০৩:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
উত্থান দিয়ে বছর শুরু শেয়ারবাজারের

নতুন বছরে বিনিয়োগকারীদের মুখে হাসি

  • ইয়াসিন
  • প্রকাশিত : ০৫:১৭:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • 204

২০২৫ সালের মন্দাভাব ও অস্থিরতা কাটিয়ে ২০২৬ সালের নতুন সূর্যোদয় দেশের পুঁজিবাজারের জন্য স্বস্তি নিয়ে এসেছে। বছরের শেষ কার্যদিবসে উত্থানের যে মৃদু আভাস পাওয়া গিয়েছিল, নতুন বছরের প্রথম দিনেই তা একটি শক্তিশালী ও টেকসই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় রূপ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং দ্বিতীয় শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) উভয়ই বড় ধরনের সূচক বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে নতুন বছরের যাত্রা শুরু করেছে, যা বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের জমাটবদ্ধ হতাশা কাটিয়ে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

বাজারের এই ইতিবাচক পরিবর্তনের মূলে রয়েছে বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রত্যাবর্তন। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স এদিন ৪৫ পয়েন্টের বিশাল ব্যবধানে বৃদ্ধি পেয়ে ৪৯১০ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। এই উত্থানের তাৎপর্য অনেক গভীর, কারণ চলতি সপ্তাহের শুরুটা মোটেও সুখকর ছিল না। গত রবিবার ও সোমবার সূচক যথাক্রমে ১৫ ও ৭ পয়েন্ট হারিয়ে যখন নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছিল, ঠিক তখনই বছরের শুরুতে এই শক্তিশালী ভাবে ঘুরে দাঁড়ানো বাজারের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা। বিশেষ করে ৪ পয়েন্টের নামমাত্র বৃদ্ধির মাধ্যমে মঙ্গলবার যে শুভসূচনা হয়েছিল, বৃহস্পতিবারের বড় উত্থান সেটিকে একটি স্থিতিশীল ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

লেনদেনের পরিমাণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাজারে তারল্য প্রবাহ বা টাকার আনাগোনা বাড়তে শুরু করেছে। আজ ডিএসইতে ৩৬৮ কোটি ১৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় ১৪ কোটি ১২ লাখ টাকা বা ৪ শতাংশ বেশি। যদিও লেনদেনের এই অঙ্কটি বাজারের প্রকৃত সক্ষমতার তুলনায় এখনো কম, তবুও এটি ইঙ্গিত দেয় যে সাইডলাইনে থাকা বিনিয়োগকারীরা পুনরায় বাজারে ফিরতে শুরু করেছেন। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৯১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৬৩টির দাম বেড়েছে, অর্থাৎ প্রায় ৬৮ শতাংশ শেয়ারই ছিল লাভের তালিকায়। বিপরীতে মাত্র ১৬.৮৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের দর কমেছে, যা স্পষ্টত নির্দেশ করে যে বাজারে আজ বিক্রেতাদের চেয়ে ক্রেতাদের আধিপত্য ছিল অনেক বেশি।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

একই চিত্র ফুটে উঠেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই)। সেখানে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৯৭ পয়েন্ট বেড়ে ১৩৭০৭ পয়েন্টে পৌঁছেছে। যদিও লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের তুলনায় সামান্য কমে ৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে, তবে শেয়ারের দর বৃদ্ধির সংখ্যাটি ছিল চোখে পড়ার মতো। ১৪৩টি কোম্পানির মধ্যে ৯১টির দাম বাড়ার ঘটনাটি প্রমাণ করে যে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার কেনার প্রবণতা বেড়েছে। সিএসইতে আগের দিনের সূচক পতনের ধাক্কা কাটিয়ে এই বড় উত্থান বিনিয়োগকারীদের মনস্তাত্ত্বিক শক্তি জোগাবে।

বাজার সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, নতুন বছরের শুরুতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা বাজারকে এই ঊর্ধ্বমুখী গতি দিয়েছে। যদি লেনদেনের পরিমাণ আগামী কয়েক কার্যদিবসে ৫০০ কোটি টাকার ঘর অতিক্রম করতে পারে, তবে এই উত্থান দীর্ঘমেয়াদী রূপ নিতে পারে। ৪৯১০ পয়েন্টের এই অবস্থান থেকে সূচক যদি ৫০০০ পয়েন্টের মনস্তাত্ত্বিক বাধা অতিক্রম করতে সক্ষম হয়, তবে ২০২৬ সাল হতে পারে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের জন্য একটি মাইলফলক। বিনিয়োগকারীরা এখন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মৌলভিত্তি সম্পন্ন শেয়ারের দিকে ঝুঁকছেন, যা বাজারের টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি ইতিবাচক লক্ষণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্থান দিয়ে বছর শুরু শেয়ারবাজারের

নতুন বছরে বিনিয়োগকারীদের মুখে হাসি

প্রকাশিত : ০৫:১৭:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

২০২৫ সালের মন্দাভাব ও অস্থিরতা কাটিয়ে ২০২৬ সালের নতুন সূর্যোদয় দেশের পুঁজিবাজারের জন্য স্বস্তি নিয়ে এসেছে। বছরের শেষ কার্যদিবসে উত্থানের যে মৃদু আভাস পাওয়া গিয়েছিল, নতুন বছরের প্রথম দিনেই তা একটি শক্তিশালী ও টেকসই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় রূপ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং দ্বিতীয় শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) উভয়ই বড় ধরনের সূচক বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে নতুন বছরের যাত্রা শুরু করেছে, যা বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের জমাটবদ্ধ হতাশা কাটিয়ে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

বাজারের এই ইতিবাচক পরিবর্তনের মূলে রয়েছে বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রত্যাবর্তন। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স এদিন ৪৫ পয়েন্টের বিশাল ব্যবধানে বৃদ্ধি পেয়ে ৪৯১০ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। এই উত্থানের তাৎপর্য অনেক গভীর, কারণ চলতি সপ্তাহের শুরুটা মোটেও সুখকর ছিল না। গত রবিবার ও সোমবার সূচক যথাক্রমে ১৫ ও ৭ পয়েন্ট হারিয়ে যখন নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছিল, ঠিক তখনই বছরের শুরুতে এই শক্তিশালী ভাবে ঘুরে দাঁড়ানো বাজারের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা। বিশেষ করে ৪ পয়েন্টের নামমাত্র বৃদ্ধির মাধ্যমে মঙ্গলবার যে শুভসূচনা হয়েছিল, বৃহস্পতিবারের বড় উত্থান সেটিকে একটি স্থিতিশীল ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

লেনদেনের পরিমাণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাজারে তারল্য প্রবাহ বা টাকার আনাগোনা বাড়তে শুরু করেছে। আজ ডিএসইতে ৩৬৮ কোটি ১৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় ১৪ কোটি ১২ লাখ টাকা বা ৪ শতাংশ বেশি। যদিও লেনদেনের এই অঙ্কটি বাজারের প্রকৃত সক্ষমতার তুলনায় এখনো কম, তবুও এটি ইঙ্গিত দেয় যে সাইডলাইনে থাকা বিনিয়োগকারীরা পুনরায় বাজারে ফিরতে শুরু করেছেন। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৯১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৬৩টির দাম বেড়েছে, অর্থাৎ প্রায় ৬৮ শতাংশ শেয়ারই ছিল লাভের তালিকায়। বিপরীতে মাত্র ১৬.৮৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের দর কমেছে, যা স্পষ্টত নির্দেশ করে যে বাজারে আজ বিক্রেতাদের চেয়ে ক্রেতাদের আধিপত্য ছিল অনেক বেশি।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

একই চিত্র ফুটে উঠেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই)। সেখানে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৯৭ পয়েন্ট বেড়ে ১৩৭০৭ পয়েন্টে পৌঁছেছে। যদিও লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের তুলনায় সামান্য কমে ৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে, তবে শেয়ারের দর বৃদ্ধির সংখ্যাটি ছিল চোখে পড়ার মতো। ১৪৩টি কোম্পানির মধ্যে ৯১টির দাম বাড়ার ঘটনাটি প্রমাণ করে যে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার কেনার প্রবণতা বেড়েছে। সিএসইতে আগের দিনের সূচক পতনের ধাক্কা কাটিয়ে এই বড় উত্থান বিনিয়োগকারীদের মনস্তাত্ত্বিক শক্তি জোগাবে।

বাজার সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, নতুন বছরের শুরুতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা বাজারকে এই ঊর্ধ্বমুখী গতি দিয়েছে। যদি লেনদেনের পরিমাণ আগামী কয়েক কার্যদিবসে ৫০০ কোটি টাকার ঘর অতিক্রম করতে পারে, তবে এই উত্থান দীর্ঘমেয়াদী রূপ নিতে পারে। ৪৯১০ পয়েন্টের এই অবস্থান থেকে সূচক যদি ৫০০০ পয়েন্টের মনস্তাত্ত্বিক বাধা অতিক্রম করতে সক্ষম হয়, তবে ২০২৬ সাল হতে পারে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের জন্য একটি মাইলফলক। বিনিয়োগকারীরা এখন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মৌলভিত্তি সম্পন্ন শেয়ারের দিকে ঝুঁকছেন, যা বাজারের টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি ইতিবাচক লক্ষণ।