০৫:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

এনবিআরকে দুই ভাগ করার অগ্রগতি কতদূর

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত : ০৪:০১:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 107

নানা বাধার মুখেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভেঙে রাজস্ব নীতি বিভাগ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ নামে দুটি স্বতন্ত্র ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। এটি এখনও বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে নতুন সরকার বিষয়টি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করবে নাকি আগের মতোই এনবিআর অবিভক্ত থাকবে তা নিয়ে কানাঘুষা রয়েছে সংস্থাটির কর্মকর্তাদের মধ্যে। কেউ কেউ বলছেন, বর্তমান সরকার এটি হয়তো উপেক্ষা করতে পারে। আবার কেউ বলছেন, এটি বাস্তবায়ন প্রায় চূড়ান্তের পথে। রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ও স্বচ্ছতা বাড়াতে নতুন সরকার এটি বাস্তবায়ন করবে।

প্রায় পাঁচ দশক আগে প্রতিষ্ঠিত এনবিআর ধারাবাহিকভাবে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বনিম্ন। সংশ্লিষ্টদের মতে, জনগণের উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে হলে কর-জিডিপি অনুপাত অন্তত ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে হবে। এ জন্য এনবিআরের কাঠামোগত সংস্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া, একটি প্রতিষ্ঠানকে করনীতি প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের উভয় দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয়— এ ধরনের ব্যবস্থা স্বার্থের সংঘাত তৈরি করে এবং অদক্ষতা বাড়ায়। অন্যদিকে, বহু বছর ধরে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে আসছেন, রাজস্ব আদায়কে অগ্রাধিকার দিয়ে নীতিনির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে ন্যায্যতা, প্রবৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা উপেক্ষিত হয়েছে। তবে বিভক্তির প্রক্রিয়াটি ‘কাগজে-কলমে’ থাকলেও মাঠ পর্যায়ে বা প্রশাসনিকভাবে পূর্ণ বাস্তবায়ন এখনও সম্পন্ন হয়নি। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের এক কর্মকর্তা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার এর রূপরেখা প্রায় চূড়ান্ত করলেও বিএনপি সরকার এটি বাস্তবায়ন করবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। কারণ এখানে প্রশাসন ক্যাডারের একটা আধিপত্যের বিষয় রয়েছে।

জানা গেছে, বিগত অন্তর্বর্তী সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের দীর্ঘদিনের সংস্কার প্রস্তাব অনুযায়ী এনবিআর বিলুপ্ত করে দুটি স্বতন্ত্র সংস্থা গঠন করে। গত বছরের ১২ মে এক অধ্যাদেশে জারি করে রাজস্বনীতি বিভাগ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ নামে সংস্থাটিকে আলাদা করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য– রাজস্বনীতি নির্ধারণ এবং প্রশাসনের কাজ পৃথক করা, যাতে দক্ষতা বাড়ানো ও স্বার্থের সংঘাত কমানো যায় এবং দেশের করভিত্তি সম্প্রসারণ করা যায়। তবে এনবিআরকে আলাদা করার সিদ্ধান্তের পর নজিরবিহীন আন্দোলন শুরু করেন সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের দাবি ছিল, কর ও শুল্ক ক্যাডারের কর্মকর্তারা সংস্কার প্রক্রিয়ায় যেসব সুপারিশ করেছেন তা উপেক্ষিত হয়েছে। অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা না করেই এই বিভক্তি করা হয়েছে। এই উদ্যোগ এনবিআরকে দুর্বল করবে, স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি করবে এবং প্রশাসনিক ক্যাডারের আধিপত্য বাড়াবে। এতে অভিজ্ঞ কর ও শুল্ক কর্মকর্তাদের পেশাগত অবস্থান ও প্রশাসনিক ক্ষমতাকে ক্ষুণ্ন হবে।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এসব দাবি তুলে অধ্যাদেশটি বাতিলের দাবিতে এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে টানা প্রায় দুই মাস (মে-জুন) কলম বিরতিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। এক পর্যায়ে তা ‘কমপ্লিট শাট ডাউনে’র মতো কর্মসূচিতে রূপ নেয়। এতে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে স্থবিরতা তৈরি হয়। কর্মকর্তাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হবে না– সে বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে নানাভাবে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করা হলেও আন্দোলন থামেনি। এরপর আন্দোলনে যুক্ত থাকায় কয়েকজন কর্মকর্তাকে বদলি করা হলে আন্দোলনকারীরা বদলির আদেশ ছিঁড়ে ফেলে প্রতিবাদ জানান। এক পর্যায়ে ‍দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আন্দোলনকারী কয়েকজন কর্মকর্তার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে নামে। পাশাপাশি দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করলে তারা আন্দোলনের ইতি টানেন। এরপর আন্দোলনে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল এমন কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বহিষ্কার ও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। যদিও এখন তাদের লঘুদণ্ড দিয়ে পর্যায়ক্রমে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হচ্ছে।

এভাবে নানা বাধাবিপত্তির পরও এই অধ্যাদেশ বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় আয়কর আইন, শুল্ক আইন ও মূসক আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হয়। এ ছাড়া বিভাগ সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও অন্যান্য অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ২০ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউসূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সভায় দুই বিভাগের দায়িত্ব ও জনকাঠামো চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। দুই বিভাগের দায়িত্ব এবং কোন ধরনের কর্মকর্তা এই দুই বিভাগে কাজ করবেন এবং জনবল পদায়ন হবে– তা চূড়ান্ত হয়েছে।
তবে নতুন এই দুই বিভাগ সৃষ্টির পরই এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট করেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব তানভীর আহমেদ। এই রিট দরখাস্তের ওপর এখন পর্যন্ত পাঁচটি শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ গত রোববার পঞ্চম শুনানি শেষে কোনো রুল জারি করেননি হাইকোর্ট।

এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান সমকালকে বলেন, ‘বলা চলে এনবিআরকে দুই ভাগে ভাগ করার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ। এখন বাস্তবায়নের বিষয়। নতুন সরকার কেবল দায়িত্ব নিয়েছে। সরকার আশা করি এটা বাস্তবায়ন করবে।’ এ সম্পর্কিত আন্দোলনের ঘটনায় যাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল তাদের প্রায় সবাইকে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

এনবিআরকে দুই ভাগ করার অগ্রগতি কতদূর

প্রকাশিত : ০৪:০১:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নানা বাধার মুখেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভেঙে রাজস্ব নীতি বিভাগ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ নামে দুটি স্বতন্ত্র ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। এটি এখনও বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে নতুন সরকার বিষয়টি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করবে নাকি আগের মতোই এনবিআর অবিভক্ত থাকবে তা নিয়ে কানাঘুষা রয়েছে সংস্থাটির কর্মকর্তাদের মধ্যে। কেউ কেউ বলছেন, বর্তমান সরকার এটি হয়তো উপেক্ষা করতে পারে। আবার কেউ বলছেন, এটি বাস্তবায়ন প্রায় চূড়ান্তের পথে। রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ও স্বচ্ছতা বাড়াতে নতুন সরকার এটি বাস্তবায়ন করবে।

প্রায় পাঁচ দশক আগে প্রতিষ্ঠিত এনবিআর ধারাবাহিকভাবে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বনিম্ন। সংশ্লিষ্টদের মতে, জনগণের উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে হলে কর-জিডিপি অনুপাত অন্তত ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে হবে। এ জন্য এনবিআরের কাঠামোগত সংস্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া, একটি প্রতিষ্ঠানকে করনীতি প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের উভয় দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয়— এ ধরনের ব্যবস্থা স্বার্থের সংঘাত তৈরি করে এবং অদক্ষতা বাড়ায়। অন্যদিকে, বহু বছর ধরে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে আসছেন, রাজস্ব আদায়কে অগ্রাধিকার দিয়ে নীতিনির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে ন্যায্যতা, প্রবৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা উপেক্ষিত হয়েছে। তবে বিভক্তির প্রক্রিয়াটি ‘কাগজে-কলমে’ থাকলেও মাঠ পর্যায়ে বা প্রশাসনিকভাবে পূর্ণ বাস্তবায়ন এখনও সম্পন্ন হয়নি। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের এক কর্মকর্তা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার এর রূপরেখা প্রায় চূড়ান্ত করলেও বিএনপি সরকার এটি বাস্তবায়ন করবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। কারণ এখানে প্রশাসন ক্যাডারের একটা আধিপত্যের বিষয় রয়েছে।

জানা গেছে, বিগত অন্তর্বর্তী সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের দীর্ঘদিনের সংস্কার প্রস্তাব অনুযায়ী এনবিআর বিলুপ্ত করে দুটি স্বতন্ত্র সংস্থা গঠন করে। গত বছরের ১২ মে এক অধ্যাদেশে জারি করে রাজস্বনীতি বিভাগ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ নামে সংস্থাটিকে আলাদা করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য– রাজস্বনীতি নির্ধারণ এবং প্রশাসনের কাজ পৃথক করা, যাতে দক্ষতা বাড়ানো ও স্বার্থের সংঘাত কমানো যায় এবং দেশের করভিত্তি সম্প্রসারণ করা যায়। তবে এনবিআরকে আলাদা করার সিদ্ধান্তের পর নজিরবিহীন আন্দোলন শুরু করেন সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের দাবি ছিল, কর ও শুল্ক ক্যাডারের কর্মকর্তারা সংস্কার প্রক্রিয়ায় যেসব সুপারিশ করেছেন তা উপেক্ষিত হয়েছে। অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা না করেই এই বিভক্তি করা হয়েছে। এই উদ্যোগ এনবিআরকে দুর্বল করবে, স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি করবে এবং প্রশাসনিক ক্যাডারের আধিপত্য বাড়াবে। এতে অভিজ্ঞ কর ও শুল্ক কর্মকর্তাদের পেশাগত অবস্থান ও প্রশাসনিক ক্ষমতাকে ক্ষুণ্ন হবে।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এসব দাবি তুলে অধ্যাদেশটি বাতিলের দাবিতে এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে টানা প্রায় দুই মাস (মে-জুন) কলম বিরতিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। এক পর্যায়ে তা ‘কমপ্লিট শাট ডাউনে’র মতো কর্মসূচিতে রূপ নেয়। এতে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে স্থবিরতা তৈরি হয়। কর্মকর্তাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হবে না– সে বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে নানাভাবে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করা হলেও আন্দোলন থামেনি। এরপর আন্দোলনে যুক্ত থাকায় কয়েকজন কর্মকর্তাকে বদলি করা হলে আন্দোলনকারীরা বদলির আদেশ ছিঁড়ে ফেলে প্রতিবাদ জানান। এক পর্যায়ে ‍দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আন্দোলনকারী কয়েকজন কর্মকর্তার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে নামে। পাশাপাশি দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করলে তারা আন্দোলনের ইতি টানেন। এরপর আন্দোলনে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল এমন কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বহিষ্কার ও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। যদিও এখন তাদের লঘুদণ্ড দিয়ে পর্যায়ক্রমে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হচ্ছে।

এভাবে নানা বাধাবিপত্তির পরও এই অধ্যাদেশ বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় আয়কর আইন, শুল্ক আইন ও মূসক আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হয়। এ ছাড়া বিভাগ সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও অন্যান্য অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ২০ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউসূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সভায় দুই বিভাগের দায়িত্ব ও জনকাঠামো চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। দুই বিভাগের দায়িত্ব এবং কোন ধরনের কর্মকর্তা এই দুই বিভাগে কাজ করবেন এবং জনবল পদায়ন হবে– তা চূড়ান্ত হয়েছে।
তবে নতুন এই দুই বিভাগ সৃষ্টির পরই এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট করেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব তানভীর আহমেদ। এই রিট দরখাস্তের ওপর এখন পর্যন্ত পাঁচটি শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ গত রোববার পঞ্চম শুনানি শেষে কোনো রুল জারি করেননি হাইকোর্ট।

এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান সমকালকে বলেন, ‘বলা চলে এনবিআরকে দুই ভাগে ভাগ করার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ। এখন বাস্তবায়নের বিষয়। নতুন সরকার কেবল দায়িত্ব নিয়েছে। সরকার আশা করি এটা বাস্তবায়ন করবে।’ এ সম্পর্কিত আন্দোলনের ঘটনায় যাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল তাদের প্রায় সবাইকে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।