০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

বিডিআর ইউনিফর্ম কেন বানিয়েছিলেন সোহেল তাজ, উঠে এলো জবানবন্দিতে

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি—ঘটনার সময় তিনি দেশের বাইরে ছিলেন। তবে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের জমাকৃত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য, যা পুরো ঘটনার ওপর নতুন করে প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, হত্যাকাণ্ডের মাত্র কয়েকদিন আগে, অর্থাৎ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ তারিখে সোহেল তাজের জন্য বিডিআর ইউনিফর্ম তৈরি করা হয়েছিল।

তদন্ত প্রতিবেদনে সাক্ষ্য দিয়েছেন কয়েদি সাক্ষী হাবিলদার জসিম উদ্দিন এবং বিডিআর সদর দপ্তরের দর্জি আছিফুর রহমান আকাশ। তাদের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, তৎকালীন প্রতিমন্ত্রীর জন্য ইউনিফর্ম তৈরির নির্দেশ আসে সদর রাইফেল ব্যাটালিয়নের মেজর মোস্তাকের কাছ থেকে। সেই নির্দেশে আকাশ ১৭ ফেব্রুয়ারি সোহেল তাজের অফিসে যান এবং সেখানে তার শরীরের মাপ নেন। মাপ নিতে তাকে অফিসে নিয়ে যান ডিএডি তৌহিদ, যিনি পরবর্তীতে পিলখানার বিদ্রোহে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের একজন হিসেবে অভিযুক্ত হন। আকাশ জানান, তিনি মাপ নেওয়ার পর কয়েকদিনের মধ্যেই ইউনিফর্মটি তৈরি করে প্রতিমন্ত্রীর অফিসে পৌঁছে দেন। যদিও ইউনিফর্মটি দেওয়ার সময় তার সঙ্গে সোহেল তাজের দেখা হয়নি।

জবানবন্দিতে আকাশ আরও উল্লেখ করেন, মন্ত্রীর জন্য বানানো ইউনিফর্মে কোনো র‌্যাংক লাগানো ছিল না, তবে ডিপ সাইন ছিল। খবর ছড়িয়ে পড়ে যে তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী নিজেই প্যারেড দেখতে আসবেন এবং সেজন্যই নিজের জন্য এই বিডিআর ইউনিফর্ম তৈরি করাচ্ছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে অন্যান্য কর্মকর্তাদের মধ্যে অস্বাভাবিক কৌতূহল তৈরি হয়। শহিদ কর্নেল আনিস, মেজর হুমায়ুনসহ অনেকে সেই ইউনিফর্মটি দেখেন এবং বিষয়টিকে “অভূতপূর্ব” ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

অন্যদিকে, সোহেল তাজ শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন যে, তিনি এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত নন এবং ঘটনার সময় বাংলাদেশে ছিলেন না। তবে তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে ইউনিফর্ম তৈরির এই ঘটনাটি সামনে আসার পর তা নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যদের হাতে নিষ্ঠুরতার শিকার হয়ে প্রাণ হারান ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা। বাংলাদেশ ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞগুলোর একটি এই ঘটনা। দীর্ঘ ১১ মাস তদন্ত শেষে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেয়, যেখানে উঠে আসে বহু অজানা তথ্য—তারই একটি হলো প্রতিমন্ত্রীর জন্য হত্যাকাণ্ডের সপ্তাহ না পেরোতেই বিডিআর ইউনিফর্ম তৈরির ঘটনা।

পিলখানা ট্রাজেডি আজো দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায়গুলোর একটি। আর তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা এই নতুন তথ্য পুরো ঘটনার রহস্যকে আরও জটিল করে তুলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিডিআর ইউনিফর্ম কেন বানিয়েছিলেন সোহেল তাজ, উঠে এলো জবানবন্দিতে

প্রকাশিত : ১০:৪৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি—ঘটনার সময় তিনি দেশের বাইরে ছিলেন। তবে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের জমাকৃত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য, যা পুরো ঘটনার ওপর নতুন করে প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, হত্যাকাণ্ডের মাত্র কয়েকদিন আগে, অর্থাৎ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ তারিখে সোহেল তাজের জন্য বিডিআর ইউনিফর্ম তৈরি করা হয়েছিল।

তদন্ত প্রতিবেদনে সাক্ষ্য দিয়েছেন কয়েদি সাক্ষী হাবিলদার জসিম উদ্দিন এবং বিডিআর সদর দপ্তরের দর্জি আছিফুর রহমান আকাশ। তাদের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, তৎকালীন প্রতিমন্ত্রীর জন্য ইউনিফর্ম তৈরির নির্দেশ আসে সদর রাইফেল ব্যাটালিয়নের মেজর মোস্তাকের কাছ থেকে। সেই নির্দেশে আকাশ ১৭ ফেব্রুয়ারি সোহেল তাজের অফিসে যান এবং সেখানে তার শরীরের মাপ নেন। মাপ নিতে তাকে অফিসে নিয়ে যান ডিএডি তৌহিদ, যিনি পরবর্তীতে পিলখানার বিদ্রোহে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের একজন হিসেবে অভিযুক্ত হন। আকাশ জানান, তিনি মাপ নেওয়ার পর কয়েকদিনের মধ্যেই ইউনিফর্মটি তৈরি করে প্রতিমন্ত্রীর অফিসে পৌঁছে দেন। যদিও ইউনিফর্মটি দেওয়ার সময় তার সঙ্গে সোহেল তাজের দেখা হয়নি।

জবানবন্দিতে আকাশ আরও উল্লেখ করেন, মন্ত্রীর জন্য বানানো ইউনিফর্মে কোনো র‌্যাংক লাগানো ছিল না, তবে ডিপ সাইন ছিল। খবর ছড়িয়ে পড়ে যে তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী নিজেই প্যারেড দেখতে আসবেন এবং সেজন্যই নিজের জন্য এই বিডিআর ইউনিফর্ম তৈরি করাচ্ছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে অন্যান্য কর্মকর্তাদের মধ্যে অস্বাভাবিক কৌতূহল তৈরি হয়। শহিদ কর্নেল আনিস, মেজর হুমায়ুনসহ অনেকে সেই ইউনিফর্মটি দেখেন এবং বিষয়টিকে “অভূতপূর্ব” ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

অন্যদিকে, সোহেল তাজ শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন যে, তিনি এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত নন এবং ঘটনার সময় বাংলাদেশে ছিলেন না। তবে তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে ইউনিফর্ম তৈরির এই ঘটনাটি সামনে আসার পর তা নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যদের হাতে নিষ্ঠুরতার শিকার হয়ে প্রাণ হারান ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা। বাংলাদেশ ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞগুলোর একটি এই ঘটনা। দীর্ঘ ১১ মাস তদন্ত শেষে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেয়, যেখানে উঠে আসে বহু অজানা তথ্য—তারই একটি হলো প্রতিমন্ত্রীর জন্য হত্যাকাণ্ডের সপ্তাহ না পেরোতেই বিডিআর ইউনিফর্ম তৈরির ঘটনা।

পিলখানা ট্রাজেডি আজো দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায়গুলোর একটি। আর তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা এই নতুন তথ্য পুরো ঘটনার রহস্যকে আরও জটিল করে তুলছে।