১২:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রস্তাবিত বাজেট কৃষিবান্ধব : ড. আনসারী

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এজন্য নতুন বাজেটে কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট ৪৩ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা জিডিপির ০.৬৩ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় এবার এই খাতে ৬২০৯ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশের কৃষি খাতের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা ও এসিআই পিএলসি-এর গ্রুপ অ্যাডভাইজার ড. এফ এইচ আনসারী। প্রস্তাবিত বাজেটকে কৃষিবান্ধব উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, এই বাজেট দেশের কৃষি খাতকে আরো সমৃদ্ধ করতে সহায়তা করবে।

বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার ড. এফ এইচ আনসারী দেশ সমাচারের সাথে আলাপকালে বলেন, ভর্তুকির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে ও সাশ্রয়ী উৎপাদন নিশ্চিতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ কর্মসূচির উপর গুরুত্বারোপ, পচনশীল পণ্যের জন্য কোল্ড স্টোরেজ ও কোল্ড চেইন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, কৃষক ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ গ্রহণসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকে বাজেটে অগ্রাধিকার দেয়ায় সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

বাজেট প্রতিক্রিয়ায় তিনি আরো বলেন, গবেষণা খাতে সরকারকে আরো গুরুত্ব দিতে হবে। এছাড়া কৃষি উদ্যোক্তা ফাউন্ডেশন গড়ে তোলার জন্য সরকারের প্রতি আাহবান জানান।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকালে জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রস্তাব করছেন।

কৃষির সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, কৃষি পুনর্বাসন ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে বীজ, সার ও অন্যান্য উপকরণ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। ভর্তুকি মূল্যে কৃষক পর্যায়ে সার সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়েছে। ভর্তুকির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে ও সাশ্রয়ী উৎপাদন নিশ্চিতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ কর্মসূচি জোরদার করা হচ্ছে।

আমির খসরু আরো বলেন, কৃষিপণ্যের বহুমুখীকরণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পচনশীল পণ্যের জন্য কোল্ড স্টোরেজ ও কোল্ড চেইন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। আম চাষিদের জন্য বরেন্দ্র অঞ্চলে বিশেষ হিমাগার স্থাপন করা হচ্ছে। কৃষি উপকরণ বিতরণ, কৃষি পুনর্বাসন ও প্রণোদনা কার্যক্রম সুচারুরূপে সম্পাদনের লক্ষ্যে কৃষক ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম জনবহুল দেশ। এ বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন কাজ হলেও আমাদের সরকার এ বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। এ লক্ষ্যে- সরকারি পর্যায়ে খাদ্যশস্য ধারণ ক্ষমতা বর্তমান ২৩.১৬ লক্ষ মে. টন হতে বৃদ্ধি করে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২৪.৫০ লক্ষ মে. টনে উন্নীতকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

‎‎মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে আমরা জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করেছি। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে- ৫৬ লক্ষ ৩৫ হাজার মেট্রিক টন মৎস্য উৎপাদন। সুনীল অর্থনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে ২০৩০ সালের মধ্যে মৎস্য রপ্তানি আয় ১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রস্তাবিত বাজেট কৃষিবান্ধব : ড. আনসারী

প্রকাশিত : ১১:২৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এজন্য নতুন বাজেটে কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট ৪৩ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা জিডিপির ০.৬৩ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় এবার এই খাতে ৬২০৯ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশের কৃষি খাতের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা ও এসিআই পিএলসি-এর গ্রুপ অ্যাডভাইজার ড. এফ এইচ আনসারী। প্রস্তাবিত বাজেটকে কৃষিবান্ধব উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, এই বাজেট দেশের কৃষি খাতকে আরো সমৃদ্ধ করতে সহায়তা করবে।

বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার ড. এফ এইচ আনসারী দেশ সমাচারের সাথে আলাপকালে বলেন, ভর্তুকির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে ও সাশ্রয়ী উৎপাদন নিশ্চিতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ কর্মসূচির উপর গুরুত্বারোপ, পচনশীল পণ্যের জন্য কোল্ড স্টোরেজ ও কোল্ড চেইন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, কৃষক ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ গ্রহণসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকে বাজেটে অগ্রাধিকার দেয়ায় সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

বাজেট প্রতিক্রিয়ায় তিনি আরো বলেন, গবেষণা খাতে সরকারকে আরো গুরুত্ব দিতে হবে। এছাড়া কৃষি উদ্যোক্তা ফাউন্ডেশন গড়ে তোলার জন্য সরকারের প্রতি আাহবান জানান।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকালে জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রস্তাব করছেন।

কৃষির সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, কৃষি পুনর্বাসন ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে বীজ, সার ও অন্যান্য উপকরণ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। ভর্তুকি মূল্যে কৃষক পর্যায়ে সার সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়েছে। ভর্তুকির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে ও সাশ্রয়ী উৎপাদন নিশ্চিতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ কর্মসূচি জোরদার করা হচ্ছে।

আমির খসরু আরো বলেন, কৃষিপণ্যের বহুমুখীকরণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পচনশীল পণ্যের জন্য কোল্ড স্টোরেজ ও কোল্ড চেইন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। আম চাষিদের জন্য বরেন্দ্র অঞ্চলে বিশেষ হিমাগার স্থাপন করা হচ্ছে। কৃষি উপকরণ বিতরণ, কৃষি পুনর্বাসন ও প্রণোদনা কার্যক্রম সুচারুরূপে সম্পাদনের লক্ষ্যে কৃষক ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম জনবহুল দেশ। এ বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন কাজ হলেও আমাদের সরকার এ বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। এ লক্ষ্যে- সরকারি পর্যায়ে খাদ্যশস্য ধারণ ক্ষমতা বর্তমান ২৩.১৬ লক্ষ মে. টন হতে বৃদ্ধি করে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২৪.৫০ লক্ষ মে. টনে উন্নীতকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

‎‎মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে আমরা জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করেছি। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে- ৫৬ লক্ষ ৩৫ হাজার মেট্রিক টন মৎস্য উৎপাদন। সুনীল অর্থনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে ২০৩০ সালের মধ্যে মৎস্য রপ্তানি আয় ১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।