০৫:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

তিন বছরে ৪০০ এর বেশি গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত : ০৮:০১:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 99

২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরে দেশে ৪০০-এর বেশি গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এর মধ্যে বিজিএমইএর সদস্য ২৮২টি এবং বিকেএমইএর সদস্য ১২৩টি কারখানা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিনের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান। সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

মো. রুহুল আমিনের প্রশ্ন ছিল, বর্তমানে দেশে কতগুলো তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ রয়েছে, বন্ধ কারখানাগুলোর তালিকা ও বন্ধের কারণ কী এবং তৈরি পোশাক খাতের উন্নয়নে সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরে বিজিএমইএর সদস্য ২৮২টি এবং বিকেএমইএর সদস্য ১২৩টিসহ প্রায় ৪০০-এর বেশি গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়েছে। বন্ধ কারখানাগুলোর নামের তালিকা সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

কারখানা বন্ধের প্রধান কারণ হিসেবে বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রভাব, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত, আমেরিকা-ইরানের যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক মন্দা, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থ পাচারের কারণে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকটের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

এ ছাড়া ইউরোপের সঙ্গে ভারত ও ভিয়েতনামের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), পাশাপাশি বিদেশি ক্রেতাদের নিজস্ব মনিটরিংয়ের সুবিধার জন্য ছোট ও মাঝারি কারখানায় রপ্তানি আদেশ দিতে অনাগ্রহকেও কারখানা বন্ধের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বাজার ধরে রাখতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানান তিনি। এর মধ্যে রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্রখাতে শুদ্ধ বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ বিকল্প নগদ সহায়তা, ইউরো অঞ্চলে বস্ত্রখাতের রপ্তানিকারকদের জন্য বিদ্যমান ১ দশমিক ৫০ শতাংশের অতিরিক্ত ০ দশমিক ৫০ শতাংশ বিশেষ সহায়তা এবং রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের নিট, ওভেন ও সোয়েটার শিল্পের ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অতিরিক্ত ৩ শতাংশ সুবিধা রয়েছে। তৈরি পোশাক খাতে বিশেষ নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে ০ দশমিক ৩০ শতাংশ।

প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের আরেক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও তদারকি করা হচ্ছে। জেলা পর্যায়ে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্স এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেশব্যাপী বাজার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

বাজারে অতিরিক্ত মূল্য আদায়, মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী জরিমানা ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন সিন্ডিকেট, কার্টেল ও যোগসাজশমূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

জনস্বার্থে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে এসব বাজার মনিটরিং, তদারকি ও আইনানুগ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও জোরদার করা হবে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

জনপ্রিয় সংবাদ

তিন বছরে ৪০০ এর বেশি গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত : ০৮:০১:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরে দেশে ৪০০-এর বেশি গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এর মধ্যে বিজিএমইএর সদস্য ২৮২টি এবং বিকেএমইএর সদস্য ১২৩টি কারখানা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিনের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান। সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

মো. রুহুল আমিনের প্রশ্ন ছিল, বর্তমানে দেশে কতগুলো তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ রয়েছে, বন্ধ কারখানাগুলোর তালিকা ও বন্ধের কারণ কী এবং তৈরি পোশাক খাতের উন্নয়নে সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরে বিজিএমইএর সদস্য ২৮২টি এবং বিকেএমইএর সদস্য ১২৩টিসহ প্রায় ৪০০-এর বেশি গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়েছে। বন্ধ কারখানাগুলোর নামের তালিকা সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

কারখানা বন্ধের প্রধান কারণ হিসেবে বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রভাব, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত, আমেরিকা-ইরানের যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক মন্দা, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থ পাচারের কারণে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকটের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

এ ছাড়া ইউরোপের সঙ্গে ভারত ও ভিয়েতনামের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), পাশাপাশি বিদেশি ক্রেতাদের নিজস্ব মনিটরিংয়ের সুবিধার জন্য ছোট ও মাঝারি কারখানায় রপ্তানি আদেশ দিতে অনাগ্রহকেও কারখানা বন্ধের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বাজার ধরে রাখতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানান তিনি। এর মধ্যে রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্রখাতে শুদ্ধ বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ বিকল্প নগদ সহায়তা, ইউরো অঞ্চলে বস্ত্রখাতের রপ্তানিকারকদের জন্য বিদ্যমান ১ দশমিক ৫০ শতাংশের অতিরিক্ত ০ দশমিক ৫০ শতাংশ বিশেষ সহায়তা এবং রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের নিট, ওভেন ও সোয়েটার শিল্পের ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অতিরিক্ত ৩ শতাংশ সুবিধা রয়েছে। তৈরি পোশাক খাতে বিশেষ নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে ০ দশমিক ৩০ শতাংশ।

প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের আরেক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও তদারকি করা হচ্ছে। জেলা পর্যায়ে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্স এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেশব্যাপী বাজার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

বাজারে অতিরিক্ত মূল্য আদায়, মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী জরিমানা ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন সিন্ডিকেট, কার্টেল ও যোগসাজশমূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

জনস্বার্থে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে এসব বাজার মনিটরিং, তদারকি ও আইনানুগ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও জোরদার করা হবে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।