০৩:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

চেয়ারম্যান নিয়োগ বিতর্কের মধ্যে তারল্য ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যালেঞ্জ ইসলামী ব্যাংকের

চেয়ারম্যান নিয়োগকে ঘিরে চলমান আলোচনা ও অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে তারল্য পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ আর্থিক সহায়তা চেয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। সোমবার এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকটি।

ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহার ছুটির পর গত রোববার পর্যন্ত টানা পাঁচ কার্যদিবসে ব্যাংকটিতে জমার তুলনায় প্রায় ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা বেশি উত্তোলন হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এ পরিমাণ উত্তোলন উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের ধারণা, চলমান পরিস্থিতির কারণে কিছু গ্রাহক আমানত তুলে নিচ্ছেন।

সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত নগদ উত্তোলনের ফলে ব্যাংকটি আবারও বিধিবদ্ধ নগদ সংরক্ষণ বা ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও (সিআরআর) বজায় রাখার ক্ষেত্রে চাপের মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় সম্ভাব্য তারল্য সংকট মোকাবিলা এবং আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিশেষ সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ইসলামী ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত ব্যাংকটির চলতি হিসাবে এখনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ রয়েছে। তবে সিআরআর ঘাটতির ঝুঁকি এড়ানো এবং গ্রাহকদের নগদ অর্থের চাহিদা নির্বিঘ্নে পূরণের লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা প্রার্থনা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অল্প কিছুদিন আগেও বাংলাদেশ ব্যাংকে ব্যাংকটির চলতি হিসাবে ৭ হাজার ১৫ কোটিরও বেশি টাকা জমা ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আমানত উত্তোলনের চাপ বাড়ায় সেই স্থিতি কমে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

এদিকে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলে একটি পক্ষ ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে আন্দোলন শুরু করে। গত ১ জুন থেকে চলমান এ কর্মসূচিতে তার নিয়োগ বাতিলের দাবি জানানো হচ্ছে।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংকে দায়িত্ব পালনকালে খুরশীদ আলম বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনের মুখে তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল বলেও দাবি করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সাল থেকে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ছিল এস আলম গ্রুপের হাতে। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়। পরবর্তীতে চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদেও পরিবর্তন আনা হয়। সাম্প্রতিক এসব পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি এবং সামগ্রিক কার্যক্রম নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চেয়ারম্যান নিয়োগ বিতর্কের মধ্যে তারল্য ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যালেঞ্জ ইসলামী ব্যাংকের

প্রকাশিত : ০৭:০৪:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

চেয়ারম্যান নিয়োগকে ঘিরে চলমান আলোচনা ও অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে তারল্য পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ আর্থিক সহায়তা চেয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। সোমবার এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকটি।

ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহার ছুটির পর গত রোববার পর্যন্ত টানা পাঁচ কার্যদিবসে ব্যাংকটিতে জমার তুলনায় প্রায় ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা বেশি উত্তোলন হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এ পরিমাণ উত্তোলন উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের ধারণা, চলমান পরিস্থিতির কারণে কিছু গ্রাহক আমানত তুলে নিচ্ছেন।

সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত নগদ উত্তোলনের ফলে ব্যাংকটি আবারও বিধিবদ্ধ নগদ সংরক্ষণ বা ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও (সিআরআর) বজায় রাখার ক্ষেত্রে চাপের মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় সম্ভাব্য তারল্য সংকট মোকাবিলা এবং আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিশেষ সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ইসলামী ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত ব্যাংকটির চলতি হিসাবে এখনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ রয়েছে। তবে সিআরআর ঘাটতির ঝুঁকি এড়ানো এবং গ্রাহকদের নগদ অর্থের চাহিদা নির্বিঘ্নে পূরণের লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা প্রার্থনা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অল্প কিছুদিন আগেও বাংলাদেশ ব্যাংকে ব্যাংকটির চলতি হিসাবে ৭ হাজার ১৫ কোটিরও বেশি টাকা জমা ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আমানত উত্তোলনের চাপ বাড়ায় সেই স্থিতি কমে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

এদিকে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলে একটি পক্ষ ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে আন্দোলন শুরু করে। গত ১ জুন থেকে চলমান এ কর্মসূচিতে তার নিয়োগ বাতিলের দাবি জানানো হচ্ছে।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংকে দায়িত্ব পালনকালে খুরশীদ আলম বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনের মুখে তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল বলেও দাবি করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সাল থেকে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ছিল এস আলম গ্রুপের হাতে। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়। পরবর্তীতে চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদেও পরিবর্তন আনা হয়। সাম্প্রতিক এসব পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি এবং সামগ্রিক কার্যক্রম নতুন করে আলোচনায় এসেছে।