জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুঁজিবাজারে যে আশার আলো দেখা দিয়েছিল, তা মাকসুদ কমিশনের চেয়ার রক্ষার লড়াইয়ে এখন অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে যে উত্থানের জোয়ার শুরু হয়েছিল, তা মাত্র তিন কার্যদিবসের টানা পতনে বিনিয়োগকারীদের হতাশায় ডুবিয়েছে। খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন কমিশনের অদূরদর্শিতা এবং সংস্কারের নামে অপসংস্কারের কারণে বাজার এখন খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে আছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের দাবি, এই কমিশনের অপসারণ ছাড়া বাজারের উন্নয়ন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এই কমিশন বহাল থাকলে অনেক বিনিয়োগকারীর আত্মহত্যা ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে গত ৯ ফেব্রুয়ারি ৮৩ পয়েন্ট এবং ১০ ফেব্রুয়ারি ৮৮ পয়েন্ট সূচকের বড় উত্থান ঘটেছিল। নির্বাচন পরবর্তী প্রথম কার্যদিবস ১৫ ফেব্রুয়ারি সূচক রেকর্ড ২০১ পয়েন্ট বেড়ে বিনিয়োগকারীদের মনে বড় প্রত্যাশা তৈরি করেছিল। কিন্তু এর পরপরই শুরু হয় মাকসুদ কমিশনের তথাকথিত সংস্কার আতঙ্ক, যার ফলে সোমবার ১১ পয়েন্ট এবং মঙ্গলবার ১৯ পয়েন্ট সূচক কমেছিল। আজ বুধবার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আরও ৫১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫৫১৯ পয়েন্টে, যা বাজারের চরম অস্থিরতাকে ফুটিয়ে তুলছে।
বিগত ১৭ মাস ধরে সংস্কারের বুলি আওড়ালেও বাস্তবে এর কোনো সুফল বিনিয়োগকারীরা পাননি, বরং তারা একে অপসংস্কার হিসেবে অভিহিত করছেন। শুরু থেকেই এই কমিশন বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে বিএসইসিকে একটি শাস্তি কমিশন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় এই কমিশন সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, মাকসুদ কমিশন চেয়ার ধরে রাখার যত চেষ্টা করছে, বাজারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ততই প্রবল হচ্ছে।
বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ কমেছে। আজ ডিএসইতে ৯৩৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিন ছিল ১ হাজার ২২২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ২৮৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা। বাজারে লেনদেন হওয়া ৩৯৩টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র ৮২টির, আর দর হারিয়েছে ২৮৬টি কোম্পানি, যা মোট লেনদেনের ৭২ শতাংশেরও বেশি। অপরিবর্তিত ছিল মাত্র ২৫টি কোম্পানির শেয়ার দর।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও পতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। বুধবার সিএসইতে ২১ কোটি ৯৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৮৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫৪২৮ পয়েন্টে। লেনদেন হওয়া ২২৮টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ৭৮টির এবং কমেছে ১২৭টি কোম্পানির শেয়ার দর। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান কমিশনের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট এখন চরমে, যা দ্রুত সমাধান না হলে বাজার আরও বড় বিপর্যয়ের দিকে যাবে।
ইয়াসিন 






















