বিজয় একাত্তর হলের আবাসিক ছাত্র গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী অসুস্থ আখতারুল ইসলামের উপর গেস্ট রুমে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে একই হলের ২০১৯-২০ সেশনের ৬ জন শিক্ষার্থীর ব্যাপারে।
তারা সবাই বিজয় একাত্তর হলের ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী আবু ইউনুছ ও রবিউল ইসলাম রানার অনুসারী। ব্রেন স্ট্রোক করে এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে ভর্তি দিনমজুর বাবার জন্য মানসিকভাবে বিপর্যস্ত আখতারুল নিজেও শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন কয়েকদিন যাবত।
এই কারণে সে পরশুদিন গেস্ট রুমে উপস্থিত হতে পারেনি। গতকাল রাতে তাকে গেস্ট রুমে ডেকে নিয়ে এই অপরাধে ১০ মিনিট উপরের লাইটের দিকে তাকিয়ে থাকতে বাধ্য করা হয়। কয়েক মিনিট তাকিয়ে থেকে অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে জরুরিভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেল নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
উক্ত ঘটনায় ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃবৃন্দ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, অথর্ব প্রশাসনের ব্যর্থতায় দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানটি বারবার কলঙ্কিত হচ্ছে এসব ঘটনায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো পরিণত হয়েছে ছাত্রলীগের টর্চার সেলে।
প্রশাসন গেস্ট রুম বন্ধের বিষয়ে বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও রাজনৈতিক মেরুদণ্ডহীনতা বশত ছাত্রলীগের হাতের পুতুল হিসেবেই কাজ করে চলেছে। নেতৃবৃন্দ এ সময় অভিযুক্ত ৬ ছাত্রলীগ কর্মীকে আজীবনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করার দাবি তোলেন এবং অবিলম্বে গেস্ট রুম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ খালিদ ও সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আহসান মারজান এক বিবৃতিতে বলেন, এবারের ঘটনায় প্রশাসন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিবেন এটাই আমরা প্রত্যাশা করি।
গতকালের এই ঘটনাটি আরেক হাফিজুলের পরিণতিও ডেকে আনতে পারত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত নাকি ছাত্রলীগের দুষ্কর্মের সার্টিফিকেট প্রদানে ব্যস্ত, সেটি আমরা শেষবারের মতো যাচাই করে দেখতে চাই। এবারও প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ নিতে যদি গড়িমসি করে, তাহলে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে গেস্ট রুম বিরোধী এক দফা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।
অনলাইন ডেস্ক 





















