নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ১৪৫তম জন্ম ও ৯৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। দিনটি ঘিরে পুরো দেশে নানা কর্মসূচি হলেও সবচেয়ে আলোচিত কেন্দ্রবিন্দু রংপুরের মিঠাপুকুরের পায়রাবন্দ; যেখানে দীর্ঘ ১৩ বছর বন্ধ থাকা ‘বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র’ অবশেষে জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। বহু বছরের অবহেলা, প্রশাসনিক জটিলতা আর দখলবাজির অভিযোগ পেরিয়ে রোকেয়ার স্মৃতিধন আজ আবার আলো দেখল।
রোকেয়া দিবস উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক বাণীতে বলেন, নারী মুক্তি ও মানবাধিকার সংগ্রামে রোকেয়ার অবদান প্রজন্মের পর প্রজন্মকে আলো দেখিয়েছে। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আজ চার নারীকে প্রদান করা হচ্ছে রোকেয়া পদক ২০২৫। নারীশিক্ষা থেকে ক্রীড়া—বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের জন্য এই সম্মান পাচ্ছেন রুভানা রাকিব, কল্পনা আক্তার, নাবিলা ইদ্রিস ও ঋতুপর্ণা চাকমা।
এদিকে রোকেয়ার জন্মভূমির স্মৃতিকেন্দ্রটি আজ নতুন করে সাজানো রূপে খুলে গেলেও দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে এর পেছনে। মিলনায়তন, গবেষণাকেন্দ্র, লাইব্রেরি, সংগ্রহশালা ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র নিয়ে ২০০১ সালে উদ্বোধন হওয়া প্রতিষ্ঠানটি ২০০৪ সালে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে বন্ধ হয়ে পড়ে। পরে শ্রমিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হলে স্থানীয়দের তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। আদালতের নির্দেশে ২০১২ সালে বিকেএমইকে উচ্ছেদ করা হলেও কেন্দ্রটি আর চালু হয়নি। ১৩ বছরের সেই থমকে থাকা অবস্থার অবসান হলো আজ।
বাংলা একাডেমির সহকারী পরিচালক এবং কেন্দ্রটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবিদ করিম মুন্না জানান, এখানে তিনটি ট্রেডে ৮০ জন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ নেবেন। নারীদের সেলাই ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন ও সংগীত শেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে স্থানীয়দের ক্ষোভ রয়ে গেছে সংস্কার প্রকল্প নিয়ে। প্রস্তাবিত ১০০ কোটি টাকার আধুনিকায়ন প্রকল্প এখনো একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায়। বরাদ্দ না পেয়ে বহু পরিকল্পনা আটকে আছে বলে জানিয়েছে রোকেয়া স্মৃতি পাঠাগার। একই সঙ্গে রোকেয়ার পৈতৃক ভিটা নিয়েও বিতর্ক চলছে—৩৫০ বিঘার জমির বড় অংশ দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ; মামলাটি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন।
রোকেয়া দিবস উপলক্ষে আজ পায়রাবন্দে চলছে তিন দিনব্যাপী উৎসব। পুষ্পমাল্য অর্পণ, রক্তদান, আলোচনা সভা, নাটিকা, কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা—সব মিলিয়ে জন্মভূমি সরগরম। মেলায় রয়েছে সার্কাস, পুতুলনাচ, মোটরসাইকেল খেলা, মনিহারি ও কাঠের সামগ্রীর দোকান।
নারী জাগরণের এই প্রতীকী দিনে পায়রাবন্দ যেন আবার ফিরে পেয়েছে তার আলো—রোকেয়ার নামের মতোই দৃঢ়, অনুপ্রেরণাময় সেই আলো।
অনলাইন ডেস্ক 























