০৪:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে নিহত সন্দেহভাজন যুবক

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তার তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন এক যুবককে গণপিটুনি দিলে তিনিও মারা যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশের ৬-৭ সদস্য আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন শাহিনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার (২১), মেজো মেয়ে রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ইকরা আক্তার (১৭) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। গুরুতর আহত অবস্থায় ইকরাকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে স্থানীয় জনতা এক যুবককে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক বছর আগে শাহিনুর বেগমের স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর থেকে তিনি তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে ওই বাসায় বসবাস করছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে দুর্বৃত্ত শাহিনুর ও তার তিন মেয়ের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন এবং একজন গুরুতর আহত হন, তাকে ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যায়।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম জানান, হাসপাতালে পাঁচজনকে আনা হয়েছিল। এর মধ্যে মা ও দুই মেয়েসহ তিনজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে গুরুতর আহত আরেক কিশোরীকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গণপিটুনির শিকার যুবকের মাথায়ও গুরুতর আঘাত ছিল।

ঘটনার পরপরই লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার আবু তারেক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, “নিহতদের মরদেহের ময়নাতদন্ত চলছে। কী কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে আমাদের ৫ থেকে ৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।”

সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, “ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। অভিযুক্ত সন্দেহে এক যুবককে গণপিটুনি দিয়েছে জনতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে উত্তেজিত লোকজন ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হন।”

রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদ জানান, নিহত পরিবারের সঙ্গে সন্দেহভাজন যুবকের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যতটুকু জানি সে ভ্রাম্যমাণভাবে ফল বিক্রি করতেন। নিহত ঘাতক সনাতন ধর্মাবলম্বী বলে জানা গেছে।
তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এতে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

জনপ্রিয় সংবাদ

রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে নিহত সন্দেহভাজন যুবক

প্রকাশিত : ১০:৩৮:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তার তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন এক যুবককে গণপিটুনি দিলে তিনিও মারা যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশের ৬-৭ সদস্য আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন শাহিনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার (২১), মেজো মেয়ে রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ইকরা আক্তার (১৭) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। গুরুতর আহত অবস্থায় ইকরাকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে স্থানীয় জনতা এক যুবককে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক বছর আগে শাহিনুর বেগমের স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর থেকে তিনি তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে ওই বাসায় বসবাস করছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে দুর্বৃত্ত শাহিনুর ও তার তিন মেয়ের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন এবং একজন গুরুতর আহত হন, তাকে ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যায়।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম জানান, হাসপাতালে পাঁচজনকে আনা হয়েছিল। এর মধ্যে মা ও দুই মেয়েসহ তিনজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে গুরুতর আহত আরেক কিশোরীকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গণপিটুনির শিকার যুবকের মাথায়ও গুরুতর আঘাত ছিল।

ঘটনার পরপরই লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার আবু তারেক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, “নিহতদের মরদেহের ময়নাতদন্ত চলছে। কী কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে আমাদের ৫ থেকে ৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।”

সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, “ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। অভিযুক্ত সন্দেহে এক যুবককে গণপিটুনি দিয়েছে জনতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে উত্তেজিত লোকজন ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হন।”

রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদ জানান, নিহত পরিবারের সঙ্গে সন্দেহভাজন যুবকের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যতটুকু জানি সে ভ্রাম্যমাণভাবে ফল বিক্রি করতেন। নিহত ঘাতক সনাতন ধর্মাবলম্বী বলে জানা গেছে।
তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এতে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।