ফ্লোর প্রাইসের খাঁচা থেকে মুক্ত হতেই দেশের শেয়ারবাজারের দুই শীর্ষ কোম্পানি—ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ও বেক্সিমকো লিমিটেডের আসল চেহারা বেরিয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) এক সিদ্ধান্তেই স্পষ্ট হয়ে গেছে কোন কোম্পানির ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা আছে আর কোনটি কেবল কৃত্রিম মূল্যের বেলুন ছিল। ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর এক কোম্পানির শেয়ার কিনতে যখন কাড়াকাড়ি পড়ে গেছে, অন্য কোম্পানির শেয়ার তখন বিক্রেতাদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত সপ্তাহে বিএসইসি সবশেষ এই দুই কোম্পানির ওপর থেকে ফ্লোর প্রাইসের বিধি-নিষেধ তুলে নেওয়ার পর থেকেই বাজারে তীব্র ঝাঁকুনি শুরু হয়। দীর্ঘদিন আটকে থাকা বিক্রয় আদেশগুলো একসঙ্গে বাজারে আসায় প্রথম দিকে দুই শেয়ারই তীব্র চাপের মুখে পড়ে। তবে সেই ধাক্কা সামলে উঠতে এক কোম্পানির সময় লাগেনি, আর অন্য কোম্পানি সরাসরি তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।
সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই এই দুই শেয়ারের বিপরীতমুখী ভাগ্য পুরোপুরি উন্মোচিত হয়েছে। লেনদেন চলাকালেই দেখা যায়, বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারের পাহাড়ে বিক্রয় আদেশ ঝুলে থাকলেও তা কেনার মতো একজন ক্রেতাও বাজারে ছিল না। চরম ক্রেতাশূন্যতায় ভুগেছে বহুল আলোচিত এই কোম্পানির শেয়ার। ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা গেছে ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে। সেখানে শেয়ার কেনার জন্য বিনিয়োগকারীদের হুড়োহুড়ি লেগে গেলেও বাজারে কোনো বিক্রেতা ছিল না।
এই চরম বৈপরীত্যের জেরে দুটি শেয়ারই সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশের সীমা স্পর্শ করে, তবে সম্পূর্ণ ভিন্ন মেরুতে দাঁড়িয়ে। বেক্সিমকোর শেয়ারদর প্রায় ১০ শতাংশ বা ৮ টাকা ধসে গিয়ে ৭২ টাকা ৩০ পয়সায় আছড়ে পড়ে। বিপরীতে বিনিয়োগকারীদের বিপুল আস্থায় ভর করে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারদর প্রায় ১০ শতাংশ বা ২ টাকা ৯০ পয়সা লাফিয়ে ৩২ টাকায় গিয়ে ঠেকে।
ট্রেডিং হল্ট হওয়ার আগে দুই কোম্পানির লেনদেনের খতিয়ানও বাজারের আসল চিত্র স্পষ্ট করে দেয়। পুরো সেশনে বেক্সিমকোর শেয়ারে নামমাত্র ৫৭টি লেনদেনের মাধ্যমে হাতবদল হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার শেয়ার। অন্যদিকে তীব্র চাহিদার মুখে থাকা ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারে ৩৯০টি লেনদেনের মাধ্যমে প্রায় ৮৫ লাখ ১০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। ফ্লোর প্রাইসের কৃত্রিম দেয়াল ভাঙার পর বাজার এখন স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—কাগুজে দাপট নয়, কেবল প্রকৃত পারফরম্যান্স ও আস্থাই শেয়ারের টিকে থাকার একমাত্র চাবিকাঠি।
ইয়াসিন 






















