০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে উপাচার্য হিসাবে যোগ দিলেন অস্ট্রেলিয়ান অধ্যাপক

এশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে উপাচার্য হিসাবে যোগ দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাউদার্ন কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রখ্যাত অধ্যাপক ড. শাহজাহান খান। তিরিশ বছরের মত পরিসংখ্যানের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক হিসাবে অধ্যাপনা শেষে অধ্যাপক ড. শাহজাহান খান তার জন্মভূমি বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। সম্প্রতি তিনি এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য হিসাবে বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছেন।

অধ্যাপক খান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাষ্টারস ডিগ্রী অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি কানাডার ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে আরেকবার মাষ্টারস, ও পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন। আশির দশকের শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যানের প্রভাষক হিসেবে তার শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। তিনি ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, কানাডা; সৌদি আরবের কিং ফাহাদ ইউনিভার্সিটি অফ পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মিনারেলস; বাহরাইন এর বাহরাইন বিশ্ববিদ্যালয়; ওমানের সুলতান কাবুস বিশ্ববিদ্যালয়; এবং বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক পদে দায়িত্ব পালন করেন।

অধ্যাপক খান ২০০৫ হতে ২০১১ সাল পর্যন্ত ইসলামিক কান্ট্রিস সোসাইটি অফ স্ট্যাটিস্টিক্যাল সায়েন্সেস এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং কুয়ালালামপুর, মালয়েশিয়া (২০০৭); ঢাকা, বাংলাদেশ (২০০৮); কায়রো, মিশর (২০০৯); দোহা, কাতার (২০১১); এবং বোগর, ইন্দোনেশিয়া (২০১৪) তে সফলভাবে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান সম্মেলন সমূহের প্রধান সংগঠক ছিলেন তিনি।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

অধ্যাপক ড. শাহজাহান খান নেদারল্যান্ড ভিত্তিক আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউট এর একজন নির্বাচিত সদস্য; যুক্তরাজ্যের রয়্যাল স্ট্যাটিস্টিক্যাল সোসাইটি এর নির্বাচিত ফেলো; ও যুক্তরাস্ট্রের গাণিতিক পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউট এর সদস্য। এছাড়াও তিনি অস্ট্রেলিয়ান পরিসংখ্যান সমিতি,বাংলাদেশ পরিসংখ্যান সমিতির আজীবন সদস্য। অসামান্য গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পেশাদারী নেতৃত্বের জন্য, অধ্যাপক খান ২০০১ সালে স্বর্ণপদক লাভ করেন। তিনি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান সমিতি কর্তৃক ১৯৯০ সালে প্রবর্তিত মর্যাদাপূর্ণ কাজী মোতাহার হোসেন স্বর্ণপদক (২০১২) বিজয়ী চারজন বিজেতার একজন ও সর্বশেষ বিজেতা।

মৌলিক গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ, অধ্যাপক খান ২০১৩ সালে বাংলাদেশ একাডেমি অফ সায়েন্সেস এর একজন “প্রবাসীফেলো” নির্বাচিত হন তিনি।

অধ্যাপক খান ২০০৬ সাল থেকে যুক্তরাস্ট্র ভিত্তিক জার্নাল অফ অ্যাপ্লাইড প্রোবাবিলিটি অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকস এর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এছাড়াও তিনি বেশ কয়েকটি সম্মেলনের কার্যবিবরণী সম্পাদনা করেছেন। ২০১১ সালে ইসলামিক কান্ট্রিস সোসাইটি অফ স্ট্যাটিস্টিক্যাল সায়েন্সেস অধ্যাপক খানের সম্মানে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করে।

অধ্যাপক খান কুইন্সল্যান্ডের ইসলামিক কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দুই মেয়াদে (২০০৭ এবং ২০১৪) দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন অফ ইসলামিক কাউন্সিলের অন্তবর্তী সভাপতি হিসাবে নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি মেলবোর্নভিত্তিক,অস্ট্রেলিয়ার প্রাচীনতম এবং বৃহত্তম ইসলামিক ফাইন্যান্স ইনস্টিটিউশন, মুসলিম কমিউনিটি কো-অপারেটিভ অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচিত পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন (২০১৪-২০১৭) ।

জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং নীতি নির্ধারকদের দৃস্টি আকর্ষণ করার লক্ষ্যে অধ্যাপক খান বিভিন্ন সামাজিক ও কমিউনিটির সমস্যা তুলে ধরে ধারাবাহিক চিন্তাশীল নিবন্ধ লিখেছেন। তিনি নিপীড়িত মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ান পার্লামেন্টে আবেদন দাখিলের কার্যক্রম শুরু এবং এটি সংগঠিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

অধ্যাপক খান গোপালগঞ্জ জেলার একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। স্ত্রী আনার কলি লুৎফুন্নাহার ও অধ্যাপক খান তিন পুত্রসন্তানের গর্বিত বাবা-মা। তাদের জ্যেষ্ঠ ছেলে একজন বিশ্বখ্যাত আইটি পেশাদার ও ছোট দুই ছেলে সুশিক্ষিত উদ্যোক্তা যারা অস্ট্রেলিয়ায় তাদের উৎপাদন শিল্প চালাচ্ছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

এশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে উপাচার্য হিসাবে যোগ দিলেন অস্ট্রেলিয়ান অধ্যাপক

প্রকাশিত : ১২:১৮:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২

এশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে উপাচার্য হিসাবে যোগ দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাউদার্ন কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রখ্যাত অধ্যাপক ড. শাহজাহান খান। তিরিশ বছরের মত পরিসংখ্যানের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক হিসাবে অধ্যাপনা শেষে অধ্যাপক ড. শাহজাহান খান তার জন্মভূমি বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। সম্প্রতি তিনি এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য হিসাবে বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছেন।

অধ্যাপক খান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাষ্টারস ডিগ্রী অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি কানাডার ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে আরেকবার মাষ্টারস, ও পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন। আশির দশকের শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যানের প্রভাষক হিসেবে তার শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। তিনি ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, কানাডা; সৌদি আরবের কিং ফাহাদ ইউনিভার্সিটি অফ পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মিনারেলস; বাহরাইন এর বাহরাইন বিশ্ববিদ্যালয়; ওমানের সুলতান কাবুস বিশ্ববিদ্যালয়; এবং বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক পদে দায়িত্ব পালন করেন।

অধ্যাপক খান ২০০৫ হতে ২০১১ সাল পর্যন্ত ইসলামিক কান্ট্রিস সোসাইটি অফ স্ট্যাটিস্টিক্যাল সায়েন্সেস এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং কুয়ালালামপুর, মালয়েশিয়া (২০০৭); ঢাকা, বাংলাদেশ (২০০৮); কায়রো, মিশর (২০০৯); দোহা, কাতার (২০১১); এবং বোগর, ইন্দোনেশিয়া (২০১৪) তে সফলভাবে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান সম্মেলন সমূহের প্রধান সংগঠক ছিলেন তিনি।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

অধ্যাপক ড. শাহজাহান খান নেদারল্যান্ড ভিত্তিক আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউট এর একজন নির্বাচিত সদস্য; যুক্তরাজ্যের রয়্যাল স্ট্যাটিস্টিক্যাল সোসাইটি এর নির্বাচিত ফেলো; ও যুক্তরাস্ট্রের গাণিতিক পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউট এর সদস্য। এছাড়াও তিনি অস্ট্রেলিয়ান পরিসংখ্যান সমিতি,বাংলাদেশ পরিসংখ্যান সমিতির আজীবন সদস্য। অসামান্য গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পেশাদারী নেতৃত্বের জন্য, অধ্যাপক খান ২০০১ সালে স্বর্ণপদক লাভ করেন। তিনি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান সমিতি কর্তৃক ১৯৯০ সালে প্রবর্তিত মর্যাদাপূর্ণ কাজী মোতাহার হোসেন স্বর্ণপদক (২০১২) বিজয়ী চারজন বিজেতার একজন ও সর্বশেষ বিজেতা।

মৌলিক গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ, অধ্যাপক খান ২০১৩ সালে বাংলাদেশ একাডেমি অফ সায়েন্সেস এর একজন “প্রবাসীফেলো” নির্বাচিত হন তিনি।

অধ্যাপক খান ২০০৬ সাল থেকে যুক্তরাস্ট্র ভিত্তিক জার্নাল অফ অ্যাপ্লাইড প্রোবাবিলিটি অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকস এর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এছাড়াও তিনি বেশ কয়েকটি সম্মেলনের কার্যবিবরণী সম্পাদনা করেছেন। ২০১১ সালে ইসলামিক কান্ট্রিস সোসাইটি অফ স্ট্যাটিস্টিক্যাল সায়েন্সেস অধ্যাপক খানের সম্মানে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করে।

অধ্যাপক খান কুইন্সল্যান্ডের ইসলামিক কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দুই মেয়াদে (২০০৭ এবং ২০১৪) দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন অফ ইসলামিক কাউন্সিলের অন্তবর্তী সভাপতি হিসাবে নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি মেলবোর্নভিত্তিক,অস্ট্রেলিয়ার প্রাচীনতম এবং বৃহত্তম ইসলামিক ফাইন্যান্স ইনস্টিটিউশন, মুসলিম কমিউনিটি কো-অপারেটিভ অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচিত পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন (২০১৪-২০১৭) ।

জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং নীতি নির্ধারকদের দৃস্টি আকর্ষণ করার লক্ষ্যে অধ্যাপক খান বিভিন্ন সামাজিক ও কমিউনিটির সমস্যা তুলে ধরে ধারাবাহিক চিন্তাশীল নিবন্ধ লিখেছেন। তিনি নিপীড়িত মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ান পার্লামেন্টে আবেদন দাখিলের কার্যক্রম শুরু এবং এটি সংগঠিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

অধ্যাপক খান গোপালগঞ্জ জেলার একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। স্ত্রী আনার কলি লুৎফুন্নাহার ও অধ্যাপক খান তিন পুত্রসন্তানের গর্বিত বাবা-মা। তাদের জ্যেষ্ঠ ছেলে একজন বিশ্বখ্যাত আইটি পেশাদার ও ছোট দুই ছেলে সুশিক্ষিত উদ্যোক্তা যারা অস্ট্রেলিয়ায় তাদের উৎপাদন শিল্প চালাচ্ছেন।