০৪:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

ইউএনও সাইফুল ইসলামের দূরদর্শী উদ্যোগে চীনা ভাষা শিখছে শিক্ষার্থীরা

ফরিদপুরের নগরকান্দায় শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চীনা ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চালু করে প্রশংসিত হয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম। তার এই ব্যতিক্রমী ও দূরদর্শী উদ্যোগে নগরকান্দা ও সালথার মোট ১৭৫ জন শিক্ষার্থী চীনা ভাষা শেখার সুযোগ পাচ্ছেন, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

জানা গেছে, গত ৪ এপ্রিল নগরকান্দা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শনকালে বিদেশগামী বাংলাদেশিদের জন্য বিদেশি ভাষা শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তার নির্দেশনার আলোকে এবং ইউএনও সাইফুল ইসলামের উদ্যোগে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই চীনা ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।

এই উদ্যোগের আওতায় নগরকান্দার ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২৫ জন করে মোট ১৫০ জন এবং সালথার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২৫ জনসহ মোট ১৭৫ জন শিক্ষার্থী চীনা ভাষা শেখার সুযোগ পাচ্ছেন। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা মূলত অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

জানা যায়, নগরকান্দায় ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগেই গত ফেব্রুয়ারি মাসে সালথার ইউএনও থাকাকালীন সময়ে সাইফুল ইসলাম সালথার নবকাম পল্লী কলেজের ২৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে চীনা ভাষার কোর্স চালু করেন। সেই উদ্যোগ সফল হওয়ায় পরবর্তীতে নগরকান্দায় বৃহৎ পরিসরে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়।

এই কোর্সের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, চীন থেকে সরাসরি অনলাইনে যুক্ত হয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন বাংলাদেশের কিছু শিক্ষার্থী, যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চীনা ভাষার ওপর সম্মান ডিগ্রি অর্জনের পর বর্তমানে চীনে মাস্টার্সসহ উচ্চতর ডিগ্রি নিচ্ছেন। পাশাপাশি ঢাকার লিড একাডেমির দক্ষ প্রশিক্ষকরাও নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা করছেন। ফলে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, নগরকান্দার পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্কুলপ্রতি ২৫ জন করে মোট ১৫০ জন শিক্ষার্থী চীনা ভাষা প্রশিক্ষণ পাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- লস্করদিয়া আতিকুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়, তালমা নাজিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, এম এন একাডেমি, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আক্রামুন্নেসা বালিকা বিদ্যালয়, এবং কৃষ্ণারডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়। অন্যদিকে সালথার নবকাম পল্লী কলেজের ২৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থীও এই প্রকল্পের আওতায় চীনা ভাষা শিক্ষা গ্রহণ করছে। মূলত এখান থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে এই উদ্যোগের যাত্রা শুরু হয়েছিল।

এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ বাস্তবায়নে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছেন সালথা ও নগরকান্দার দুই বিশিষ্ট সমাজসেবক। নগরকান্দার পাঁচটি স্কুলে ১৫০ জন শিক্ষার্থীর জন্য অর্থায়ন করছেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক হানিফ মণ্ডল। অন্যদিকে সালথার নবকাম পল্লী কলেজের ২৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য অর্থায়ন করছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিল্পপতি ইদ্রিস আলী মোল্লা।

এদিকে এই চীনা ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নাজমুন নাহার পলি। তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন বিসিএস প্রশাসন একাডেমিতে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের চীনা ভাষা শিক্ষা কোর্সের মেন্টর হিসেবে কাজ করছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বাংলাদেশে চীনা ভাষার প্রচার ও প্রসারে কাজ করে আসছেন। এছাড়া শান্ত-মরিয়ম ইউনিভার্সিটির কনফুসিয়াস ল্যাবের সঙ্গেও তিনি যৌথভাবে কাজ করছেন এবং সরকারের বিভিন্ন বৈঠকে চাইনিজ ডেলিগেটদের সঙ্গে কমিউনিকেশন এক্সপার্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

জানতে চাইলে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, বর্তমান বিশ্বে চীনা ভাষার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে চীনা ভাষা জানা শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সেই বাস্তবতায় নগরকান্দা ও সালথার শিক্ষার্থীদের জন্য এই উদ্যোগ শুধু ভাষা শিক্ষা নয়, বরং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউএনও সাইফুল ইসলামের দূরদর্শী উদ্যোগে চীনা ভাষা শিখছে শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত : ১১:৫৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

ফরিদপুরের নগরকান্দায় শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চীনা ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চালু করে প্রশংসিত হয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম। তার এই ব্যতিক্রমী ও দূরদর্শী উদ্যোগে নগরকান্দা ও সালথার মোট ১৭৫ জন শিক্ষার্থী চীনা ভাষা শেখার সুযোগ পাচ্ছেন, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

জানা গেছে, গত ৪ এপ্রিল নগরকান্দা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শনকালে বিদেশগামী বাংলাদেশিদের জন্য বিদেশি ভাষা শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তার নির্দেশনার আলোকে এবং ইউএনও সাইফুল ইসলামের উদ্যোগে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই চীনা ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।

এই উদ্যোগের আওতায় নগরকান্দার ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২৫ জন করে মোট ১৫০ জন এবং সালথার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২৫ জনসহ মোট ১৭৫ জন শিক্ষার্থী চীনা ভাষা শেখার সুযোগ পাচ্ছেন। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা মূলত অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

জানা যায়, নগরকান্দায় ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগেই গত ফেব্রুয়ারি মাসে সালথার ইউএনও থাকাকালীন সময়ে সাইফুল ইসলাম সালথার নবকাম পল্লী কলেজের ২৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে চীনা ভাষার কোর্স চালু করেন। সেই উদ্যোগ সফল হওয়ায় পরবর্তীতে নগরকান্দায় বৃহৎ পরিসরে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়।

এই কোর্সের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, চীন থেকে সরাসরি অনলাইনে যুক্ত হয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন বাংলাদেশের কিছু শিক্ষার্থী, যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চীনা ভাষার ওপর সম্মান ডিগ্রি অর্জনের পর বর্তমানে চীনে মাস্টার্সসহ উচ্চতর ডিগ্রি নিচ্ছেন। পাশাপাশি ঢাকার লিড একাডেমির দক্ষ প্রশিক্ষকরাও নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা করছেন। ফলে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, নগরকান্দার পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্কুলপ্রতি ২৫ জন করে মোট ১৫০ জন শিক্ষার্থী চীনা ভাষা প্রশিক্ষণ পাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- লস্করদিয়া আতিকুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়, তালমা নাজিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, এম এন একাডেমি, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আক্রামুন্নেসা বালিকা বিদ্যালয়, এবং কৃষ্ণারডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়। অন্যদিকে সালথার নবকাম পল্লী কলেজের ২৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থীও এই প্রকল্পের আওতায় চীনা ভাষা শিক্ষা গ্রহণ করছে। মূলত এখান থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে এই উদ্যোগের যাত্রা শুরু হয়েছিল।

এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ বাস্তবায়নে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছেন সালথা ও নগরকান্দার দুই বিশিষ্ট সমাজসেবক। নগরকান্দার পাঁচটি স্কুলে ১৫০ জন শিক্ষার্থীর জন্য অর্থায়ন করছেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক হানিফ মণ্ডল। অন্যদিকে সালথার নবকাম পল্লী কলেজের ২৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য অর্থায়ন করছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিল্পপতি ইদ্রিস আলী মোল্লা।

এদিকে এই চীনা ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নাজমুন নাহার পলি। তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন বিসিএস প্রশাসন একাডেমিতে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের চীনা ভাষা শিক্ষা কোর্সের মেন্টর হিসেবে কাজ করছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বাংলাদেশে চীনা ভাষার প্রচার ও প্রসারে কাজ করে আসছেন। এছাড়া শান্ত-মরিয়ম ইউনিভার্সিটির কনফুসিয়াস ল্যাবের সঙ্গেও তিনি যৌথভাবে কাজ করছেন এবং সরকারের বিভিন্ন বৈঠকে চাইনিজ ডেলিগেটদের সঙ্গে কমিউনিকেশন এক্সপার্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

জানতে চাইলে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, বর্তমান বিশ্বে চীনা ভাষার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে চীনা ভাষা জানা শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সেই বাস্তবতায় নগরকান্দা ও সালথার শিক্ষার্থীদের জন্য এই উদ্যোগ শুধু ভাষা শিক্ষা নয়, বরং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।