০৩:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

সূচক বাড়লেও লেনদেনে ধস: বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতায় ধুঁকছে ডিএসই

নির্বাচনী জ্বরে কাঁপছে দেশের পুঁজিবাজার, যার প্রত্যক্ষ প্রতিফলন দেখা গেল সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবসেও। সোমবার সূচকের নামমাত্র উত্থান ঘটলেও বাজারের ভেতরের কঙ্কালসার দশা ঢাকা সম্ভব হয়নি। একদিকে কৃত্রিমভাবে সূচক টেনে ধরার চেষ্টা চলেছে, অন্যদিকে লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দরপতন বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার প্রমাণ দিচ্ছে। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স মাত্র ৮.৪২ পয়েন্ট বাড়লেও লেনদেনের পরিমাণ এক ধাক্কায় ৩৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা কমে ৪৮২ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। অর্থাৎ, বাজারে টাকা ঢোকানোর বদলে বিনিয়োগকারীরা এখন হাত গুটিয়ে তামাশা দেখছেন।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মতো বিনিয়োগকারীরাও এখন ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ নীতিতে অটল। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমলেও সূচক ইতিবাচক থাকা একটি ধোঁয়াশা তৈরি করেছে, যা মূলত গুটিকতক বড় শেয়ারের কারসাজি ছাড়া আর কিছুই নয়। ডিএসইতে ৩৯০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৮৯টিরই দরপতন হয়েছে, যা বাজারের প্রকৃত নেতিবাচক অবস্থাকেই স্পষ্ট করে। রাজনৈতিক ডামাডোল এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে সংশয় বিনিয়োগকারীদের এতটাই আতঙ্কিত করে রেখেছে যে, তারা নতুন করে পুঁজি বিনিয়োগের ঝুঁকি নিতে নারাজ। বিশ্লেষকরা একে ‘সতর্ক অবস্থান’ বলে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও আদতে এটি বাজারের স্থবিরতারই নামান্তর।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) চিত্রটা আরও ভয়াবহ। সেখানে লেনদেন অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। গতদিনের ৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকার লেনদেন আজ মাত্র ৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকায় ঠেকেছে। যদিও সূচক কিছুটা বেড়েছে, কিন্তু লেনদেনের এই খরা প্রমাণ করে যে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। নির্বাচন পরবর্তী স্থিতিশীলতার খোয়াব দেখিয়ে বাজার সংশ্লিষ্টরা এখন ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তবে বাস্তবতা হলো রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা না কাটলে পুঁজি হারানোর ভয়ে থাকা বিনিয়োগকারীরা বাজারে প্রাণচাঞ্চল্য ফেরাতে পারবেন না। বাজার এখন পুরোপুরি নির্বাচনমুখী অনিশ্চয়তার কবলে।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

জনপ্রিয় সংবাদ

সূচক বাড়লেও লেনদেনে ধস: বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতায় ধুঁকছে ডিএসই

প্রকাশিত : ০৫:৫৬:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

নির্বাচনী জ্বরে কাঁপছে দেশের পুঁজিবাজার, যার প্রত্যক্ষ প্রতিফলন দেখা গেল সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবসেও। সোমবার সূচকের নামমাত্র উত্থান ঘটলেও বাজারের ভেতরের কঙ্কালসার দশা ঢাকা সম্ভব হয়নি। একদিকে কৃত্রিমভাবে সূচক টেনে ধরার চেষ্টা চলেছে, অন্যদিকে লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দরপতন বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার প্রমাণ দিচ্ছে। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স মাত্র ৮.৪২ পয়েন্ট বাড়লেও লেনদেনের পরিমাণ এক ধাক্কায় ৩৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা কমে ৪৮২ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। অর্থাৎ, বাজারে টাকা ঢোকানোর বদলে বিনিয়োগকারীরা এখন হাত গুটিয়ে তামাশা দেখছেন।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মতো বিনিয়োগকারীরাও এখন ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ নীতিতে অটল। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমলেও সূচক ইতিবাচক থাকা একটি ধোঁয়াশা তৈরি করেছে, যা মূলত গুটিকতক বড় শেয়ারের কারসাজি ছাড়া আর কিছুই নয়। ডিএসইতে ৩৯০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৮৯টিরই দরপতন হয়েছে, যা বাজারের প্রকৃত নেতিবাচক অবস্থাকেই স্পষ্ট করে। রাজনৈতিক ডামাডোল এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে সংশয় বিনিয়োগকারীদের এতটাই আতঙ্কিত করে রেখেছে যে, তারা নতুন করে পুঁজি বিনিয়োগের ঝুঁকি নিতে নারাজ। বিশ্লেষকরা একে ‘সতর্ক অবস্থান’ বলে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও আদতে এটি বাজারের স্থবিরতারই নামান্তর।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) চিত্রটা আরও ভয়াবহ। সেখানে লেনদেন অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। গতদিনের ৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকার লেনদেন আজ মাত্র ৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকায় ঠেকেছে। যদিও সূচক কিছুটা বেড়েছে, কিন্তু লেনদেনের এই খরা প্রমাণ করে যে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। নির্বাচন পরবর্তী স্থিতিশীলতার খোয়াব দেখিয়ে বাজার সংশ্লিষ্টরা এখন ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তবে বাস্তবতা হলো রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা না কাটলে পুঁজি হারানোর ভয়ে থাকা বিনিয়োগকারীরা বাজারে প্রাণচাঞ্চল্য ফেরাতে পারবেন না। বাজার এখন পুরোপুরি নির্বাচনমুখী অনিশ্চয়তার কবলে।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব