০৪:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
শেয়ারবাজারে ব্যাংক খাতের মরণখেলা: মুনাফা নেই, ডিভিডেন্ড নেই, শুধু আছে লোকসানের পাহাড়।

৬ ব্যাংকে আস্থার সংকট: মুনাফাহীনতার দায় কার?

  • ইয়াসিন
  • প্রকাশিত : ০২:৩৭:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • 140

পুঁজিবাজারের ইতিহাসে এই ছয় ব্যাংক যেন এক আতঙ্কের নাম। নিজেদের ব্যর্থতার দায়ভার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঘাড়ে চাপিয়ে এবারও ডিভিডেন্ডের আশা ধুলোয় মিশিয়ে দিল এবি ব্যাংক পিএলসি, মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি, আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি, ওয়ান ব্যাংক পিএলসি, ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি এবং এনআরবি ব্যাংক পিএলসি। বৃহস্পতিবার বোর্ড সভায় নেওয়া এই সিদ্ধান্তটি যেন বিনিয়োগকারীদের মুখের গ্রাস কেড়ে নেওয়ার শামিল। ব্যাংকগুলোর আর্থিক পারফরম্যান্সের নামে যে ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে, তা রীতিমতো গা শিউরে ওঠার মতো।

এবি ব্যাংক পিএলসির দৈন্যদশা এখন আর লুকানোর সুযোগ নেই। ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি লোকসান গত বছরের ২১ টাকা ২৮ পয়সা থেকে বেড়ে ৪৩ টাকা ৪২ পয়সায় পৌঁছেছে। শুধু তাই নয়, শেয়ারপ্রতি নিট দায় ৩৬ টাকা ২ পয়সা দাঁড়িয়ে ব্যাংকটিকে এক প্রকার দেউলিয়া পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। আগামী ১৮ জুন এজিএম ডেকে ব্যাংকটি কী ব্যাখ্যা দেবে, তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

একই ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতির শিকার আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি। গত বছর মাত্র ৬৩ পয়সা লোকসান থাকলেও, এবার তা ১৩ টাকা ৩২ পয়সার বিশাল গর্তে গিয়ে ঠেকেছে। ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি যে কতটা নড়বড়ে, ৪ টাকা ৯৬ পয়সা শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যই তার প্রমাণ। দায়ভার নিয়ে টিকে থাকা ব্যাংকটির এজিএম ২৯ জুন অনুষ্ঠিত হবে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য শুধুই আনুষ্ঠানিকতা।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসির অবস্থা আরও করুণ। আগের বছর ৫ টাকা ৩০ পয়সা লোকসান থাকলেও, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ টাকা ৫৫ পয়সায়। শেয়ারপ্রতি ৭ টাকা ৩৭ পয়সা নিট দায় ব্যাংকটিকে এক গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এমন একটি ব্যাংকে বিনিয়োগ করে এখন চরম মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে, যার দায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।

ওয়ান ব্যাংক পিএলসির পারফরম্যান্স গত বছরের ১ টাকা ২৪ পয়সা মুনাফা থেকে কমে মাত্র ২৮ পয়সায় নেমে এসেছে। বিনিয়োগকারীদের ডিভিডেন্ডের আশা বিসর্জন দিয়ে ব্যাংকটির এমন শোচনীয় মুনাফার হিসাব কেবল তাদের অদক্ষতার বহিঃপ্রকাশ। ১৩ আগস্ট এজিএমের মাধ্যমে তারা কী চমক দেখাবে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মনে এখন গভীর সংশয়।

মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসির মুনাফা ১ টাকা ১০ পয়সা দেখালেও, সেটি যেন মরুভূমিতে এক ফোঁটা পানির মতো, যা বিনিয়োগকারীদের তৃষ্ণা মেটানোর বদলে কেবল কষ্টই বাড়িয়ে দিয়েছে। একই অবস্থা এনআরবি ব্যাংক পিএলসির, যেখানে মাত্র ২০ পয়সা মুনাফা দেখিয়ে ডিভিডেন্ড না দেওয়ার সিদ্ধান্ত ব্যাংকটির আস্থার সংকটকে আরও তীব্র করেছে। এই ছয় ব্যাংকের ব্যর্থতা যেন পুঁজিবাজারের জন্য এক অশুভ সংকেত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই ব্যাংকগুলোর লাগামহীন আর্থিক বিপর্যয় ও ডিভিডেন্ড না দেওয়ার সংস্কৃতি পুঁজিবাজারকে রীতিমতো খাদের কিনারে নিয়ে এসেছে। বিনিয়োগকারীদের অর্থ নিয়ে দিনের পর দিন এই প্রহসন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অদক্ষ পরিচালনা পর্ষদ এবং ব্যাংকগুলোর তথাকথিত আর্থিক প্রতিবেদনের আড়ালে যে ভয়াবহ চিত্র লুকিয়ে আছে, তা সংশোধন করার কোনো উদ্যোগই এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান নয়। এই পরিস্থিতির দায় কার? বিনিয়োগকারীরা কি কেবল লোকসানের বোঝা টানার জন্যই পুঁজিবাজারে আসবে? ব্যাংকগুলোর এমন তুঘলকি সিদ্ধান্তে পুরো বাজার এখন চরম অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শেয়ারবাজারে ব্যাংক খাতের মরণখেলা: মুনাফা নেই, ডিভিডেন্ড নেই, শুধু আছে লোকসানের পাহাড়।

৬ ব্যাংকে আস্থার সংকট: মুনাফাহীনতার দায় কার?

প্রকাশিত : ০২:৩৭:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

পুঁজিবাজারের ইতিহাসে এই ছয় ব্যাংক যেন এক আতঙ্কের নাম। নিজেদের ব্যর্থতার দায়ভার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঘাড়ে চাপিয়ে এবারও ডিভিডেন্ডের আশা ধুলোয় মিশিয়ে দিল এবি ব্যাংক পিএলসি, মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি, আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি, ওয়ান ব্যাংক পিএলসি, ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি এবং এনআরবি ব্যাংক পিএলসি। বৃহস্পতিবার বোর্ড সভায় নেওয়া এই সিদ্ধান্তটি যেন বিনিয়োগকারীদের মুখের গ্রাস কেড়ে নেওয়ার শামিল। ব্যাংকগুলোর আর্থিক পারফরম্যান্সের নামে যে ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে, তা রীতিমতো গা শিউরে ওঠার মতো।

এবি ব্যাংক পিএলসির দৈন্যদশা এখন আর লুকানোর সুযোগ নেই। ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি লোকসান গত বছরের ২১ টাকা ২৮ পয়সা থেকে বেড়ে ৪৩ টাকা ৪২ পয়সায় পৌঁছেছে। শুধু তাই নয়, শেয়ারপ্রতি নিট দায় ৩৬ টাকা ২ পয়সা দাঁড়িয়ে ব্যাংকটিকে এক প্রকার দেউলিয়া পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। আগামী ১৮ জুন এজিএম ডেকে ব্যাংকটি কী ব্যাখ্যা দেবে, তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

একই ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতির শিকার আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি। গত বছর মাত্র ৬৩ পয়সা লোকসান থাকলেও, এবার তা ১৩ টাকা ৩২ পয়সার বিশাল গর্তে গিয়ে ঠেকেছে। ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি যে কতটা নড়বড়ে, ৪ টাকা ৯৬ পয়সা শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যই তার প্রমাণ। দায়ভার নিয়ে টিকে থাকা ব্যাংকটির এজিএম ২৯ জুন অনুষ্ঠিত হবে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য শুধুই আনুষ্ঠানিকতা।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসির অবস্থা আরও করুণ। আগের বছর ৫ টাকা ৩০ পয়সা লোকসান থাকলেও, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ টাকা ৫৫ পয়সায়। শেয়ারপ্রতি ৭ টাকা ৩৭ পয়সা নিট দায় ব্যাংকটিকে এক গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এমন একটি ব্যাংকে বিনিয়োগ করে এখন চরম মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে, যার দায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।

ওয়ান ব্যাংক পিএলসির পারফরম্যান্স গত বছরের ১ টাকা ২৪ পয়সা মুনাফা থেকে কমে মাত্র ২৮ পয়সায় নেমে এসেছে। বিনিয়োগকারীদের ডিভিডেন্ডের আশা বিসর্জন দিয়ে ব্যাংকটির এমন শোচনীয় মুনাফার হিসাব কেবল তাদের অদক্ষতার বহিঃপ্রকাশ। ১৩ আগস্ট এজিএমের মাধ্যমে তারা কী চমক দেখাবে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মনে এখন গভীর সংশয়।

মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসির মুনাফা ১ টাকা ১০ পয়সা দেখালেও, সেটি যেন মরুভূমিতে এক ফোঁটা পানির মতো, যা বিনিয়োগকারীদের তৃষ্ণা মেটানোর বদলে কেবল কষ্টই বাড়িয়ে দিয়েছে। একই অবস্থা এনআরবি ব্যাংক পিএলসির, যেখানে মাত্র ২০ পয়সা মুনাফা দেখিয়ে ডিভিডেন্ড না দেওয়ার সিদ্ধান্ত ব্যাংকটির আস্থার সংকটকে আরও তীব্র করেছে। এই ছয় ব্যাংকের ব্যর্থতা যেন পুঁজিবাজারের জন্য এক অশুভ সংকেত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই ব্যাংকগুলোর লাগামহীন আর্থিক বিপর্যয় ও ডিভিডেন্ড না দেওয়ার সংস্কৃতি পুঁজিবাজারকে রীতিমতো খাদের কিনারে নিয়ে এসেছে। বিনিয়োগকারীদের অর্থ নিয়ে দিনের পর দিন এই প্রহসন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অদক্ষ পরিচালনা পর্ষদ এবং ব্যাংকগুলোর তথাকথিত আর্থিক প্রতিবেদনের আড়ালে যে ভয়াবহ চিত্র লুকিয়ে আছে, তা সংশোধন করার কোনো উদ্যোগই এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান নয়। এই পরিস্থিতির দায় কার? বিনিয়োগকারীরা কি কেবল লোকসানের বোঝা টানার জন্যই পুঁজিবাজারে আসবে? ব্যাংকগুলোর এমন তুঘলকি সিদ্ধান্তে পুরো বাজার এখন চরম অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে।