দীর্ঘ মন্দার পর দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেনের গতি কিছুটা বাড়লেও সূচক এখনো স্থিতিশীল হয়নি। তবে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, এই আগ্রহ ধরে রাখতে দ্রুত ভালো কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) আনা জরুরি।
বাজার বিশ্লেষকদের ভাষ্য, শান্তিপূর্ণভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা কিছুটা ফিরছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বাজারে নতুন আইপিও না আসায় তারল্য ও বিনিয়োগের বিকল্প কমে গেছে।
দেশের শেয়ারবাজারে সর্বশেষ আইপিও আসে ২০২৪ সালের জুনে, যখন টেকনো ড্রাগস বাজার থেকে অর্থ উত্তোলন করে। এরপর প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় নতুন কোনো আইপিও আসেনি—যা দেশের শেয়ারবাজারের ইতিহাসে বিরল।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ১৯৭ কোটি ৬২ লাখ টাকার শেয়ার কিনেছেন, বিপরীতে বিক্রি করেছেন ১৭৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা। অর্থাৎ ১৮ কোটি টাকার বেশি নিট বিনিয়োগ হয়েছে।
এর আগে টানা পাঁচ মাস বিদেশিদের বিক্রি কেনার তুলনায় বেশি ছিল। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব কমতে থাকে। ২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর যেখানে তাদের বিও হিসাব ছিল ৫৫ হাজার ৫১২টি, বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৪৩ হাজার ১০৬টিতে—অর্থাৎ কমেছে ১২ হাজার ৪০৬টি।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশিদের অংশগ্রহণ ও আগ্রহ কিছুটা বাড়ছে বলে বাজারসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, “আইপিও হলো শেয়ারবাজারের ‘নিউ ব্লাড’। দীর্ঘদিন নতুন আইপিও না থাকায় বাজারে বিনিয়োগযোগ্য শেয়ারের সংকট তৈরি হয়েছে। ভালো কোম্পানির আইপিও এলে নতুন বিনিয়োগকারী ও নতুন তহবিল বাজারে আসবে।”
ডিএসই’র সাবেক পরিচালক মো. শাকিল রিজভীও মনে করেন, বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে শক্ত আর্থিক ভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির আইপিও অনুমোদন দেওয়া জরুরি।
জাতীয় নির্বাচনের পর টানা ৮ কার্যদিবসে ডিএসইতে ৫০০ কোটির বেশি লেনদেন হয়েছে, এর মধ্যে তিনদিন লেনদেন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। তবে এ সময়ের মধ্যে ৬ কার্যদিবসে দরপতন হয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে স্থায়ী গতি আনতে হলে কেবল লেনদেন বাড়লেই হবে না—নতুন ও মানসম্পন্ন আইপিও আনতে হবে।
অনলাইন ডেস্ক 























