পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের রক্তক্ষরণ কোনোভাবেই থামছে না। বরং সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ফের পতনের নাটক মঞ্চস্থ হওয়ার মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেওয়া হয়েছে। গত তিন কার্যদিবসের খুঁড়িয়ে চলা মাত্র ২৭ পয়েন্টের উত্থানকে মাত্র এক দিনের পতনেই তুচ্ছ প্রমাণ করেছে বাজার পরিস্থিতি, যা এক কথায় সাধারণ মানুষের রক্ত পানি করা পুঁজি নিয়ে এক নিষ্ঠুর তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়।
সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রবিবার সূচকের ৫৯ পয়েন্টের ভয়াবহ পতনের পর বিনিয়োগকারীরা যখন দিশেহারা, ঠিক তখনই সোম, মঙ্গল ও বুধবার যথাক্রমে ২ পয়েন্ট, ৫ পয়েন্ট ও ২০ পয়েন্ট করে মোট ২৭ পয়েন্ট বাড়িয়ে বাজারকে টেনে তোলার একটি ব্যর্থ চেষ্টা চালানো হয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার সেই সাজানো বাগান আবারও তছনছ হয়ে গেছে। দিনশেষে ডিএসইএক্স সূচক আরও ৮ পয়েন্ট হারিয়ে ৪৯৫৯ পয়েন্টে থিতু হয়েছে। এটি পরিষ্কারভাবে প্রমাণ করে যে, এই বাজার এখন সম্পূর্ণভাবে অনিশ্চয়তার কবলে নিমজ্জিত।
আজকের লেনদেনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠে। লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯০টি কোম্পানির মধ্যে ২২০টি, অর্থাৎ ৫৬.৪১ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দরপতন ঘটেছে। এর বিপরীতে মাত্র ১০২টি কোম্পানির দর কোনোমতে বেড়েছে। যদিও টাকার অঙ্কে লেনদেন আগের দিনের তুলনায় সামান্য বেড়ে ৩৭৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা হয়েছে, কিন্তু বড় বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নীরবতা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের জন্ম দিচ্ছে। যখন অর্ধেকের বেশি শেয়ারের দাম কমে যায়, তখন সামান্য লেনদেন বৃদ্ধি বাজারের জন্য কোনো সুসংবাদ বয়ে আনতে পারে না।
ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) আজ একই রকম হাহাকার লক্ষ্য করা গেছে। সেখানে সিএএসপিআই সূচক ৯ পয়েন্ট কমে ১৩৯০৭ পয়েন্টে নেমে এসেছে। লেনদেন হওয়া ১৫৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭১টিরই দরপতন ঘটেছে। অথচ আগের দিন সেখানে সূচক ৩৮ পয়েন্ট বেড়েছিল এবং লেনদেনের পরিমাণও ছিল ৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, যা আজ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকায়। অর্থাৎ, চট্টগ্রামের বাজারেও বিনিয়োগকারীদের আস্থা এখন শূন্যের কোঠায় এবং ক্রমাগত দরপতন বাজারের স্থিতিশীলতাকে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
বাজারের নিয়ন্ত্রণ কি তবে অদৃশ্য শক্তির হাতে: বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, যখন ৩ দিনের নামমাত্র উত্থান ১ দিনের স্বাভাবিক আঘাতেই ধূলিসাৎ হয়ে যায়, তখন বুঝতে হবে বাজার কোনো সুস্থ ধারায় নেই। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রলুব্ধ করে আবারও বড় ধরনের ধসের দিকে ঠেলে দেওয়ার একটি অদৃশ্য নীলনকশা কাজ করছে কি না, সেই প্রশ্ন এখন মুখে মুখে। যদি অতি দ্রুত এই পতনের লাগাম টেনে ধরা না যায়, তবে দেশের প্রধান এই দুই শেয়ারবাজার থেকে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা চিরতরে বিদায় নিতে বাধ্য হবে, যার দায়ভার বাজার কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।
অনলাইন ডেস্ক 






















