০৪:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

সাউথইস্ট ক্যাপিটালের আট বিও হিসাবের কারসাজি তদন্তে বিএসইসি

শেয়ারবাজারে সম্ভাব্য কারসাজির অভিযোগে সাউথইস্ট ব্যাংক ক্যাপিটাল সার্ভিসেস লিমিটেডের অধীন পরিচালিত একাধিক বিও হিসাবের লেনদেন তদন্তের আওতায় এনেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বাজারে অস্বাভাবিক লেনদেন ও সন্দেহজনক কার্যক্রমের অভিযোগের পর নিয়ন্ত্রক সংস্থা নতুন করে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে।

সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিষ্ঠানটির কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্লায়েন্ট কোড ও সংশ্লিষ্ট বিও হিসাবের কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের ইনকোয়ারি অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্তের নির্দেশনা সাউথইস্ট ব্যাংক ক্যাপিটাল সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তদন্ত কমিটিতে বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ রকিবুর রহমানকে প্রধান করা হয়েছে। অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী পরিচালক লামিয়া আক্তার এবং মো. আতিকুল্লাহ খান।

বিএসইসির আদেশে বলা হয়েছে, সাউথইস্ট ব্যাংক ক্যাপিটাল সার্ভিসেস লিমিটেডের ক্লায়েন্ট কোড S11294, S11318, S11325, S20213, S20071, S11118, S11326 এবং S30005-এর সঙ্গে সম্পর্কিত হিসাবধারীদের শনাক্ত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি এসব হিসাবের মাধ্যমে সংঘটিত সম্ভাব্য বাজার কারসাজির বিষয়টিও গভীরভাবে তদন্ত করা হবে।

এ লক্ষ্যে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯-এর সেকশন ২১ এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩-এর ধারা ১৭(ক)-এর ক্ষমতাবলে তিন সদস্যের অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তদন্তে সংশ্লিষ্ট বিও হিসাবের মাধ্যমে পরিচালিত শেয়ার লেনদেন, অর্থের উৎস, হিসাবধারীদের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং সম্ভাব্য যোগসাজশের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে এসব ক্লায়েন্ট কোডের সঙ্গে জড়িত অন্য সুবিধাভোগীদেরও শনাক্ত করা হবে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ও লেনদেনের ঘটনায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা নজরদারি বাড়িয়েছে। বিশেষ করে সংঘবদ্ধভাবে শেয়ার কেনাবেচা, কৃত্রিমভাবে দর বাড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করা এবং অসাধু চক্রের তৎপরতা চিহ্নিত করতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে সাউথইস্ট ব্যাংক ক্যাপিটালের কয়েকটি ক্লায়েন্ট কোডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগীদের শনাক্ত করতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করবে এবং তদন্তে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে কমিশন আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

তিনি আরও বলেন, তদন্ত কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো শেয়ারবাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অনিয়ম উদঘাটন করা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা সুরক্ষিত রাখা।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাউথইস্ট ক্যাপিটালের আট বিও হিসাবের কারসাজি তদন্তে বিএসইসি

প্রকাশিত : ১০:৪৭:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

শেয়ারবাজারে সম্ভাব্য কারসাজির অভিযোগে সাউথইস্ট ব্যাংক ক্যাপিটাল সার্ভিসেস লিমিটেডের অধীন পরিচালিত একাধিক বিও হিসাবের লেনদেন তদন্তের আওতায় এনেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বাজারে অস্বাভাবিক লেনদেন ও সন্দেহজনক কার্যক্রমের অভিযোগের পর নিয়ন্ত্রক সংস্থা নতুন করে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে।

সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিষ্ঠানটির কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্লায়েন্ট কোড ও সংশ্লিষ্ট বিও হিসাবের কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের ইনকোয়ারি অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্তের নির্দেশনা সাউথইস্ট ব্যাংক ক্যাপিটাল সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তদন্ত কমিটিতে বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ রকিবুর রহমানকে প্রধান করা হয়েছে। অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী পরিচালক লামিয়া আক্তার এবং মো. আতিকুল্লাহ খান।

বিএসইসির আদেশে বলা হয়েছে, সাউথইস্ট ব্যাংক ক্যাপিটাল সার্ভিসেস লিমিটেডের ক্লায়েন্ট কোড S11294, S11318, S11325, S20213, S20071, S11118, S11326 এবং S30005-এর সঙ্গে সম্পর্কিত হিসাবধারীদের শনাক্ত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি এসব হিসাবের মাধ্যমে সংঘটিত সম্ভাব্য বাজার কারসাজির বিষয়টিও গভীরভাবে তদন্ত করা হবে।

এ লক্ষ্যে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯-এর সেকশন ২১ এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩-এর ধারা ১৭(ক)-এর ক্ষমতাবলে তিন সদস্যের অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তদন্তে সংশ্লিষ্ট বিও হিসাবের মাধ্যমে পরিচালিত শেয়ার লেনদেন, অর্থের উৎস, হিসাবধারীদের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং সম্ভাব্য যোগসাজশের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে এসব ক্লায়েন্ট কোডের সঙ্গে জড়িত অন্য সুবিধাভোগীদেরও শনাক্ত করা হবে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ও লেনদেনের ঘটনায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা নজরদারি বাড়িয়েছে। বিশেষ করে সংঘবদ্ধভাবে শেয়ার কেনাবেচা, কৃত্রিমভাবে দর বাড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করা এবং অসাধু চক্রের তৎপরতা চিহ্নিত করতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে সাউথইস্ট ব্যাংক ক্যাপিটালের কয়েকটি ক্লায়েন্ট কোডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগীদের শনাক্ত করতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করবে এবং তদন্তে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে কমিশন আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

তিনি আরও বলেন, তদন্ত কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো শেয়ারবাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অনিয়ম উদঘাটন করা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা সুরক্ষিত রাখা।