০৪:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

বাড়তি ঋণের চাপে বন্ড ইস্যু করছে টেকনো ড্রাগস

ঋণের চাপ মোকাবিলা ও উচ্চ সুদের ব্যাংকঋণ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ৫০ কোটি টাকার কুপনধারী বন্ড ইস্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে টেকনো ড্রাগস। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে।

কোম্পানির প্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছর মেয়াদি এই বন্ডের ২৫ শতাংশ হবে রিডিমেবল এবং ৭৫ শতাংশ কনভার্টিবল। প্রস্তাবিত বন্ড ইস্যুর জন্য আগামী ২৪ জুন অনুষ্ঠেয় বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নেওয়া হবে। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের অনুমোদনও লাগবে।

বন্ডটির ইস্যু ম্যানেজার ও অ্যারেঞ্জার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এমটিবি ক্যাপিটাল লিমিটেডকে।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

কোম্পানির সংশ্লেষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উচ্চ সুদের ব্যাংকঋণ আরও কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যেই এই বন্ড ইস্যুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে এমন সময় কোম্পানিটি নতুন অর্থায়নের সিদ্ধান্ত নিল, যখন ওয়ান ব্যাংক পিএলসি প্রায় ১৫০ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ আদায়ে কোম্পানি ও এর পরিচালকদের বিরুদ্ধে অর্থঋণ আদালতে মামলা করেছে। ইতোমধ্যে আদালত সংশ্লিষ্ট পরিচালকদের বিরুদ্ধে সমন জারি করে গণবিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেছে।

এ বিষয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে বরাবরের মতো জানানো হয়েছে, ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং দ্রুত সমাধানের আশাবাদ রয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) থেকে ১০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল টেকনো ড্রাগস। নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আইপিওর অর্থের মধ্যে ৩১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা নরসিংদী ও গাজীপুর কারখানায় যন্ত্রপাতি ক্রয় ও নির্মাণকাজে ব্যয় করা হয়। এছাড়া ৩০ কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে শুধু ওয়ান ব্যাংক পিএলসিকেই পরিশোধ করা হয় ২৫ কোটি টাকা। বাকি অর্থ লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স, অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্স এবং আইডিএলসি ফাইন্যান্সের ঋণ পরিশোধে ব্যয় করা হয়।

তবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোম্পানিটির আর্থিক পরিস্থিতি আরও দুর্বল হয়েছে। জুলাই-মার্চ সময়ে কোম্পানিটির বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ শতাংশ কমে ২৩২ কোটিতে নেমে এসেছে। একই সময়ে নিট মুনাফা ১৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকায়।

অন্যদিকে, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৪ শতাংশ বেশি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাড়তি ঋণের চাপে বন্ড ইস্যু করছে টেকনো ড্রাগস

প্রকাশিত : ১১:০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

ঋণের চাপ মোকাবিলা ও উচ্চ সুদের ব্যাংকঋণ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ৫০ কোটি টাকার কুপনধারী বন্ড ইস্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে টেকনো ড্রাগস। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে।

কোম্পানির প্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছর মেয়াদি এই বন্ডের ২৫ শতাংশ হবে রিডিমেবল এবং ৭৫ শতাংশ কনভার্টিবল। প্রস্তাবিত বন্ড ইস্যুর জন্য আগামী ২৪ জুন অনুষ্ঠেয় বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নেওয়া হবে। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের অনুমোদনও লাগবে।

বন্ডটির ইস্যু ম্যানেজার ও অ্যারেঞ্জার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এমটিবি ক্যাপিটাল লিমিটেডকে।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

কোম্পানির সংশ্লেষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উচ্চ সুদের ব্যাংকঋণ আরও কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যেই এই বন্ড ইস্যুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে এমন সময় কোম্পানিটি নতুন অর্থায়নের সিদ্ধান্ত নিল, যখন ওয়ান ব্যাংক পিএলসি প্রায় ১৫০ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ আদায়ে কোম্পানি ও এর পরিচালকদের বিরুদ্ধে অর্থঋণ আদালতে মামলা করেছে। ইতোমধ্যে আদালত সংশ্লিষ্ট পরিচালকদের বিরুদ্ধে সমন জারি করে গণবিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেছে।

এ বিষয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে বরাবরের মতো জানানো হয়েছে, ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং দ্রুত সমাধানের আশাবাদ রয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) থেকে ১০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল টেকনো ড্রাগস। নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আইপিওর অর্থের মধ্যে ৩১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা নরসিংদী ও গাজীপুর কারখানায় যন্ত্রপাতি ক্রয় ও নির্মাণকাজে ব্যয় করা হয়। এছাড়া ৩০ কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে শুধু ওয়ান ব্যাংক পিএলসিকেই পরিশোধ করা হয় ২৫ কোটি টাকা। বাকি অর্থ লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স, অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্স এবং আইডিএলসি ফাইন্যান্সের ঋণ পরিশোধে ব্যয় করা হয়।

তবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোম্পানিটির আর্থিক পরিস্থিতি আরও দুর্বল হয়েছে। জুলাই-মার্চ সময়ে কোম্পানিটির বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ শতাংশ কমে ২৩২ কোটিতে নেমে এসেছে। একই সময়ে নিট মুনাফা ১৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকায়।

অন্যদিকে, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৪ শতাংশ বেশি।