১২:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

শেয়ারবাজার থেকে ২৭০ কোটি টাকার বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত : ০৯:৪৪:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 120

২০২৫ সালে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ আশানুরূপ ছিল না। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা, বাজারের অস্থিরতা এবং ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অনিশ্চয়তায় গত এক বছরে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিট ২৭০ কোটি টাকা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এই সময়ে বিদেশিরা মোট ২ হাজার ৯৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন, বিপরীতে তাদের ক্রয়ের পরিমাণ ছিল ১ হ হাজার ৮২৫ কোটি ০৭ লাখ টাকা।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে গত বছরজুড়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। তবে ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতে শুরু করেছে। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১৫ দিনের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বিদেশি লেনদেন প্রায় ৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় নিযুক্ত একটি ব্রোকারেজ হাউজের শীর্ষ কর্মমকর্তা জানান, নির্বাচনের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরেছে। এখন তারা মৌলভিত্তি সম্পন্ন ভালো শেয়ার কেনার দিকে বেশি মনোযোগী হচ্ছেন, যার ফলে চলতি মাসেই বিদেশি নিট বিনিয়োগ ইতিবাচক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজার যদি সঠিকভাবে চলে এবং মানসম্পন্ন শেয়ারের সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়, তবে বিদেশি তহবিলের প্রবাহ আরও বাড়বে। তারা উল্লেখ করেন, বর্তমানে অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারী ইমার্জিং ও ফ্রন্টিয়ার মার্কেটের দিকে ঝুঁকছেন, যা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সুযোগ হতে পারে। তবে ২০২৪ সালে গঠিত নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি-র সংস্কারমূলক পদক্ষেপ এবং কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে বাজারে কিছুটা অস্থিরতা ছিল, যার প্রভাবে আইপিও-র মাধ্যমে নতুন তহবিল সংগ্রহের গতিও থমকে গিয়েছিল।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

শেয়ারবাজারের পরিসংখ্যান বলছে, গত আট বছরের মধ্যে সাত বছরই বিদেশি নিট বিনিয়োগ ছিল নেতিবাচক। এর মধ্যে ২০২৩ সালে কেবল ৬৪ কোটি টাকার নিট ইতিবাচক অবস্থান দেখা গিয়েছিল। ২০২৫ সালে মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিদেশিরা শেয়ার ক্রয়ে বেশ সক্রিয় থাকলেও, বছরের শেষ মাসগুলোতে তারা বড় অংকের শেয়ার বিক্রি করে মূলধন তুলে নেন।

বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের শেয়ারবাজারে ভালো ও মানসম্পন্ন শেয়ারের প্রচণ্ড অভাব রয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ টানতে এবং বাজারকে গতিশীল করতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন লাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তালিকাভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এ নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও বাস্তবে কোনো সরকারি কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়নি। তাই বাজারকে চাঙ্গা করতে নতুন সরকারকে আরও বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

শেয়ারবাজার থেকে ২৭০ কোটি টাকার বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার

প্রকাশিত : ০৯:৪৪:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

২০২৫ সালে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ আশানুরূপ ছিল না। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা, বাজারের অস্থিরতা এবং ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অনিশ্চয়তায় গত এক বছরে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিট ২৭০ কোটি টাকা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এই সময়ে বিদেশিরা মোট ২ হাজার ৯৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন, বিপরীতে তাদের ক্রয়ের পরিমাণ ছিল ১ হ হাজার ৮২৫ কোটি ০৭ লাখ টাকা।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে গত বছরজুড়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। তবে ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতে শুরু করেছে। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১৫ দিনের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বিদেশি লেনদেন প্রায় ৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় নিযুক্ত একটি ব্রোকারেজ হাউজের শীর্ষ কর্মমকর্তা জানান, নির্বাচনের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরেছে। এখন তারা মৌলভিত্তি সম্পন্ন ভালো শেয়ার কেনার দিকে বেশি মনোযোগী হচ্ছেন, যার ফলে চলতি মাসেই বিদেশি নিট বিনিয়োগ ইতিবাচক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজার যদি সঠিকভাবে চলে এবং মানসম্পন্ন শেয়ারের সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়, তবে বিদেশি তহবিলের প্রবাহ আরও বাড়বে। তারা উল্লেখ করেন, বর্তমানে অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারী ইমার্জিং ও ফ্রন্টিয়ার মার্কেটের দিকে ঝুঁকছেন, যা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সুযোগ হতে পারে। তবে ২০২৪ সালে গঠিত নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি-র সংস্কারমূলক পদক্ষেপ এবং কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে বাজারে কিছুটা অস্থিরতা ছিল, যার প্রভাবে আইপিও-র মাধ্যমে নতুন তহবিল সংগ্রহের গতিও থমকে গিয়েছিল।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

শেয়ারবাজারের পরিসংখ্যান বলছে, গত আট বছরের মধ্যে সাত বছরই বিদেশি নিট বিনিয়োগ ছিল নেতিবাচক। এর মধ্যে ২০২৩ সালে কেবল ৬৪ কোটি টাকার নিট ইতিবাচক অবস্থান দেখা গিয়েছিল। ২০২৫ সালে মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিদেশিরা শেয়ার ক্রয়ে বেশ সক্রিয় থাকলেও, বছরের শেষ মাসগুলোতে তারা বড় অংকের শেয়ার বিক্রি করে মূলধন তুলে নেন।

বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের শেয়ারবাজারে ভালো ও মানসম্পন্ন শেয়ারের প্রচণ্ড অভাব রয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ টানতে এবং বাজারকে গতিশীল করতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন লাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তালিকাভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এ নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও বাস্তবে কোনো সরকারি কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়নি। তাই বাজারকে চাঙ্গা করতে নতুন সরকারকে আরও বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।