প্রথমবারের মতো ব্যাংকের খেলাপি ঋণের ভিত্তিতে আবাসন খাতে ঋণ বিতরণের সর্বোচ্চ সীমা ঠিক করে দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতদিন সব ব্যাংকের জন্য অভিন্ন সীমা ছিল। এখন থেকে খেলাপি ঋণ যত কম, তত বেশি আবাসন ঋণ দিতে পারবে ব্যাংক। খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশের নিচে থাকলে ওই ব্যাংক গৃহনির্মাণ খাতে চার কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারবে। আর ৫ শতাংশের বেশি, তবে ১০ শতাংশের নিচে থাকলে তিন কোটি এবং ১০ শতাংশের বেশি খেলাপি থাকা ব্যাংক আগের মতোই সর্বোচ্চ দুই কোটি টাকা দিতে পারবে।
গতকাল এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা সব ব্যাংকে পাঠানো হয়। কম খেলাপি ঋণের ব্যাংকের জন্য ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা বাড়ানো হলেও ঋণ ও নিজস্ব পুঁজির অনুপাত আগের মতোই ৭০:৩০ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। আবাসনের ক্রয়মূল্য ১০০ টাকার মধ্যে সর্বোচ্চ ৭০ টাকা ব্যাংক অর্থায়ন করবে। বাকি ৩০ টাকা নিজের থাকতে হবে। কোনো ফ্ল্যাটের দর যদি হয় পাঁচ কোটি ৭১ লাখ টাকা, তখন ৫ শতাংশের কম খেলাপি ঋণের একটি ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ চার কোটি টাকার ঋণ নিতে পারবেন একজন ভোক্তা। এভাবে অন্য ক্ষেত্রেও ৭০ শতাংশ নেওয়া যাবে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, আবাসন ও রিয়েল এস্টেট নির্মাণসামগ্রীর দর বৃদ্ধি এবং আবাসনের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের জন্য ঋণের নীতিমালা সংশোধন করা হয়েছে। এখন থেকে সর্বোচ্চ ঋণসীমা নিজ ব্যাংকের শ্রেণীকৃত ঋণের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। এ ছাড়া ঋণ বিতরণের আগে গ্রাহকের নগদ প্রবাহের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে আগের নির্দেশনা বাতিল হবে। তবে ভোক্তাঋণ নীতিমালার অন্য সব নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভোক্তাঋণ নীতিমালার আওতায় ব্যাংকগুলো গৃহনির্মাণ, গাড়ি ও ব্যক্তিগত ঋণ দিয়ে থাকে। একটি ব্যাংক সর্বোচ্চ কত টাকা পর্যন্ত দিতে পারবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সময়ে সময়ে তা নির্ধারণ করে দেয়। সর্বশেষ ২০১৯ সালে গৃহনির্মাণ ঋণের সর্বোচ্চ সীমা পুনর্নির্ধারণ করা হয়। ওই সময় সব ব্যাংকের জন্য সর্বোচ্চ সীমা এক কোটি ২০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে দুই কোটি টাকা করা হয়েছিল। তবে এবারই প্রথমবারের মতো ব্যাংকের শ্রেণীকৃত ঋণের ভিত্তিতে ঋণসীমা ঠিক করা হয়েছে।
অনলাইন ডেস্ক 
























