০৪:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

অনিয়মের দায়ে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের এমডি অপসারণ

বিভিন্ন অনিয়ম ও তথ্য গোপনের দায়ে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ ইমদাদুল ইসলামকে পদ থেকে অপসারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত সোমবার প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের কাছে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি এক চিঠিতে বোর্ড সভার কার্যবিবরণী জালিয়াতি এবং মানবসম্পদ নীতিমালা লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অসদাচরণের বিষয়ে ইমদাদুল ইসলামের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশেষ করে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি অভ্যন্তরীণ নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা অমান্য করে প্রধান অর্থ কর্মকর্তাসহ (সিএফও) পাঁচ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার ক্ষেত্রে তার প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে ইমদাদুল ইসলামের আগের কর্মস্থল ‘জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড’-এর আমলেরও বেশ কিছু অনিয়ম উঠে এসেছে। সেখানে সিইও থাকাকালীন তিনি কেয়া কসমেটিকস লিমিটেডের ৪৯ কোটি ৯০ লাখ টাকার একটি ঋণকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই ‘অশ্রেণীবদ্ধ’ হিসেবে দেখিয়েছিলেন, যা জিএসপি ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার কৃত্রিমভাবে কমিয়ে দিয়েছিল। এছাড়া একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ঋণ পুনর্গঠনেও তিনি নীতিমালা লঙ্ঘন করেছিলেন।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তদন্তে আরও দেখা গেছে, করোনাকালীন বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে ডোরিন হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেডের ঋণ হিসেবে অতিরিক্ত দণ্ড সুদ (পেনাল ইন্টারেস্ট) আরোপ করেছিলেন তিনি। সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের এমডি পদে নিয়োগ পাওয়ার সময় তিনি নিজের আবেদনপত্র ও হলফনামায় এই পূর্ববর্তী অনিয়মগুলোর তথ্য গোপন করেছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গত ২৮ জানুয়ারি ইমদাদুল ইসলামের দেওয়া ব্যাখ্যা সন্তোষজনক হয়নি। অনিয়মে জড়িত থাকা এবং ভুয়া হলফনামা দাখিলের অপরাধে ‘ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩’-এর ১৯ ধারা অনুযায়ী তাকে পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। একইসাথে বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী একজন দক্ষ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিতে পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

জনপ্রিয় সংবাদ

অনিয়মের দায়ে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের এমডি অপসারণ

প্রকাশিত : ১২:১৪:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

বিভিন্ন অনিয়ম ও তথ্য গোপনের দায়ে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ ইমদাদুল ইসলামকে পদ থেকে অপসারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত সোমবার প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের কাছে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি এক চিঠিতে বোর্ড সভার কার্যবিবরণী জালিয়াতি এবং মানবসম্পদ নীতিমালা লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অসদাচরণের বিষয়ে ইমদাদুল ইসলামের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশেষ করে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি অভ্যন্তরীণ নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা অমান্য করে প্রধান অর্থ কর্মকর্তাসহ (সিএফও) পাঁচ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার ক্ষেত্রে তার প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে ইমদাদুল ইসলামের আগের কর্মস্থল ‘জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড’-এর আমলেরও বেশ কিছু অনিয়ম উঠে এসেছে। সেখানে সিইও থাকাকালীন তিনি কেয়া কসমেটিকস লিমিটেডের ৪৯ কোটি ৯০ লাখ টাকার একটি ঋণকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই ‘অশ্রেণীবদ্ধ’ হিসেবে দেখিয়েছিলেন, যা জিএসপি ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার কৃত্রিমভাবে কমিয়ে দিয়েছিল। এছাড়া একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ঋণ পুনর্গঠনেও তিনি নীতিমালা লঙ্ঘন করেছিলেন।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তদন্তে আরও দেখা গেছে, করোনাকালীন বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে ডোরিন হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেডের ঋণ হিসেবে অতিরিক্ত দণ্ড সুদ (পেনাল ইন্টারেস্ট) আরোপ করেছিলেন তিনি। সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের এমডি পদে নিয়োগ পাওয়ার সময় তিনি নিজের আবেদনপত্র ও হলফনামায় এই পূর্ববর্তী অনিয়মগুলোর তথ্য গোপন করেছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গত ২৮ জানুয়ারি ইমদাদুল ইসলামের দেওয়া ব্যাখ্যা সন্তোষজনক হয়নি। অনিয়মে জড়িত থাকা এবং ভুয়া হলফনামা দাখিলের অপরাধে ‘ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩’-এর ১৯ ধারা অনুযায়ী তাকে পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। একইসাথে বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী একজন দক্ষ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিতে পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।