১১:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আরও এক বাংলাদেশির মৃত্যু

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত : ০৩:১০:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 50

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের চান্দেরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আসাদুল হকের (৩৫) মৃত্যুর পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোস্তাকিম (৩৮) নামে আরও এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ শ্রী উদা চন্দ্র (৩৫) নামে আরেক বাংলাদেশি যুবককে আটক করেছে বিএসএফ।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার বৈরচুনা ইউনিয়নের চান্দেরহাট বিওপি এলাকার সীমান্ত পিলার ৩৩৩/এমপির কাছাকাছি ভারতের উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ বসুদেবপুর সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আসাদুল হক পীরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ইন্দ্রইল গ্রামের ওয়াজেদ আলীর ছেলে এবং মোস্তাকিম উত্তর ইন্দ্রইল গ্রামের আহেদ আলীর ছেলে। আহত শ্রী উদা চন্দ্র একই গ্রামের মনশা চন্দ্র রায়ের ছেলে।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  এক্সলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বৈরচুনা সীমান্তের বিপরীতে ভারতের বিএসএফের ৬৩/চকশিবানন্দ ও ১২১ ব্যাটালিয়নের বসুদেবপুর ক্যাম্প দায়িত্ব পালন করছে। শুক্রবার রাতে ও শনিবার ভোরে একদল বাংলাদেশি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন।

এতে আসাদুল হক, মোস্তাকিম ও শ্রী উদা চন্দ্র গুলিবিদ্ধ হন। পরে বিএসএফ সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে ভারতের উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জের কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে প্রথমে আসাদুল হকের মৃত্যু হয়। পরে রাতে মারা যান মোস্তাকিম। তাদের মরদেহ বর্তমানে ভারতের ওই হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ শ্রী উদা চন্দ্র বিএসএফের হেফাজতে রয়েছেন।

দিনাজপুর ৪২ বিজিবির দাবি, নিহত আসাদুল হক চিহ্নিত চোরাকারবারি ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

বৈরচুনা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. শাহাজাহান আলী বলেন, নিহত দুজনই তাদের এলাকার বাসিন্দা। তাদের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং বিষয়টি বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাত হোসেন সীমান্তে হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দিনাজপুর ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, সীমান্তে হতাহতের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিএসএফের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগের পাশাপাশি নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আরও এক বাংলাদেশির মৃত্যু

প্রকাশিত : ০৩:১০:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের চান্দেরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আসাদুল হকের (৩৫) মৃত্যুর পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোস্তাকিম (৩৮) নামে আরও এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ শ্রী উদা চন্দ্র (৩৫) নামে আরেক বাংলাদেশি যুবককে আটক করেছে বিএসএফ।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার বৈরচুনা ইউনিয়নের চান্দেরহাট বিওপি এলাকার সীমান্ত পিলার ৩৩৩/এমপির কাছাকাছি ভারতের উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ বসুদেবপুর সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আসাদুল হক পীরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ইন্দ্রইল গ্রামের ওয়াজেদ আলীর ছেলে এবং মোস্তাকিম উত্তর ইন্দ্রইল গ্রামের আহেদ আলীর ছেলে। আহত শ্রী উদা চন্দ্র একই গ্রামের মনশা চন্দ্র রায়ের ছেলে।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  এক্সলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বৈরচুনা সীমান্তের বিপরীতে ভারতের বিএসএফের ৬৩/চকশিবানন্দ ও ১২১ ব্যাটালিয়নের বসুদেবপুর ক্যাম্প দায়িত্ব পালন করছে। শুক্রবার রাতে ও শনিবার ভোরে একদল বাংলাদেশি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন।

এতে আসাদুল হক, মোস্তাকিম ও শ্রী উদা চন্দ্র গুলিবিদ্ধ হন। পরে বিএসএফ সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে ভারতের উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জের কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে প্রথমে আসাদুল হকের মৃত্যু হয়। পরে রাতে মারা যান মোস্তাকিম। তাদের মরদেহ বর্তমানে ভারতের ওই হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ শ্রী উদা চন্দ্র বিএসএফের হেফাজতে রয়েছেন।

দিনাজপুর ৪২ বিজিবির দাবি, নিহত আসাদুল হক চিহ্নিত চোরাকারবারি ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

বৈরচুনা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. শাহাজাহান আলী বলেন, নিহত দুজনই তাদের এলাকার বাসিন্দা। তাদের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং বিষয়টি বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাত হোসেন সীমান্তে হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দিনাজপুর ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, সীমান্তে হতাহতের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিএসএফের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগের পাশাপাশি নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে।