০৪:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

সম্পদমূল্য কমেছে পুঁজিবাজারের ১৭ ব্যাংকের

  • ইয়াসিন
  • প্রকাশিত : ০৫:৩৫:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • 244

দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের ভেতরের কঙ্কাল বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সমাপ্ত তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি ব্যাংকের আর্থিক ভিত নড়বড়ে হয়ে গেছে। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ১৭টি ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (NAVPS) আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে, আর দুটি ব্যাংক তো রীতিমতো ‘নিট দায়ের’ অতল গহ্বরে তলিয়ে গেছে।

সম্পদ যখন বোঝা: ১৭ ব্যাংকের করুণ দশা

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশের স্বপ্ন দেখিয়ে ব্যাংকগুলো এখন তাদের পকেট কাটছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নামিদামি ব্যাংকগুলোর সম্পদমূল্য তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে। তালিকায় রয়েছে ইসলামী ধারার ব্যাংক থেকে শুরু করে বড় বড় বাণিজ্যিক ব্যাংকও।

এক নজরে সম্পদমূল্য (NAVPS) কমে যাওয়া ব্যাংকগুলোর চিত্র:

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ব্যাংকের নাম২০২৫ (NAVPS/দায়)২০২৪ (NAVPS)      বর্তমান অবস্থা
এবি ব্যাংক২৭.৩৬ টাকা (নিট দায়)২৮.৯৮ টাকাসম্পদ থেকে দায়ে রূপান্তর
আইএফআইসি ব্যাংক৮.৯১ টাকা১৯.১৫ টাকা৫৩% সম্পদমূল্য হ্রাস
সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক২.৮৭ টাকা১৯.৩৮ টাকাচরম মূলধন সংকট
ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক১৯.৫৪ টাকা (নিট দায়)২০.৬৬ টাকাউদ্বেগের শীর্ষে
প্রিমিয়ার ব্যাংক১৬.১৫ টাকা২২.৭৯ টাকাবড় পতনের মুখে

বড় ব্যাংকগুলোর পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ

দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকগুলোর মধ্যেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। সিটি ব্যাংকের সম্পদমূল্য যেখানে গত বছর ২৯.৯১ টাকা ছিল, এবার তা সামান্য বেড়ে ৩৮.০৯ টাকা হলেও অন্যান্যরা তাল মেলাতে পারেনি। ডাচ-বাংলা ব্যাংকের সম্পদমূল্য ৫৫.৯৪ টাকা থেকে কমে ৫৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ইস্টার্ন ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক এবং ইউসিবি ব্যাংকের প্রতিবেদনেও সম্পদমূল্য কমার তথ্য উঠে এসেছে।

সংকটের মুখে নিট দায়

সবচেয়ে আশঙ্কাজনক তথ্য হচ্ছে, এবি ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর নিট দায় বৃদ্ধি পাওয়া। ন্যাশনাল ব্যাংকের ক্ষেত্রে গত বছর যেখানে ১.৮৬ টাকা সম্পদ ছিল, এ বছর তা ৩.৩৮ টাকা নিট দায়ে পরিণত হয়েছে। এটি ব্যাংকটির সামগ্রিক সক্ষমতার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।

বাজার পর্যবেক্ষকদের মত: শেয়ারবাজার বিশ্লেষকদের মতে, শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য কমে যাওয়া বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বড় সতর্কসংকেত। এটি নির্দেশ করে যে ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ আয়ের চেয়ে ব্যয়ের বোঝা এবং অনাদায়ী ঋণের চাপ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। বিনিয়োগকারীদের উচিত এই পরিস্থিতিতে পোর্টফোলিও পুনর্গঠনে আরও সচেতন হওয়া।

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পদমূল্য কমেছে পুঁজিবাজারের ১৭ ব্যাংকের

প্রকাশিত : ০৫:৩৫:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের ভেতরের কঙ্কাল বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সমাপ্ত তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি ব্যাংকের আর্থিক ভিত নড়বড়ে হয়ে গেছে। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ১৭টি ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (NAVPS) আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে, আর দুটি ব্যাংক তো রীতিমতো ‘নিট দায়ের’ অতল গহ্বরে তলিয়ে গেছে।

সম্পদ যখন বোঝা: ১৭ ব্যাংকের করুণ দশা

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশের স্বপ্ন দেখিয়ে ব্যাংকগুলো এখন তাদের পকেট কাটছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নামিদামি ব্যাংকগুলোর সম্পদমূল্য তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে। তালিকায় রয়েছে ইসলামী ধারার ব্যাংক থেকে শুরু করে বড় বড় বাণিজ্যিক ব্যাংকও।

এক নজরে সম্পদমূল্য (NAVPS) কমে যাওয়া ব্যাংকগুলোর চিত্র:

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ব্যাংকের নাম২০২৫ (NAVPS/দায়)২০২৪ (NAVPS)      বর্তমান অবস্থা
এবি ব্যাংক২৭.৩৬ টাকা (নিট দায়)২৮.৯৮ টাকাসম্পদ থেকে দায়ে রূপান্তর
আইএফআইসি ব্যাংক৮.৯১ টাকা১৯.১৫ টাকা৫৩% সম্পদমূল্য হ্রাস
সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক২.৮৭ টাকা১৯.৩৮ টাকাচরম মূলধন সংকট
ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক১৯.৫৪ টাকা (নিট দায়)২০.৬৬ টাকাউদ্বেগের শীর্ষে
প্রিমিয়ার ব্যাংক১৬.১৫ টাকা২২.৭৯ টাকাবড় পতনের মুখে

বড় ব্যাংকগুলোর পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ

দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকগুলোর মধ্যেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। সিটি ব্যাংকের সম্পদমূল্য যেখানে গত বছর ২৯.৯১ টাকা ছিল, এবার তা সামান্য বেড়ে ৩৮.০৯ টাকা হলেও অন্যান্যরা তাল মেলাতে পারেনি। ডাচ-বাংলা ব্যাংকের সম্পদমূল্য ৫৫.৯৪ টাকা থেকে কমে ৫৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ইস্টার্ন ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক এবং ইউসিবি ব্যাংকের প্রতিবেদনেও সম্পদমূল্য কমার তথ্য উঠে এসেছে।

সংকটের মুখে নিট দায়

সবচেয়ে আশঙ্কাজনক তথ্য হচ্ছে, এবি ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর নিট দায় বৃদ্ধি পাওয়া। ন্যাশনাল ব্যাংকের ক্ষেত্রে গত বছর যেখানে ১.৮৬ টাকা সম্পদ ছিল, এ বছর তা ৩.৩৮ টাকা নিট দায়ে পরিণত হয়েছে। এটি ব্যাংকটির সামগ্রিক সক্ষমতার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।

বাজার পর্যবেক্ষকদের মত: শেয়ারবাজার বিশ্লেষকদের মতে, শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য কমে যাওয়া বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বড় সতর্কসংকেত। এটি নির্দেশ করে যে ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ আয়ের চেয়ে ব্যয়ের বোঝা এবং অনাদায়ী ঋণের চাপ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। বিনিয়োগকারীদের উচিত এই পরিস্থিতিতে পোর্টফোলিও পুনর্গঠনে আরও সচেতন হওয়া।