০৩:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে বেক্সিমকো ফার্মার তালিকাচ্যুতির শঙ্কা

লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাচ্যুতি এবং চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে না পারায় কোম্পানিটির আন্তর্জাতিক লিস্টিং এখন সুতার ওপর ঝুলছে। প্রতিবেদন অনুমোদনে এই সীমাহীন বিলম্ব যদি অব্যাহত থাকে, তবে যেকোনো মুহূর্তে বৈশ্বিক এই শেয়ারবাজার থেকে চিরতরে বাদ পড়তে যাচ্ছে বেক্সিমকো ফার্মা।

পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে গত ২ জানুয়ারি থেকে। ওই দিন থেকেই লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের অলটারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট মার্কেটে (এআইএম) কোম্পানিটির গ্লোবাল ডিপোজিটারি রিসিপ্টস বা জিডিআর লেনদেন সম্পূর্ণ স্থগিত করে দেওয়া হয়। এই দীর্ঘ অচলাবস্থার কারণে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

এআইএম-এর কঠোর নিয়মানুযায়ী, কোনো সিকিউরিটিজের লেনদেন যদি টানা ছয় মাস বন্ধ থাকে, তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার তালিকাভুক্তি বাতিল হয়ে যায়। বেক্সিমকোর জন্য সেই ডেডলাইন বা চরম সময়সীমা একেবারে ঘাড়ের ওপর চলে এসেছে। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোম্পানিটির বিদায় ঘণ্টা বাজার আশঙ্কা এখন তীব্র।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এই চরম সংকটকালীন পরিস্থিতিতে বেক্সিমকো ফার্মার লন্ডন-তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করা ছয়টি প্রভাবশালী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সরাসরি মাঠে নেমেছে। তারা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানের কাছে জরুরি চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভা আয়োজন এবং বকেয়া আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আকুল আবেদন জানানো হয়েছে।

বিনিয়োগকারীরা পরিষ্কার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বেক্সিমকো ফার্মা যদি লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে ছিটকে যায়, তবে তা শুধু সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদেরই পথে বসাবে না, বরং আন্তর্জাতিক মহলে গোটা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের ভাবমূর্তি ধুলোয় মিশিয়ে দেবে। এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে এবং দেশের বাজার নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম নেতিবাচক বার্তা যাবে।

উল্লেখ্য, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস হচ্ছে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের এআইএম প্ল্যাটফর্মে স্থান পাওয়া একমাত্র বাংলাদেশি কোম্পানি। ফলে এই একটি কোম্পানির ব্যর্থতা পুরো দেশের বৈশ্বিক সুনামের ওপর কুঠারাঘাত করছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের উপস্থিতিকে চিরতরে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে বেক্সিমকো ফার্মার তালিকাচ্যুতির শঙ্কা

প্রকাশিত : ১১:৫৬:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাচ্যুতি এবং চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে না পারায় কোম্পানিটির আন্তর্জাতিক লিস্টিং এখন সুতার ওপর ঝুলছে। প্রতিবেদন অনুমোদনে এই সীমাহীন বিলম্ব যদি অব্যাহত থাকে, তবে যেকোনো মুহূর্তে বৈশ্বিক এই শেয়ারবাজার থেকে চিরতরে বাদ পড়তে যাচ্ছে বেক্সিমকো ফার্মা।

পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে গত ২ জানুয়ারি থেকে। ওই দিন থেকেই লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের অলটারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট মার্কেটে (এআইএম) কোম্পানিটির গ্লোবাল ডিপোজিটারি রিসিপ্টস বা জিডিআর লেনদেন সম্পূর্ণ স্থগিত করে দেওয়া হয়। এই দীর্ঘ অচলাবস্থার কারণে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

এআইএম-এর কঠোর নিয়মানুযায়ী, কোনো সিকিউরিটিজের লেনদেন যদি টানা ছয় মাস বন্ধ থাকে, তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার তালিকাভুক্তি বাতিল হয়ে যায়। বেক্সিমকোর জন্য সেই ডেডলাইন বা চরম সময়সীমা একেবারে ঘাড়ের ওপর চলে এসেছে। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোম্পানিটির বিদায় ঘণ্টা বাজার আশঙ্কা এখন তীব্র।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এই চরম সংকটকালীন পরিস্থিতিতে বেক্সিমকো ফার্মার লন্ডন-তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করা ছয়টি প্রভাবশালী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সরাসরি মাঠে নেমেছে। তারা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানের কাছে জরুরি চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভা আয়োজন এবং বকেয়া আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আকুল আবেদন জানানো হয়েছে।

বিনিয়োগকারীরা পরিষ্কার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বেক্সিমকো ফার্মা যদি লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে ছিটকে যায়, তবে তা শুধু সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদেরই পথে বসাবে না, বরং আন্তর্জাতিক মহলে গোটা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের ভাবমূর্তি ধুলোয় মিশিয়ে দেবে। এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে এবং দেশের বাজার নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম নেতিবাচক বার্তা যাবে।

উল্লেখ্য, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস হচ্ছে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের এআইএম প্ল্যাটফর্মে স্থান পাওয়া একমাত্র বাংলাদেশি কোম্পানি। ফলে এই একটি কোম্পানির ব্যর্থতা পুরো দেশের বৈশ্বিক সুনামের ওপর কুঠারাঘাত করছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের উপস্থিতিকে চিরতরে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।