০৩:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

লোকসানের পাহাড়ে মেঘনা সিমেন্ট, উৎপাদন প্রায় বন্ধ

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত মেঘনা সিমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড বর্তমানে গভীর আর্থিক সংকটে পড়েছে। ঋণখেলাপি হয়ে পড়ায় প্রতিষ্ঠানটি নতুন করে এলসি (ঋণপত্র) খুলতে পারছে না, ফলে কাঁচামাল আমদানি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে কোম্পানিটির উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নিরীক্ষক। কোম্পানিটির ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এই সংকটের চিত্র স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা যায়, এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির পণ্য বিক্রিতে ভয়াবহ পতন ঘটেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যেখানে ১৮৬ কোটি ৯০ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছিল, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা নেমে এসেছে মাত্র ২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকায়। ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে নতুন এলসি খোলা সম্ভব না হওয়ায় কাঁচামালের ঘাটতি দেখা দেয় এবং উৎপাদন প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে অন্য কোম্পানির হয়ে উৎপাদন চালু রাখা হয়েছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ৩৬ দশমিক ৫৮ টাকা, অর্থাৎ মোট ১১৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা লোকসান করেছে। এ কারণে পরিচালনা পর্ষদ ওই বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ডিভিডেন্ড না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬) পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেছে। এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ৪৮ টাকা পয়সা, যা মোট হিসেবে ১৫২ কোটি ৪ লাখ টাকা।

এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরেও কোম্পানিটি ২২ কোটি ৬১ লাখ টাকা লোকসান করেছিল, যেখানে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৭ টাকা ১৬ পয়সা। সব মিলিয়ে গত দুই বছর নয় মাসে (জুলাই ২০২৩ থেকে মার্চ ২০২৬) কোম্পানিটির মোট লোকসান দাঁড়িয়েছে ২৯০ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

এই বিপুল লোকসানের প্রভাবে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ৫১ টাকা ৩৩ পয়সাণাত্মক হয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান অবস্থায় কোম্পানিটি অবসায়নে গেলে শেয়ারহোল্ডারদের কিছু পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।

ব্যবসায় এই বড় ধসের কারণ হিসেবে কোম্পানিটি জানিয়েছে, ঋণখেলাপির কারণে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহ করা যায়নি। ফলে স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে এবং কোম্পানিকে কনভার্সন আয়ের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে, যা নিয়মিত উৎপাদন ও বিক্রয় থেকে অর্জিত আয়ের তুলনায় অনেক কম।

১৯৯৭ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত মেঘনা সিমেন্টের বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ৩১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৫৮.১০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

জনপ্রিয় সংবাদ

লোকসানের পাহাড়ে মেঘনা সিমেন্ট, উৎপাদন প্রায় বন্ধ

প্রকাশিত : ১২:০৬:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত মেঘনা সিমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড বর্তমানে গভীর আর্থিক সংকটে পড়েছে। ঋণখেলাপি হয়ে পড়ায় প্রতিষ্ঠানটি নতুন করে এলসি (ঋণপত্র) খুলতে পারছে না, ফলে কাঁচামাল আমদানি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে কোম্পানিটির উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নিরীক্ষক। কোম্পানিটির ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এই সংকটের চিত্র স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা যায়, এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির পণ্য বিক্রিতে ভয়াবহ পতন ঘটেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যেখানে ১৮৬ কোটি ৯০ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছিল, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা নেমে এসেছে মাত্র ২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকায়। ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে নতুন এলসি খোলা সম্ভব না হওয়ায় কাঁচামালের ঘাটতি দেখা দেয় এবং উৎপাদন প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে অন্য কোম্পানির হয়ে উৎপাদন চালু রাখা হয়েছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ৩৬ দশমিক ৫৮ টাকা, অর্থাৎ মোট ১১৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা লোকসান করেছে। এ কারণে পরিচালনা পর্ষদ ওই বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ডিভিডেন্ড না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬) পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেছে। এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ৪৮ টাকা পয়সা, যা মোট হিসেবে ১৫২ কোটি ৪ লাখ টাকা।

এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরেও কোম্পানিটি ২২ কোটি ৬১ লাখ টাকা লোকসান করেছিল, যেখানে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৭ টাকা ১৬ পয়সা। সব মিলিয়ে গত দুই বছর নয় মাসে (জুলাই ২০২৩ থেকে মার্চ ২০২৬) কোম্পানিটির মোট লোকসান দাঁড়িয়েছে ২৯০ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

এই বিপুল লোকসানের প্রভাবে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ৫১ টাকা ৩৩ পয়সাণাত্মক হয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান অবস্থায় কোম্পানিটি অবসায়নে গেলে শেয়ারহোল্ডারদের কিছু পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।

ব্যবসায় এই বড় ধসের কারণ হিসেবে কোম্পানিটি জানিয়েছে, ঋণখেলাপির কারণে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহ করা যায়নি। ফলে স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে এবং কোম্পানিকে কনভার্সন আয়ের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে, যা নিয়মিত উৎপাদন ও বিক্রয় থেকে অর্জিত আয়ের তুলনায় অনেক কম।

১৯৯৭ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত মেঘনা সিমেন্টের বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ৩১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৫৮.১০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।