টুইম্বলের প্রতিষ্ঠাতা শামীম আশরাফ। এর আগে শামীম আশরাফের শিশুদের জন্য ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ বেবিটিউব করেছেন। বেবিটিউবের আগে তিনি শিশুদের জন্য মেন্টর মশাই নামে একটি স্বেচ্ছাসেবক অর্গানাইজেশন করেছেন। শামীম আশরাফ এর বেড়ে উঠা লক্ষীপুর জেলার, রায়পুর উপজেলার, হায়দারগঞ্জ এলাকায়। পড়াশোনা করেছেন গ্রামেই তবে মাস্টার্স শেষ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তিনি বরাবরই শিশুদের জন্য কাজ করতে চান এবং করছেন। তারই হাত ধরে শুরু হচ্ছে টুইম্বল।
ডিজিটাল যুগে আমাদের শিশুরা স্মার্টফোন, ইন্টারনেট ও সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে নতুন এক জগতে প্রবেশ করছে। কিন্তু এই জগৎ সবসময়ই শিশুদের জন্য নিরাপদ নয়। অনুপযুক্ত কনটেন্ট, অনিয়ন্ত্রিত অ্যালগরিদম ও ভার্চুয়াল ঝুঁকি তাদের মানসিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে তৈরি হয়েছে টুইম্বল শিশুদের জন্য বাংলাদেশের নিরাপদ প্ল্যাটফর্ম।
ডিজিটাল সামাজিক সম্প্রদায়, যেখানে শিশুরা শিখবে, খেলবে, তৈরি করবে এবং নিজের প্রতিভাকে তুলে ধরবে সম্পূর্ণ নিরাপদ পরিবেশে। দ্রুতই এটি শিশু ও অভিভাবকদের আস্থার স্থান হয়ে উঠছে।
টুইম্বলের মূল শক্তি হলো এর Child-Safe Ecosystem। প্ল্যাটফর্মটি শিশুদের উপযোগী কনটেন্ট নিশ্চিত করতে কঠোর ফিল্টারিং সিস্টেম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্ক্রিনিং এবং মানব মডারেশন একসঙ্গে পরিচালনা করে। যে কোনো কনটেন্ট আপলোডের আগে তা অটোমেটিক স্ক্যানের মাধ্যমে যাচাই হয়, পরে মানব মডারেটররা সুরক্ষা নিশ্চিত করেন। ফলে শিশুদের মানসিক বিকাশে ক্ষতিকর কোনো ভিডিও প্ল্যাটফর্মে ভেসে উঠার সুযোগ নেই।
অভিভাবকদের জন্য রয়েছে Parental Control Dashboard, যেখানে তারা শিশুর কনটেন্ট ব্যবহারের ধরন, সময় ব্যবস্থাপনা এবং অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা সহজেই মনিটর করতে পারেন। এটি শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
টুইম্বল শুধু নিরাপত্তা নয়, সমানভাবে গুরুত্ব দেয় শিশুদের সৃজনশীলতা ও প্রতিভা বিকাশে। এখানে শিশুদের জন্য রয়েছে গান, আবৃত্তি, গল্প বলা, বিজ্ঞানভিত্তিক কনটেন্ট, প্রযুক্তি শেখা, আর্ট, গেমিং ও শিক্ষামূলক ছোট ভিডিওর সমৃদ্ধ ভান্ডার। এছাড়াও রয়েছে ইভেন্ট ক্রিয়েট করা, কোর্স, ই-কমার্সসহ নানান সেবা।
প্রতিভাবান শিশুদের সামনে তুলে ধরতে টুইম্বল আয়োজন করছে Junior Talent Award যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের হাজারো শিশু অংশ নিচ্ছে তাদের অনন্য প্রতিভা নিয়ে। বিচারক প্যানেল এবং ভোটিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচিত বিজয়ীরা পুরস্কৃত হচ্ছেন আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে। এই পুরস্কারের লক্ষ্য শিশুদের উৎসাহিত করা, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করা এবং তাদের প্রতিভাকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরা। টুইম্বলের আরো আয়োজন কিডলোন কিডস শো বাই টুইম্বল নামে একটি শো। যেখানে প্রতি পর্বে একটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে নানান প্রতিভা দেখার আয়োজন।
শিশুদের নিরাপদ ডিজিটাল অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে টুইম্বল বিভিন্ন স্কুলে ‘Safe Internet & Future AI’ ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে। স্কুলে সচেতনতা কার্যক্রম, কর্মশালা ও সেমিনারের মাধ্যমে শিশু ও অভিভাবকদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।
টুইম্বল টিম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন অশালীন পেইজ, চ্যানেল বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় বন্ধ করেছেন।শিশু-কিশোরদের জন্য আবারো আয়োজন করছেন জুনিয়র ট্যালেন্ট এওয়ার্ড সিজন টু।
শুরু থেকেই টুইম্বল শিশুদের জন্য একটি আন্তর্জাতিক মানের নিরাপদ সামাজিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। বাংলাদেশ থেকে শুরু হলেও ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়া ও বৈশ্বিক পর্যায়ে শিশুদের নিরাপদ প্ল্যাটফর্ম পথপ্রদর্শক হতে চায় এটি।
টুইম্বল বিনামূল্যে পথ লাইব্রেরি করেছে। যেকেউ ফ্রিতে বই নিতে পারবেন। তবে একটি বই জমা দিয়ে আরেকটি বই নিতে হবে। এলাকায় খুব প্রশংসিত হচ্ছে টুইম্বলের কার্যক্রম নিয়ে।
সাঈদ মানছুর নাহিয়ান 






















