“চিরাচরিত চিন্তার বাইরে এসে আধুনিক কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ জরুরি”—দেশ সমাচারের বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেছেন দেশের কৃষি খাতের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা এবং এসিআই পিএলসি-এর গ্রুপ অ্যাডভাইজার ড. এফ এইচ আনসারী।
দরজায় কড়া নাড়ছে নতুন অর্থবছরের বাজেট। আসন্ন বাজেটে দেশের কৃষি খাতের সম্ভাবনা, সংকট এবং তা থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে দেশ সমাচারের বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানে কথা বলেছেন দেশের কৃষি খাতের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা এবং এসিআই পিএলসি-এর গ্রুপ অ্যাডভাইজার ড. এফ এইচ আনসারী। তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন দেশ সমাচারের সম্পাদক ও প্রকাশক শাহাদাত হোসেন। পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটির বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো—
শাহাদাত হোসেন: আপনি দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের কৃষি খাতের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছেন, গবেষণা করছেন। নতুন সরকারের এই আসন্ন বাজেট নিয়ে একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে আপনার প্রত্যাশা কী?
ড. এফ এইচ আনসারী: দেখুন, বাংলাদেশে আমরা প্রধানত দুটি কারণে কৃষি কাজ করি—প্রথমত কর্মসংস্থান (Employment) এবং দ্বিতীয়ত খাদ্য সংস্থান। আমাদের উৎপাদিত খাদ্য দিয়ে দেশের প্রায় ৮০ ভাগ চাহিদা পূরণ হয়ে যায়, সামান্য কিছু আমদানি করতে হয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটি একটি ‘এগ্রি ভ্যালু চেইন’ (Agri Value Chain)-এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। সরকার যদি বাজেটে এই ভ্যালু চেইনের প্রতিটি ধাপ সিস্টেমেটিকভাবে বিবেচনা করে, তবে দেশের সামগ্রিক খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত হবে, কর্মসংস্থান ঠিক থাকবে এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলো কাটিয়ে ভালো কৃষি কাজ করা সম্ভব হবে।
শাহাদাত হোসেন: বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমাদের কৃষির প্রধান চ্যালেঞ্জ বা সমস্যাগুলো কী বলে আপনি মনে করেন?
ড. এফ এইচ আনসারী: সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো পরিবেশগত বিপর্যয় (Environmental Intrusion)। আমাদের দেশের দক্ষিণে লবণাক্ততা বাড়ছে, অসময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টি হচ্ছে, আবার কোথাও তীব্র খরা ও তাপমাত্রা বাড়ছে। মাত্র কিছুদিন আগেই হাওড়ের ধান পানিতে ডুবে গেল। এই পরিবেশগত পরিবর্তন আমরা চাইলেই বন্ধ করতে পারব না, আমাদের এটি মোকাবেলা করতে হবে। আর এটি মোকাবেলা করার জন্য প্রথম ধাপ হলো—কৃষি গবেষণা।
শাহাদাত হোসেন: গবেষণা খাতের কথা বললেন, কিন্তু আমাদের দেশে তো গবেষণার ফলাফল মাঠে আসতে অনেক দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এক্ষেত্রে সমাধান কী?
ড. এফ এইচ আনসারী: একদম ঠিক বলেছেন। আমাদের দেশে একটি গবেষণার ফলাফল আসতে এবং তা মাঠে পৌঁছাতে প্রায় ৮ থেকে ১০ বছর সময় লেগে যায়। কিন্তু পরিবেশ পরিবর্তনের গতি তার চেয়ে অনেক দ্রুত। তাই গবেষণার গতি বাড়াতে (Speedy করতে) সরকারি এবং বেসরকারি—দুই সংস্থাকেই কাজে লাগাতে হবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনেক সফল গবেষণা ও রেডি অ্যাডভান্স লাইন আছে, যা আমরা দেশে এনে দ্রুত অ্যাডপ্ট (মানিয়ে নেওয়া) করতে পারি। এজন্য আমাদের বেসরকারি খাতের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ সাধারণত ট্রেডিং পছন্দ করে, গবেষণায় বিনিয়োগে ঝুঁকি নিতে চায় না। তাই দেশের অন্তত ১০০টি কোম্পানিকে গবেষণায় উৎসাহিত করতে সরকারকে আসন্ন বাজেটে বিশেষ প্রভিশন বা বরাদ্দ রাখতে হবে; যেখানে মাত্র ১ বা ২ শতাংশের মতো স্বল্প সুদে ঋণ বা সাবসিডি দেওয়া হবে। তখন কোম্পানিগুলো দ্রুত নতুন গবেষণা করে ফলাফল মাঠে নিয়ে যেতে পারবে।
শাহাদাত হোসেন: গবেষণার এই ফল কৃষকের দোরগোড়ায় সহজে পৌঁছানোর কোনো আধুনিক উপায় আছে কি?
ড. এফ এইচ আনসারী: এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং এআই (Artificial Intelligence) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে খুব সহজে গবেষণার ফলাফল কৃষকের কাছে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। তবে এর জন্য বাজেটে বড় বরাদ্দ লাগবে। এছাড়া বেসরকারি কোম্পানিগুলোর প্রায় ১ লক্ষের বেশি এক্সটেনশন ওয়ার্কার (সম্প্রসারণ কর্মী) মাঠে কাজ করছেন। এদের ট্রেনিং ও কাজের আওতায় আনার জন্য বাজেটে একটি থোক বরাদ্দ থাকা দরকার। শুরুতে সরকার এই উদ্যোগ নিলে, পরবর্তীতে যখন সুফল আসবে তখন প্রাইভেট কোম্পানিগুলো ব্যবসার স্বার্থেই নিজেরা ইনভেস্ট করবে।
শাহাদাত হোসেন: আমাদের কৃষিতে সরকারের একটি বিশাল বড় ব্যয় হয় সারের ভর্তুকিতে। এবারও প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার মতো ভর্তুকির কথা শোনা যাচ্ছে। এই ব্যয় কমানোর কোনো বিকল্প পথ আছে কি?
ড. এফ এইচ আনসারী: অবশ্যই আছে। আমরা বিশ্বে প্রচলিত সারের ডোজের চেয়ে প্রায় আড়াই গুণ বেশি সার জমিতে ব্যবহার করি। সরকারকে টিভি, মিডিয়া এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিবিড় প্রচারণা (Intensive Campaign) চালাতে হবে যেন কৃষকরা কম ডোজে সঠিক সার ব্যবহারে উৎসাহিত হন।
আমরা যদি সারের ব্যবহার এক-তৃতীয়াংশ (One-Third) কমাতে পারি, তবে ৩০ হাজার কোটির জায়গায় ১০ হাজার কোটি টাকা বেঁচে যাবে। একই সাথে সার আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় ৩ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হয়ে তা ১ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসবে। তবে এই সচেতনতা তৈরির ক্যাম্পেইনের জন্য বাজেটে এক্সটেনশন সিস্টেমে বিশেষ বরাদ্দ রাখতে হবে।
শাহাদাত হোসেন: বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে কৃষিতে সম্পৃক্ত করার ব্যাপারে আপনার কোনো পরামর্শ আছে?
ড. এফ এইচ আনসারী: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় আমাদের তরুণ ছেলেমেয়েরা মাঠে গিয়ে কাজ করতে চাচ্ছে না, যার ফলে কৃষকরা বৃদ্ধ হয়ে যাচ্ছেন। তরুণদের মাঠে ফেরাতে হলে কৃষিকে আধুনিক ও আকর্ষণীয় করতে হবে, তাদের হাতে আধুনিক যন্ত্রপাতি বা টুলস তুলে দিতে হবে।
এজন্য কৃষির যান্ত্রিকীকরণে (Mechanization) ভর্তুকি দিতে হবে। সরকার ইতোমধ্যে হারভেস্টারে প্রায় ১ হাজার থেকে ১৫০০ কোটি টাকা খরচ করেছে। এর সুফল দেখুন—আগে হাত দিয়ে ধান কাটলে ১৩-১৪% ধান ঝরে নষ্ট হতো, এখন কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহারে তা মাত্র ৩% এ নেমে এসেছে। এই যে ধান অপচয় রোধ হলো, তাতেই সরকারের দেওয়া ভর্তুকির টাকা উঠে এসেছে। তরুণদের কৃষিতে ধরে রাখতে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়াতে যান্ত্রিকীকরণ জরুরি।
শাহাদাত হোসেন: ধান কাটার পর তা সংরক্ষণ বা প্রসেসিংয়ের ক্ষেত্রে আমাদের দেশে অনেক অপচয় হয়। এই পোস্ট-হারভেস্ট (Post-Harvest) ক্ষতি কীভাবে কমানো যায়?
ড. এফ এইচ আনসারী: আমাদের দেশে সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ভাগ ফসল নষ্ট বা অপচয় হয়। এই ওয়ান-থার্ড ফসল যদি আমরা বাঁচাতে পারতাম, তবে বিদেশ থেকে যে কোটি কোটি টাকার গম, তেল, ভুট্টা, চিনি আমদানি করতে হয়, তা লাগত না।
এজন্য সরকারকে পোস্ট-হারভেস্ট সক্ষমতা বাড়াতে হবে। দেশের প্রতিটি উপজেলায় সরকারি অর্থায়নে একটি করে কোল্ড স্টোরেজ বা ওয়ারহাউস (সংরক্ষাণাগার) নির্মাণ করা দরকার। যেহেতু এগুলো থেকে তাৎক্ষণিক মুনাফা আসে না, তাই প্রাইভেট সেক্টর শুরুতে করতে চাইবে না। সরকার এগুলো বানিয়ে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে পরিচালনার দায়িত্ব দিতে পারে। কৃষকরা সেখানে ন্যূনতম ফিতে ফসল রাখবে এবং ভালো দাম পেলে বিক্রি করবে। এতে ফসলের অপচয় কমবে এবং কৃষকরা লাভবান হবেন।
শাহাদাত হোসেন: আপনি খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ বা প্রসেসিং খাতের কথা বলছিলেন। আমাদের স্থানীয় পণ্যের প্রসেসিং বা স্ট্রিট ফুড নিয়ে নতুন কোনো সম্ভাবনা দেখছেন কি?
ড. এফ এইচ আনসারী: আমাদের দেশে রাস্তার ধারের যে স্ট্রিট ফুড বিক্রেতারা আছেন, তারা কিন্তু মূলত দেশীয় চালের গুঁড়া, ফলমূল, শাকসবজি ও মাংস ব্যবহার করেন। অনেক মানুষ এই খাবার পছন্দ করলেও হাইজিন ও স্বাস্থ্যসম্মত কি না—সেই ভয়ে খেতে চান না।
সরকার যদি বাজেটে এদের স্যানিটেশন ও হাইজিন মেইনটেইন করার জন্য ট্রেনিং এবং কাঁচের কাভার বা ডিসপ্লে স্ট্যান্ডের মতো ছোট ছোট সাপোর্ট দেয়, তবে এই খাবারগুলো স্বাস্থ্যসম্মত হবে, বিক্রি বাড়বে এবং স্থানীয় খামারিদের পণ্য বেশি বিক্রি হবে। বিদেশ থেকে আমদানি করা স্ন্যাক্স ফুডের ওপর নির্ভরতা কমে আমাদের স্থানীয় পণ্যের কনজাম্পশন বাড়বে এবং প্রচুর কর্মসংস্থান হবে। সার বা ডিজেলের ভর্তুকির গৎবাঁধা কথার বাইরে এসে বাজেটে যদি গবেষণা, যান্ত্রিকীকরণ, ওয়ারহাউস এবং স্ট্রিট ফুড প্রমোশনের মতো আধুনিক ইনভেস্টমেন্টের কথা বলা হয়, তবে সমাজে একটি নতুন উদ্দীপনা (Excitement) তৈরি হবে। এতে সরকারের পপুলারিটি যেমন বাড়বে, দেশেরও লাভ হবে।
শাহাদাত হোসেন: চমৎকার বলেছেন। অর্থাৎ কৃষির প্রতিটি ক্ষেত্রে—গবেষণা, যান্ত্রিকীকরণ, সংরক্ষণ থেকে শুরু করে প্রসেসিং পর্যন্ত সরকারকে নতুন করে নতুন আঙ্গিকে ভাবতে হবে। এবার একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি। সম্প্রতি বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে আমেরিকা-ইরানের উত্তেজনা বা বিভিন্ন যুদ্ধের কারণে সারাবিশ্বে জ্বালানি ও ডলার সংকট দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। এই অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে সরকার কি আগের মতো কৃষিতে বড় অঙ্কের ভর্তুকি বজায় রাখতে পারবে বলে আপনি মনে করেন?
ড. এফ এইচ আনসারী: কৃষিতে ভর্তুকি সরকারকে দিতেই হবে। যদি ভর্তুকি না দেওয়া হয় তবে তিনটি বড় ক্ষতি হবে—প্রথমত, খামারিরা উৎসাহ হারাবেন; দ্বিতীয়ত, সমাজ এটি মেনে নেবে না এবং তৃতীয়ত, উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা মারাত্মকভাবে কমে যাবে। তবে আমি আগেই বলেছি, অল্টারনেটিভ বা আধুনিক উপায়ে সারের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে ভর্তুকির চাপ কমানো সম্ভব।
আরেকটি বড় বিষয় হলো—বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য একটি সুযোগও এনে দিয়েছে। আমাদের দেশে সেচ পাম্প চালাতে প্রায় ৪০% ডিজেল পুড়াতে হয়। এখন সোলার পাওয়ার (Solar Power) বা নবায়নযোগ্য শক্তির অনেক উন্নয়ন হয়েছে। সরকার যদি এই বাজেটে সোলার সিস্টেম ব্যবহারে সর্বক্ষেত্রে বড় প্রণোদনা দেয়, তবে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে আমরা সেচ ও পাওয়ারের ক্ষেত্রে সূর্যের আলোর ওপর নির্ভরশীল হতে পারব। ফলে ডিজেল আমদানির ওপর সরকারের চাপ ও ডলার সংকট অনেকাংশে কমে যাবে।
শাহাদাত হোসেন: আপনি যান্ত্রিকীকরণের কথা বলছিলেন। কৃষি যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক বা ট্যাক্স হ্রাসের ব্যাপারে সরকারের কাছে আপনার প্রত্যাশা কী?
ড. এফ এইচ আনসারী: বর্তমানে কৃষি যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক খুব বেশি একটা সমস্যা নয়। সমস্যা হলো যন্ত্রপাতির বহুমুখীকরণ ও প্রয়োগে। আমাদের দেশে জমি চাষে ৯৫% এবং সেচে প্রায় ৯০% যান্ত্রিকীকরণ সফলভাবে হয়ে গেছে। কিন্তু ধান রোপণের (Planting) ক্ষেত্রে এখনো ২% ও উন্নত হয়নি, যেখানে শ্রমিকের বড় খরচ হয়।
এছাড়া আলু, সবজি, গম বা ভুট্টা চাষে এখনো যান্ত্রিকীকরণ তেমন হয়নি। গবাদি পশু বা ডেইরি খাতেও অনেক আধুনিক ইন্টারভেনশন দরকার। সরকারকে আগামী ৩ থেকে ৫ বছরের জন্য এই নতুন খাতের যন্ত্রগুলোতে সাপোর্ট বা সাবসিডি দিতে হবে, যাতে মার্কেটটা ডেভেলপ করে। এক সময় পাওয়ার টিলার বা ট্রাক্টরে সাবসিডি লাগত, এখন কিন্তু বাজার দাঁড়িয়ে যাওয়ায় আর লাগে না। তেমনি এই খাতগুলোতেও সাময়িক সাপোর্ট দিলে খামারিরা নিজেরাই একসময় অভ্যস্ত হয়ে যাবে।
শাহাদাত হোসেন: আলোচনার শেষ পর্যায়ে আবারও একটু আরএনডি (R&D) বা গবেষণা খাতের প্রসঙ্গে ফিরতে চাই। জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে কৃষির টেকসই উন্নয়নে প্রাইভেট সেক্টরকে গবেষণায় যুক্ত করতে সরকার কীভাবে সুনির্দিষ্টভাবে পদক্ষেপ নিতে পারে?
ড. এফ এইচ আনসারী: এটি অবশ্যই সম্ভব এবং অত্যন্ত কার্যকর। চীন এবং ভারতে কিন্তু এভাবেই বেসরকারি খাতকে সাবসিডি বা স্বল্প সুদে ইনভেস্টমেন্টের সুযোগ দিয়ে তাদের গবেষণা ও কৃষিকে আজ এই পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন—গবেষণা যদি লাভজনকই হয়, তবে প্রাইভেট সেক্টর নিজেরা টাকা খাটায় না কেন? কারণ, গবেষণার ফল আসতে ৩ থেকে ৫ বছর সময় লাগে। কোনো কোম্পানি নিজের ক্যাপিটাল দিয়ে শুরু করলে সেই সময়ে মূলধন জিরো হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। সরকার যদি ফিজিবিলিটি স্টাডি ও ক্রেডিটবিলিটি দেখে প্রতি বছর ১০ বা ২০টি করে ৫ বছরে মোট ১০০টি কোম্পানিকে ১০ কোটি টাকা করে ১-২% সার্ভিস চার্জে ফান্ড দেয়, তবে মাঠ পর্যায়ে এর ব্যাপক সুফল আসবে।
কৃষকের উৎপাদনশীলতা ও আয় বাড়বে, দেশীয় জাত উদ্ভাবনের ফলে দেশ স্বাবলম্বী হবে এবং জলবায়ুর পরিবর্তনের সাথে ফাইট করা সম্ভব হবে। নতুন সরকারকে চিরাচরিত সার-ডিজেলের প্রথাগত চিন্তার বাইরে এসে এই আধুনিক ও প্রায়োগিক গবেষণায় বিনিয়োগের সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
শাহাদাত হোসেন: আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি আপনার এই গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান সময় দেশ সমাচারকে দেওয়ার জন্য।
ড. এফ এইচ আনসারী: আপনাকে এবং দেশ সমাচারের সকল পাঠক-দর্শককেও অনেক ধন্যবাদ।
অনলাইন ডেস্ক 























