কার্যকারিতা শিথিল রেখে নতুন মার্জিন ঋণ বিধিমালার গেজেট জারি করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। বিধিমালার কারণে যেসব শেয়ার ঋণযোগ্য হবে না, সেগুলো বিক্রি করতেও ছয় মাস থেকে এক বছর সময় দেওয়া হয়েছে। নতুন বিধিমালা এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে পরিবর্তনগুলো মানিয়ে নিতে সহনীয় সময় পাওয়া যায়।
গত বৃহস্পতিবার মার্জিন ঋণ বিধিমালার গেজেট প্রকাশ হয়েছে। এর ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে ওই দিনের লেনদেনে। টানা পঞ্চম দিনে দর পতনের প্রথম তিন ঘণ্টায় পতনে প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ৫৭ পয়েন্ট হারিয়ে ৪৯২৮ পয়েন্টে নেমেছিল। শেষ সোয়া ঘণ্টায় ওই অবস্থান থেকে ৫৬ পয়েন্ট বেড়ে ৪৯৮৪ পয়েন্ট ছাড়ায়।
শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিধিমালা জারিকে সামনে রেখে অস্বস্তিতে ছিলেন বিনিয়োগকারীরা। কম নন-মার্জিন হওয়া শেয়ার বিক্রি করে ঋণ সমন্বয়ে চাপ তৈরির আশঙ্কা ছিল। সেই ভয় এখন কেটেছে।
প্রাইম ব্যাংক সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, নতুন কিছু প্রস্তাবও বড় স্বস্তি দিয়েছে। আগে ছিল– খাতের পিইর (মূল্য-আয় অনুপাত) তুলনায় বেশি পিইওর শেয়ারে ঋণ দেওয়া যাবে না। নতুন বিধিমালায় বলা হয়েছে, খাতের দ্বিগুণ পিই পর্যন্ত ঋণ মিলবে। আগে মার্জিন ঋণের সুদ আদায়ের ব্যবস্থা ছিল না। এখন বলা হয়েছে, তিন মাস অন্তর প্রয়োজনে শেয়ার বিক্রি করে সুদ আদায় করা যাবে। এতে বাজারে মার্জিন ঋণ অর্থায়নে অর্থের জোগান নিশ্চিত হবে, নগদ প্রবাহ বাড়বে।
মার্জিন ঋণ হার কত, কারা পাবেন-
পাঁচ লাখ টাকার কম বিনিয়োগ নিয়ে কেউ মার্জিন ঋণ বা শেয়ার কেনার জন্য পাবেন না। এর কমে কেউ আগে ঋণ নিয়ে থাকলে এক বছরের মধ্যে বিনিয়োগ পাঁচ লাখে উন্নীত করতে হবে। অন্যথায় শেয়ার বিক্রি করে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হবে। যাদের বিনিয়োগ ১০ লাখের কম তারা নিজস্ব বিনিয়োগের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ঋণ নিতে পারবেন। তবে এর বেশি হলে সর্বোচ্চ সমান অনুপাতে ঋণ পাবেন। আবার যার যত বিনিয়োগই থাকুক না কেন, লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার কিনতে নিজ বিনিয়োগের ৫০ শতাংশের বেশি ঋণ মিলবে না। বাজার পিই অনুপাত ২০-এর বেশি হলে ঋণ অনুপাত ২৫ শতাংশে নামবে। শুধু ‘এ’ ক্যাটেগরি এবং কমপক্ষে ৫ শতাংশ লভ্যাংশ প্রদানকারী ‘বি’ ক্যাটেগরির শেয়ারে ঋণ মিলবে। আবার ইতোমধ্যে কেনা শেয়ারের বাজার মূল্য বৃদ্ধি বিবেচনায় নতুন ঋণ মিলবে না। আরও ঋণ চাইলে আগে শেয়ার বিক্রি করে নগদায়ন করতে হবে। লাইফ ইন্স্যুরেন্সের হালনাগাদ একচ্যুরিয়াল ভেল্যুয়েশন না থাকলে ঋণ মিলবে না।
ঋণ নিতে যা মাথায় রাখতে হবে-
নতুন বিধান অনুযায়ী ঋণগ্রহীতার পোর্টফোলিওতে নিজস্ব বিনিয়োগ মূল্য ৫০ শতাংশ নামলেই ‘ফোর্স সেল’ বা বাধ্যতামূলক শেয়ার বিক্রি হবে। এর আগে ৭৫ শতাংশে নামলেই ‘মার্জিন কল’ হবে। ঋণদাতা চাইলে শেয়ার বিক্রি করে ঋণ অনুপাত বজায় রাখতে পারবে।
আবার মার্জিন ঋণের বিপরীতে প্রতি তিন মাসে নগদে বা শেয়ার বিক্রি করে সুদ দিতে হবে। অন্যথায় ঋণদাতা শেয়ার বিক্রি করে সুদ আদায় করবে। মার্জিন অ্যাকাউন্ট খুলতে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে আগে মার্জিন ঋণ নিয়ে থাকলে তার ঘোষণা দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে অসম্পূর্ণ বা অসত্য তথ্য দিলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে বিএসইসি।
মার্জিন অ্যাকাউন্ট হবে সর্বোচ্চ এক বছর মেয়াদি। মেয়াদ শেষে নবায়ন না করে চালানো যাবে না। নবায়ন না হলে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে সমুদয় শেয়ার বিক্রি করে সমন্বয় করা হবে।
চেক বা পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফট দিয়ে মার্জিন ঋণসহ শেয়ার কেনার পরদিনও তা নগদায়ন না হলে ঋণদাতা শেয়ার বিক্রি করে সমন্বয় করবে। এ ক্ষেত্রে লাভ বা ক্ষতি যাই হবে, তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের। একজন সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত মার্জিন ঋণ পাবেন, তবে তা ঋণদাতার প্রকৃত মূলধন বা নিট সম্পদ মূল্যের ১৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।
অনলাইন ডেস্ক 






















