১১:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিএসইসির তদন্তের পর আমরা টেকের শেয়ারে বড় পতন

অস্বাভাবিক শেয়ারদর বৃদ্ধি ও লেনদেনের বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশে তদন্ত শুরু হওয়ার পর বড় ধরনের দরপতনের মুখে পড়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আমরা টেকনোলজিসের শেয়ার।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, আমরা টেকনোলজিসের শেয়ারদর ১৪ কার্যদিবসে ২৮ দশমিক ১৪ শতাংশ কমে ১৬ টাকা ৬০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

বিএসইসি কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে প্রতিষ্ঠান দুটির শেয়ারদর ও লেনদেনে অস্বাভাবিকতার বিষয়ে তদন্ত করতে ডিএসইকে নির্দেশ দেয় কমিশন। ডিএসই ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে এবং ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন বিএসইসিতে জমা দিতে বলা হয়েছে।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  এক্সলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

কারসাজি ও ইনসাইডার ট্রেডিং খতিয়ে দেখা হবে

তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারে বাজার কারসাজি, সমন্বিত বা অপ্রকৃত লেনদেন এবং অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য (ইউপিএসআই) ব্যবহার করে ইনসাইডার ট্রেডিং হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট স্টক ব্রোকার, ডিলার ও অনুমোদিত প্রতিনিধিরা (এআর) মার্জিন ঋণসংক্রান্ত বিধিমালা এবং বিএসইসির বিভিন্ন আদেশ, প্রজ্ঞাপন ও নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালন করেছেন কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় থাকবে।

সন্দেহজনক লেনদেনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্রোকার, ডিলার ও অনুমোদিত প্রতিনিধিরা কোনোভাবে এসব লেনদেনে সহায়তা করেছেন কি না কিংবা তা প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছেন কি না, তাও খতিয়ে দেখবে ডিএসই। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এআর, কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্তকরণ এবং নিয়ন্ত্রক বিধিবিধান পরিপালন বিষয়ে সচেতন করার নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি।

আমরা টেকনোলজিসের শেয়ারে তদন্তের আগে বড় ধরনের দরবৃদ্ধি দেখা যায়। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ জুন আমরা টেকনোলজিসের শেয়ারদর ছিল ১৪ টাকা ৫০ পয়সা। ৯ আগস্ট তা বেড়ে ২৩ টাকা ১০ পয়সায় দাঁড়ায়। অর্থাৎ দেড় মাসের কিছু বেশি সময়ে শেয়ারটির দর প্রায় ৫৯ শতাংশ বেড়েছিল।

এরপর শেয়ারটিতে ব্যাপক বিক্রির চাপ তৈরি হয়। ১৪ কার্যদিবসে দর ২৮ দশমিক ১৪ শতাংশ কমে ৩০ আগস্ট ১৬ টাকা ৬০ পয়সায় নেমে আসে।

এ দরবৃদ্ধির সময় কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থাও দুর্বল ছিল। ২০২৫ অর্থবছরে আমরা টেকনোলজিস শেয়ারপ্রতি ৩ টাকা ১৭ পয়সা লোকসান করেছে। ওই সময়ে শেয়ারপ্রতি এনএভি ছিল ১৮ টাকা ৪৬ পয়সা। কোম্পানিটি ০ দশমিক ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল।

আমরা টেকনোলজিস মূলত আইটি অবকাঠামো, নেটওয়ার্কিং, ডেটা সেন্টার, সাইবার নিরাপত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং ও এন্টারপ্রাইজ প্রযুক্তি সেবা দিয়ে থাকে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার ও প্রযুক্তিভিত্তিক সেবা সরবরাহ করে কোম্পানিটি।

প্রকৃত চাহিদা নাকি কারসাজি, খতিয়ে দেখবে ডিএসই

আমরা টেকনোলজিসের শেয়ারদরে বড় উত্থান ও পরবর্তী পতনের পেছনে প্রকৃত বাজারচাহিদা ছিল, নাকি কারসাজি বা অন্য কোনো অনিয়ম ছিল—তদন্তে সেটিই মূলত খতিয়ে দেখা হবে।

বিএসইসির নির্দেশনার পর ডিএসইর তদন্তে বাজার কারসাজি, ইনসাইডার ট্রেডিং, ব্রোকার পর্যায়ের অনিয়মসহ সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএসইসির তদন্তের পর আমরা টেকের শেয়ারে বড় পতন

প্রকাশিত : ০২:২৬:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

অস্বাভাবিক শেয়ারদর বৃদ্ধি ও লেনদেনের বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশে তদন্ত শুরু হওয়ার পর বড় ধরনের দরপতনের মুখে পড়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আমরা টেকনোলজিসের শেয়ার।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, আমরা টেকনোলজিসের শেয়ারদর ১৪ কার্যদিবসে ২৮ দশমিক ১৪ শতাংশ কমে ১৬ টাকা ৬০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

বিএসইসি কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে প্রতিষ্ঠান দুটির শেয়ারদর ও লেনদেনে অস্বাভাবিকতার বিষয়ে তদন্ত করতে ডিএসইকে নির্দেশ দেয় কমিশন। ডিএসই ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে এবং ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন বিএসইসিতে জমা দিতে বলা হয়েছে।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  এক্সলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

কারসাজি ও ইনসাইডার ট্রেডিং খতিয়ে দেখা হবে

তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারে বাজার কারসাজি, সমন্বিত বা অপ্রকৃত লেনদেন এবং অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য (ইউপিএসআই) ব্যবহার করে ইনসাইডার ট্রেডিং হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট স্টক ব্রোকার, ডিলার ও অনুমোদিত প্রতিনিধিরা (এআর) মার্জিন ঋণসংক্রান্ত বিধিমালা এবং বিএসইসির বিভিন্ন আদেশ, প্রজ্ঞাপন ও নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালন করেছেন কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় থাকবে।

সন্দেহজনক লেনদেনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্রোকার, ডিলার ও অনুমোদিত প্রতিনিধিরা কোনোভাবে এসব লেনদেনে সহায়তা করেছেন কি না কিংবা তা প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছেন কি না, তাও খতিয়ে দেখবে ডিএসই। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এআর, কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্তকরণ এবং নিয়ন্ত্রক বিধিবিধান পরিপালন বিষয়ে সচেতন করার নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি।

আমরা টেকনোলজিসের শেয়ারে তদন্তের আগে বড় ধরনের দরবৃদ্ধি দেখা যায়। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ জুন আমরা টেকনোলজিসের শেয়ারদর ছিল ১৪ টাকা ৫০ পয়সা। ৯ আগস্ট তা বেড়ে ২৩ টাকা ১০ পয়সায় দাঁড়ায়। অর্থাৎ দেড় মাসের কিছু বেশি সময়ে শেয়ারটির দর প্রায় ৫৯ শতাংশ বেড়েছিল।

এরপর শেয়ারটিতে ব্যাপক বিক্রির চাপ তৈরি হয়। ১৪ কার্যদিবসে দর ২৮ দশমিক ১৪ শতাংশ কমে ৩০ আগস্ট ১৬ টাকা ৬০ পয়সায় নেমে আসে।

এ দরবৃদ্ধির সময় কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থাও দুর্বল ছিল। ২০২৫ অর্থবছরে আমরা টেকনোলজিস শেয়ারপ্রতি ৩ টাকা ১৭ পয়সা লোকসান করেছে। ওই সময়ে শেয়ারপ্রতি এনএভি ছিল ১৮ টাকা ৪৬ পয়সা। কোম্পানিটি ০ দশমিক ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল।

আমরা টেকনোলজিস মূলত আইটি অবকাঠামো, নেটওয়ার্কিং, ডেটা সেন্টার, সাইবার নিরাপত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং ও এন্টারপ্রাইজ প্রযুক্তি সেবা দিয়ে থাকে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার ও প্রযুক্তিভিত্তিক সেবা সরবরাহ করে কোম্পানিটি।

প্রকৃত চাহিদা নাকি কারসাজি, খতিয়ে দেখবে ডিএসই

আমরা টেকনোলজিসের শেয়ারদরে বড় উত্থান ও পরবর্তী পতনের পেছনে প্রকৃত বাজারচাহিদা ছিল, নাকি কারসাজি বা অন্য কোনো অনিয়ম ছিল—তদন্তে সেটিই মূলত খতিয়ে দেখা হবে।

বিএসইসির নির্দেশনার পর ডিএসইর তদন্তে বাজার কারসাজি, ইনসাইডার ট্রেডিং, ব্রোকার পর্যায়ের অনিয়মসহ সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।