, তাই যত দ্রুত সম্ভব সেটি হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, ‘শেয়ারবাজারে বর্তমান অবস্থায় এ ধরনের মিটিং আবার হওয়া উচিত ছিল। কারণ বলা হয়েছিল, পরবর্তী মিটিংয়ে সৃষ্ট জটিলতার সমাধানের বিষয়ে কথা হবে। যেহেতু এই সময়ে হচ্ছে না, সেহেতু অপেক্ষা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয়ে যে কমিটির কথা বলা হচ্ছে সেটি আগে থেকেই গঠন করা। তারা বিভিন্ন সময় শেয়ারবাজার বিষয়ে সমন্বয় মিটিং করে থাকেন। শেয়ারবাজার ভালো থাকুক আর মন্দ থাকুক, এ ধরনের মিটিং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আগ্রহ তৈরি করে।’

তবে এ বৈঠকেই শেয়ারবাজারে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, সেটি ভাবেন না খায়রুল বাশার। তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত, কোম্পানির শেয়ার বাছাই ইত্যাদির ওপরও শেয়ারবাজার ফান্ডামেন্টাল নির্ভর করে।’