০৮:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

শেয়ারবাজার উন্নয়নে গভর্নরের কাছে ডিএসইর একগুচ্ছ প্রস্তাব

শেয়ারবাজারকে আরও শক্তিশালী, আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। বৃহস্পতিবার (৭ মে) গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে ডিএসইর একটি প্রতিনিধি দল এসব সুপারিশ তুলে ধরে।

ডিএসইর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম। এ সময় পরিচালক সৈয়দ হাম্মাদুল করিম, স্নেহাশীষ বড়ুয়া, মিনহাজ মান্নান ইমন, রিচার্ড ডি রোজারিও, মোঃ সাজেদুল ইসলাম এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে শেয়ারবাজারের কাঠামোগত উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একাধিক প্রস্তাব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বাজারে স্বচ্ছতা, তারল্য ব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ডিএসইর প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—রিয়েল টাইম গ্রস স্যাটেলমেন্ট (আরটিজিএস) সুবিধার সময়সীমা বৃদ্ধি, স্যাটেলমেন্ট সাইকেল T+2 থেকে T+1-এ রূপান্তরে সহায়তা এবং ডিএসইর এফডিআর ও এসএনডি হিসাবের অর্থ নগদায়নের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো।

এ ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য এনআইটিএ হিসাব খোলার প্রক্রিয়া সহজ করা, আইপিও ও বন্ড মার্কেটের মাধ্যমে পুনঃমূলধনীকরণ ব্যবস্থা চালু, সরকারি সিকিউরিটিজের সেকেন্ডারি মার্কেট উন্নয়ন এবং সুকুক লেনদেন চালুর বিষয়েও সুপারিশ করা হয়। স্টক এক্সচেঞ্জের জন্য সিআইবি রিপোর্ট অ্যাক্সেস সুবিধার দাবিও জানানো হয়েছে।

বৈঠকে দুর্বল পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের একীভূতকরণ প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে ডিএসই প্রতিনিধি দল। তাদের মতে, যথাযথ ক্ষতিপূরণ ছাড়া সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে অতীতের অনিয়ম ও দুর্বল ব্যবস্থাঢাকা স্টক তথ্য

পনার দায়ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়।

ডিএসইর পক্ষ থেকে ক্ষুদ্র ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা, ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত এবং একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখার দাবি জানানো হয়।

প্রতিনিধি দলের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করার আশ্বাস দেন। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি জানান।

ডিএসই মনে করছে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে। পাশাপাশি বাজারে তারল্য, দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রমের উন্নয়ন ঘটবে এবং দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন টেকসই আর্থিক বাজার ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শেয়ারবাজার উন্নয়নে গভর্নরের কাছে ডিএসইর একগুচ্ছ প্রস্তাব

প্রকাশিত : ১০:৪৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

শেয়ারবাজারকে আরও শক্তিশালী, আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। বৃহস্পতিবার (৭ মে) গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে ডিএসইর একটি প্রতিনিধি দল এসব সুপারিশ তুলে ধরে।

ডিএসইর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম। এ সময় পরিচালক সৈয়দ হাম্মাদুল করিম, স্নেহাশীষ বড়ুয়া, মিনহাজ মান্নান ইমন, রিচার্ড ডি রোজারিও, মোঃ সাজেদুল ইসলাম এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে শেয়ারবাজারের কাঠামোগত উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একাধিক প্রস্তাব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বাজারে স্বচ্ছতা, তারল্য ব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ডিএসইর প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—রিয়েল টাইম গ্রস স্যাটেলমেন্ট (আরটিজিএস) সুবিধার সময়সীমা বৃদ্ধি, স্যাটেলমেন্ট সাইকেল T+2 থেকে T+1-এ রূপান্তরে সহায়তা এবং ডিএসইর এফডিআর ও এসএনডি হিসাবের অর্থ নগদায়নের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো।

এ ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য এনআইটিএ হিসাব খোলার প্রক্রিয়া সহজ করা, আইপিও ও বন্ড মার্কেটের মাধ্যমে পুনঃমূলধনীকরণ ব্যবস্থা চালু, সরকারি সিকিউরিটিজের সেকেন্ডারি মার্কেট উন্নয়ন এবং সুকুক লেনদেন চালুর বিষয়েও সুপারিশ করা হয়। স্টক এক্সচেঞ্জের জন্য সিআইবি রিপোর্ট অ্যাক্সেস সুবিধার দাবিও জানানো হয়েছে।

বৈঠকে দুর্বল পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের একীভূতকরণ প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে ডিএসই প্রতিনিধি দল। তাদের মতে, যথাযথ ক্ষতিপূরণ ছাড়া সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে অতীতের অনিয়ম ও দুর্বল ব্যবস্থাঢাকা স্টক তথ্য

পনার দায়ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়।

ডিএসইর পক্ষ থেকে ক্ষুদ্র ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা, ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত এবং একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখার দাবি জানানো হয়।

প্রতিনিধি দলের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করার আশ্বাস দেন। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি জানান।

ডিএসই মনে করছে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে। পাশাপাশি বাজারে তারল্য, দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রমের উন্নয়ন ঘটবে এবং দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন টেকসই আর্থিক বাজার ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।