২০২৫ সালের জুন শেষে কোম্পানির গুদামে ৫৫ কোটি ৩১ লাখ টাকার পণ্য বা ইনভেন্টরি থাকার কথা জানানো হয়েছে। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী ইনভেন্টরি ভ্যালুয়েশন রিপোর্ট বা মালামাল গণনার কোনো শিট নিরীক্ষককে দেওয়া হয়নি। এমনকি কোম্পানির ম্যানেজমেন্টের অসযোগিতার কারণে মালামালের বাস্তব উপস্থিতিও যাচাই করতে পারেনি নিরীক্ষক দল।
আর্থিক জালিয়াতি আর চরম অব্যবস্থাপনার নগ্ন রূপ ফাঁস হয়েছে ন্যাশনাল ফিড মিলস লিমিটেডের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে। বিনিয়োগকারীদের পকেটে টান দিয়ে কোম্পানিটি যে বড় ধরনের মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়েছে, তা এখন ডিএসইর ওয়েবসাইটে দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। ৫ মার্চ প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে নিরীক্ষক সরাসরি আঙুল তুলেছেন কোম্পানির কেনাকাটা, মুনাফা এবং ঋণের হিসাবে থাকা বিশাল অংকের গরমিলের দিকে।
ন্যাশনাল ফিড মিলসের এই লুটপাটের মহোৎসবে সবচেয়ে ভয়ংকর তথ্য হলো ভ্যাট রিটার্ন এবং আর্থিক প্রতিবেদনের আকাশ-পাতাল পার্থক্য। যেখানে ভ্যাট রিটার্নে কাঁচামাল কেনা বাবদ ১০ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে, সেখানে কোম্পানির হিসেবে তা মাত্র ৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। প্রায় ২ কোটি ২৬ লাখ টাকার এই হিসাব গায়েব করে দিয়ে কোম্পানিটি তাদের নিট মুনাফা এবং শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দেখিয়েছে। এর চেয়েও বড় ধৃষ্টতা হলো, এই বিপুল অংকের কেনাকাটার স্বপক্ষে কোনো লেজার বা ভাউচার পর্যন্ত নিরীক্ষককে দেখাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
ব্যাংক ঋণের হিসাব নিয়েও চরম লুকোচুরি খেলেছে এই কোম্পানি। ব্যাংক এশিয়া থেকে নেওয়া ২৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকার ঋণের কোনো বিবরণী তো দেওয়া হয়নিই, উল্টো সুদের খরচে ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা কম দেখিয়ে মুনাফাকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। ঋণের কিস্তি পরিশোধের কোনো প্রমাণ দিতে না পারা প্রমাণ করে যে, কোম্পানিটি কার্যত দেউলিয়া বা চরম অদক্ষতার চোরাবালিতে নিমজ্জিত।
শ্রমিকদের হক মেরে খাওয়া এবং আইনি বাধ্যবাধকতাকে বুড়ো আঙুল দেখানো ন্যাশনাল ফিড মিলসের মজ্জাগত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। শ্রমিক মুনাফা তহবিলের ২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বছরের পর বছর আটকে রাখা হয়েছে। এমনকি ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে অবণ্টিত লভ্যাংশ স্থানান্তরের আইনি আদেশ তোয়াক্কা করা হয়নি, উল্টো সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বড় অংকের ঘাটতি পাওয়া গেছে। ৫৫ কোটি টাকার ইনভেন্টরি বা মালামাল গুদামে থাকার দাবি করলেও বাস্তবে তার কোনো অস্তিত্ব বা প্রমাণ দিতে না পেরে ম্যানেজমেন্ট সরাসরি অসহযোগিতা করেছে, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ধরনের রেড অ্যালার্ট।
ইয়াসিন 























