ভবিষ্যতে বিশ্ববাজারে তেলের অতিরিক্ত সরবরাহ তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। আগামী এক বা দুই বছরের মধ্যে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
টেক্সাসের সাউদার্ন মেথডিস্ট ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বেসেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি উৎপাদন, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সম্ভাব্য সমাপ্তি এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বেড়ে যেতে পারে।
বেসেন্ট বলেন, এসব পরিবর্তনের ফলে বাজারে তেলের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি হয়ে যেতে পারে। তবে ঠিক এক বছর নাকি দুই বছরের মধ্যে এই পরিস্থিতি তৈরি হবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি। একই আলোচনায় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেকের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তার কথা বলেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী।
তাঁর বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে উল্টো বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বুধবার এশিয়ার বাণিজ্যে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১০০ ডলারে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা, সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হুতিদের হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সরবরাহ ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও বেসেন্টের ভবিষ্যৎ পূর্বাভাসের মধ্যে পার্থক্যও স্পষ্ট। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও সরবরাহ বিঘ্নের কারণে ২০২৬ সালের তেল সরবরাহ কমতে পারে। একই সময়ে ২০২৭ সালে সরবরাহ আবার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
এদিকে ওপেক ও সহযোগী দেশগুলোর জোট ওপেক+ গত ৬ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে অক্টোবরের জন্য তেল উৎপাদন নীতিতে কোনো পরিবর্তন না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে বেসেন্টের মন্তব্যটি মূলত ভবিষ্যতে সংঘাত কমে উৎপাদন ও রপ্তানি স্বাভাবিক হলে বাজারের সম্ভাব্য চিত্র নিয়ে করা পূর্বাভাস হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অনলাইন ডেস্ক 
























