১১:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এনবিএফআই খাত: ১২ বছরে অনিয়ম-জালিয়াতিতে খেলাপি বেড়েছে ১৬ হাজার কোটি টাকা

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত : ০৬:২৫:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 34

অনিয়ম, জালিয়াতি এবং দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে দেশের ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে (এনবিএফআই) সংকটের মেঘ আরও ঘনীভূত হচ্ছে। প্রভাব খাটিয়ে নামে-বেনামে বিতরণ করা বিপুল অংকের ঋণের বড় অংশই আর ফেরত আসছে না। ফলে লাগামহীনভাবে বাড়ছে খেলাপি ঋণের বোঝা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন প্রান্তিক শেষে এ খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮,৪৩২ কোটি ১৯ লাখ টাকায়, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ২৩.৬০ শতাংশ। অথচ ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের সময় খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ১,৯৭০ কোটি টাকা। ফলে বিগত ১২ বছরে এ খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৬,৪৬২ কোটি টাকা।

পরিসংখ্যান ও বর্তমান চিত্র:

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  এক্সলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

মোট আমানত: ৫২,৩৫৬.৪৮ কোটি টাকা

মোট ঋণ ও অগ্রিম: ৭৮,১১৪.৫৬ কোটি টাকা

খেলাপি ঋণ: ১৮,৪৩২.১৯ কোটি টাকা (২৩.৬০%)

সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজনৈতিক মদদপুষ্টরা ভুয়া নামে ঋণ নিয়ে সটকে পড়ায় অনেক ক্ষেত্রে খেলাপিদের শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে খাতায় বিশাল অংকের বকেয়া দেখালেও আদায়ের ঘরে শূন্যই থেকে যাচ্ছে।

ঝুঁকিতে আমানতকারীদের অর্থ:

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মতে, অন্তত ২০টি এনবিএফআই দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের আমানতের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। এর মধ্যে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, এফএএস ফাইন্যান্স এবং বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম উল্লেখযোগ্য। তদারকির অভাব ও সুশাসনের ঘাটতিতে এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর সাধারণ গ্রাহকরা আস্থা হারিয়ে ফেলছেন।

বিশেষজ্ঞ মতামত:

বিষয়টি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেওয়া কিছু নীতিমালার কারণে ঋণখেলাপিরা ছাড় পেয়েছেন। এর ফলে যারা নিয়মিত ঋণ শোধ করেন তারা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন, আর খেলাপিরা সুবিধা পাচ্ছেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি হওয়া উচিত টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার কঠোর তদারকি জোরদার করা জরুরি।

জনপ্রিয় সংবাদ

এনবিএফআই খাত: ১২ বছরে অনিয়ম-জালিয়াতিতে খেলাপি বেড়েছে ১৬ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশিত : ০৬:২৫:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অনিয়ম, জালিয়াতি এবং দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে দেশের ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে (এনবিএফআই) সংকটের মেঘ আরও ঘনীভূত হচ্ছে। প্রভাব খাটিয়ে নামে-বেনামে বিতরণ করা বিপুল অংকের ঋণের বড় অংশই আর ফেরত আসছে না। ফলে লাগামহীনভাবে বাড়ছে খেলাপি ঋণের বোঝা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন প্রান্তিক শেষে এ খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮,৪৩২ কোটি ১৯ লাখ টাকায়, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ২৩.৬০ শতাংশ। অথচ ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের সময় খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ১,৯৭০ কোটি টাকা। ফলে বিগত ১২ বছরে এ খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৬,৪৬২ কোটি টাকা।

পরিসংখ্যান ও বর্তমান চিত্র:

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  এক্সলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

মোট আমানত: ৫২,৩৫৬.৪৮ কোটি টাকা

মোট ঋণ ও অগ্রিম: ৭৮,১১৪.৫৬ কোটি টাকা

খেলাপি ঋণ: ১৮,৪৩২.১৯ কোটি টাকা (২৩.৬০%)

সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজনৈতিক মদদপুষ্টরা ভুয়া নামে ঋণ নিয়ে সটকে পড়ায় অনেক ক্ষেত্রে খেলাপিদের শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে খাতায় বিশাল অংকের বকেয়া দেখালেও আদায়ের ঘরে শূন্যই থেকে যাচ্ছে।

ঝুঁকিতে আমানতকারীদের অর্থ:

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মতে, অন্তত ২০টি এনবিএফআই দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের আমানতের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। এর মধ্যে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, এফএএস ফাইন্যান্স এবং বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম উল্লেখযোগ্য। তদারকির অভাব ও সুশাসনের ঘাটতিতে এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর সাধারণ গ্রাহকরা আস্থা হারিয়ে ফেলছেন।

বিশেষজ্ঞ মতামত:

বিষয়টি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেওয়া কিছু নীতিমালার কারণে ঋণখেলাপিরা ছাড় পেয়েছেন। এর ফলে যারা নিয়মিত ঋণ শোধ করেন তারা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন, আর খেলাপিরা সুবিধা পাচ্ছেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি হওয়া উচিত টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার কঠোর তদারকি জোরদার করা জরুরি।